—প্রতীকী চিত্র।
পছন্দের পোশাক থেকে সাধের স্মার্টফোন। ক্রেডিট কার্ডে জিনিস কিনলেই পুরস্কার হিসাবে কিছু পয়েন্ট (পড়ুন রিওয়ার্ড পয়েন্ট) পেয়ে থাকেন গ্রাহক। কখনও কখনও মেলে ক্যাশব্যাক। এককথায় এটি ব্যবহারে আর্থিক সাশ্রয়ের সুযোগ নেহাত কম নয়। কিন্তু, এর জন্য কি দিতে হয় কোনও আয়কর? কী বলছে দেশের আইন? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে নতুন আয়কর আইন কার্যকর করেছে কেন্দ্র। নয়া নিয়মে ক্রেডিট কার্ডের অধিকাংশ সুযোগ সুবিধাকেই করযোগ্য আয়ের আওতার বাইরে রেখেছে অর্থ মন্ত্রক। এ ক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি হল, ক্রেডিট কার্ডের পুরস্কার পয়েন্ট থেকে সরাসরি কোনও রোজগার করতে পারেন না গ্রাহক। উল্টে সেগুলি তাঁর ব্যয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর তাই রিওয়ার্ড পয়েন্টকে ছাড় বা ডিসকাউন্ট হিসাবে গণ্য করে আসছে আয়কর দফতর।
যদিও ক্রেডিট কার্ডের পুরস্কার পয়েন্টের একটা সমস্যা রয়েছে। নতুন আইনে এগুলিকে সুস্পষ্ট ভাবে সংজ্ঞায়িত করেনি কেন্দ্র। আর তাই বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে রিওয়ার্ড পয়েন্টের জন্য গ্রাহকের ঘাড়ে চাপতে পারে কর। তাঁদের কথায়, ক্রেডিট কার্ডের পুরস্কার পয়েন্ট বা ক্যাশব্যাক ব্যবহারকারীর কেনাকাটার খরচের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলে আয়কর দিতে হবে তাঁকে।
এ ছাড়া রিওয়ার্ড পয়েন্ট কোনও কারণে নগদ বা নগদের সমতুল্য কোনও বস্তুতে বদলে গেলে এবং ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত লেনদেনের জেরে এর থেকে রোজগার হলে আয়করের আওতায় পড়বেন গ্রাহক। কিছু ক্ষেত্রে পুরস্কারকে ‘উপহার’ হিসাবে গণ্য করে থাকে ক্রেডিট কার্ড সংস্থা। এর অঙ্ক ৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি হলে অবশ্যই তা করযোগ্য আয় হিসাবে গণ্য হবে।
অনেকে বিলাসবহুল হোটেলের বিল বা বিজ়নেস ক্লাসে ভ্রমণের ভাড়া ক্রেডিট কার্ডে মিটিয়ে থাকেন। এর বিনিময়ে পুরস্কার পয়েন্ট পেলে কর বাবদ গ্রাহককে দিতে হবে না কোনও টাকা। কারণ, এ ক্ষেত্রে নিজের পকেটের অর্থ খরচ করে রিওয়ার্ড পয়েন্ট পেয়েছেন ওই ব্যক্তি। তবে পুরস্কারমূল্য তাঁর ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে অবশ্যই তা খতিয়ে দেখবে আয়কর দফতর।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে বার্ষিক রোজগারের খতিয়ান সরকারকে জানিয়ে থাকে এ দেশের আমজনতা। সেখানে অবশ্য ক্রেডিট কার্ডের পুরস্কার পয়েন্ট উল্লেখ করার কোনও ব্যবস্থা নেই।