West Bengal Election 2026 Results

বাড়বে কলকাতা বন্দরের গুরুত্ব, নয়া জমানায় রাজ্যে বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়নের আশা

বন্দরের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পণ্য পরিবহণের পরিমাণ ছিল ৬৩৯.৫১ লক্ষ টন। গত অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) এক লাফে তা ১০.৮২% বেড়েছে। মোট ৭০৮.৭২ লক্ষ টনের মধ্যে বন্দরের হলদিয়া ডকের মাধ্যমে ৫১৮.৫৫ লক্ষ টন পণ্য পরিবহণ হয়েছে।

ফিরোজ ইসলাম 

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ০৮:৫২
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

একান্ত ভাবে জোয়ার নির্ভর নদী বন্দর হয়েও গত মার্চে শেষ হওয়া অর্থবর্ষে কলকাতা বন্দরের মাধ্যমে নজির ভেঙে ৭০৮.৭২ লক্ষ টন পণ্য ওঠানো-নামানো সম্ভব হয়েছে। নদীর নাব্যতা সমস্যার সঙ্গে যুঝে একাধিক ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নত করে পণ্য পরিবহণ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন কর্তৃপক্ষ। আধিকারিকদের আশা, এ বার রাজ্যে পালাবদলের পরে জমি পাওয়া নিয়ে জট কাটবে। ফলে ত্বরান্বিত হবে বন্দর কেন্দ্রিক উন্নয়ন। যার হাত ধরে গতি পাবে বাংলার শিল্পায়ন।

এর আগে বন্দরের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পণ্য পরিবহণের পরিমাণ ছিল ৬৩৯.৫১ লক্ষ টন। গত অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) এক লাফে তা ১০.৮২% বেড়েছে। মোট ৭০৮.৭২ লক্ষ টনের মধ্যে বন্দরের হলদিয়া ডকের মাধ্যমে ৫১৮.৫৫ লক্ষ টন পণ্য পরিবহণ হয়েছে। আর কলকাতা ডক অর্থাৎ খিদিরপুর এবং নেতাজি সুভাষ ডক মারফত একত্রে তা দাঁড়িয়েছে ১৯০.১৭ লক্ষ টন। কলকাতা ডকেও আগে এত পণ্য ওঠানো-নামানো হয়নি। কলকাতার দু’টি দিয়ে ৭,৩৪,১৭১টি এবং হলদিয়ার ডক দিয়ে ২,২৬,৩৭৮টি কন্টেনার পরিবহণ সম্ভব হয়েছে। তবে এর বাইরে হলদিয়া বন্দরের মাধ্যমে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, রাসায়নিক এবং কয়লা ছাড়াও আরও নানা রকম পণ্য আনা-নেওয়ার কাজ হয়।

বন্দর সূত্রের দাবি, কার্যকারিতা বাড়াতে বিভিন্ন বার্থে সম্পূর্ণ যন্ত্র নির্ভর পণ্য ওঠানো-নামানোর ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বন্দরের সঙ্গে বহুমুখী যোগাযোগের ক্ষেত্র ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরিবহণে গতি আনতে নথি যাচাই এবং তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। লক্ষ্য, জাহাজ ঢোকার এবং বেরনোর সময়ের ফারাক কমানো। পাশাপাশি, রাতের জোয়ার কাজে লাগাতে নদীপথে মোহনা থেকে রাতে জাহাজ আনার প্রক্রিয়াও পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করেছে কলকাতা বন্দর। তা সফল হলে জাহাজ আসার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। কমবে পণ্য খালাস করে ফিরে যাওয়ার সময়। কলকাতার যানজট এড়িয়ে ভারী পণ্য সড়কপথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিতে হুগলির বলাগড়ে দু’টি জেটি এবং একটি উড়ালপুল নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত জানুয়ারিতে যার শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শালুকখালিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাসমান টার্মিনাল তৈরির প্রকল্পের শিলান্যাসও হয় সে দিন। কলকাতা তথা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পগুলি রূপায়িত হলে বন্দরের পণ্য পরিবহণ ক্ষমতা ৫০ লক্ষ টন পর্যন্ত বাড়তে পারে। বন্দরের আর্থিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির পাশাপাশি খুলে যাবে বন্দর নির্ভর শিল্পায়নের দরজা।

বস্তুত, এই লক্ষ্যেই বন্দর কর্তৃপক্ষের জমিতে জাহাজ নির্মাণ কারখানা গড়ার চুক্তি হয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এই নির্মাণে আগ্রহী। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, রাজ্যে বিজেপি সরকারের হাত ধরে শুরু হচ্ছে নয়া জমানা। এ বার কেন্দ্র-রাজ্য সহযোগিতায় অন্তর্দেশীয় নদীপথে যোগাযোগ বাড়তে পারে। পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত করে ঘুরে দাঁড়াবে কলকাতা বন্দর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন