—প্রতীকী চিত্র।
গত বাজেটে আয়কর কমিয়ে বাজারে চাহিদা বাড়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। গত সেপ্টেম্বরে পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ করে দিয়েছিলেন জিএসটি-র স্তর ও ৩৭৫টি পণ্যে কর কমিয়ে। আর রবিবার পরের অর্থবর্ষের বাজেট ঘোষণায় আমদানি শুল্ক সংস্কারের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পণ্য আনার পথ সহজ-সরল এবং সাশ্রয়ী করার পথে হাঁটলেন তিনি। সে জন্য জোর দিলেন আমদানি-রফতানিকারীদের পুঁজির রাস্তা খোলা, নথি জমার ঝামেলা কমানো, কাজের পদ্ধতি মসৃণ করা ও পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রফতানি বাড়ানোয়। সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, এত দিন চাহিদা বৃদ্ধি লক্ষ্য ছিল। এ বার জোগানে জোর দেওয়া হচ্ছে। নির্মলার দাবি, দীর্ঘ মেয়াদে উন্নয়নের পথ খুঁজতে চেয়েছেন তিনি।
আমেরিকার ৫০% শুল্কের জেরে ইতিমধ্যেই বিপাকে রফতানিকারীরা। তাঁদের মতে, নির্মলার সিদ্ধান্ত রফতানির জন্য আমদানি করার পণ্যের খরচও কমাবে। যা বিশ্ব বাজারের প্রতিযোগিতায় ফিরতে সাহায্য করবে। দেশেও বাড়াবে উৎপাদন।
এ দিন বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত মূলধনী ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে আমদানি শুল্ক ছেঁটেছেন নির্মলা। রফতানির জন্য সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত পণ্যের শুল্কহীন আমদানির সীমা বেড়েছে। একই সুবিধা পেতে চলেছে চামড়া এবং সিন্থেটিক জুতোও। ওই সব পণ্য তৈরির পরে রফতানির সময়সীমাও ছ’মাস থেকে বেড়ে হচ্ছে এক বছর। পাশাপাশি, কমানো হয়েছে ক্যানসার-সহ বিভিন্ন বিরল রোগের ওষুধের আমদানি শুল্ক। বাড়ছে বিমানে করে বিদেশ থেকে পণ্য আনা এবং তা নিয়ে যাওয়ায় ছাড়। গাড়ি, মদ ও তামাক বাদে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য পণ্য আমদানি করলে তাতে শুল্ক কমে ১০%। শুল্কে ছাড় মিলবে অসামরিক বিমান তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ, বিমান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তার যন্ত্রাংশ তৈরির কাঁচামালেও।
এর সঙ্গে আমদানি-রফতানি পণ্য দেশে আসা-যাওয়ায় ছাড় দিতে আসছে ‘এক জানলা ব্যবস্থা’। সরল হচ্ছে দীর্ঘ দিন আমদানিতে যুক্ত সংস্থাগুলির যাচাই প্রক্রিয়া ও নথিভুক্ত আর্থিক লেনদেনকারীদের শুল্ক দেওয়ার পদ্ধতি। কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে বন্দরগুলিতে পণ্য যাচাইয়ের (স্ক্যান) ব্যবস্থাও আনছে কেন্দ্র। আমদানি সংক্রান্ত সমস্ত কাজ আসবে একটি সম্মিলিত ব্যবস্থার অধীনে। সেই সঙ্গে ঢেলে সাজবে গুদামের কাঠামো।
ভারতের জিডিপি এবং রফতানির প্রায় অর্ধেক জুড়ে পরিষেবা ক্ষেত্র। তাই পরিষেবা রফতানি বাড়াতে এবং এই ক্ষেত্রে কাজ তৈরির পথ খুঁজতে কমিটি গড়ার কথা ঘোষণা করেছেন নির্মলা। ২০৪৭-এ বিশ্বের পরিষেবা ক্ষেত্রে ভারতের ভাগ ১০ শতাংশে তোলার লক্ষ্য বেঁধেছেন। জোর দিয়েছেন কৃত্রিম মেধা-র মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার উপরেও।
রফতানি শিল্পের মতে, এই সব সিদ্ধান্তই বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। শুল্ক কমায় এ দেশে পণ্য তৈরির জন্য বিদেশ থেকে কাঁচামাল কিনতে সুবিধা হবে সংস্থাগুলির। আমেরিকার শুল্কে ধাক্কা খাওয়া বস্ত্র শিল্পকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করবে প্রাকৃতিক সুতো আমদানিতে আনা প্রকল্প। সুরাহা হবে দু’বছর রফতানিকারীরা ট্যাগ, লেবেল, স্টিকার, বেল্টের মতো পণ্য আমদানি করলে মূল শুল্কে ছাড়ের সুবিধাতেও।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে