— প্রতীকী চিত্র।
ইরানে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল হামলা চালানোর পরে পশ্চিম এশিয়ায় যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা প্রায় দু’মাসে গড়াল। এখন যুদ্ধবিরতি চললেও এই সংঘর্ষের পরিণতি কী হবে তা কারও জানা নেই। মাত্র দু’মাসে বিশ্ব অর্থনীতির যা ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে, তা চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরেও হয়নি। এর একটি বড় কারণ হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকা। এই জলপথ দিয়ে পশ্চিম এশিয়া থেকে বিশ্বের ২০% জ্বালানি তেল এবং গ্যাস পৌঁছয় বিভিন্ন দেশে। প্রথমে আমেরিকার চড়া শুল্ক এবং তার পরে যুদ্ধ— এই দুই কারণে ভারতীয় অর্থনীতিতেও নানা সমস্যা দানা বাঁধছে। তা আরও প্রকট হবে পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত শান্তি না ফিরলে। এ ছাড়া, চাপা আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিকূল প্রভাব নিয়েও।
এই সব কিছুর ধাক্কা লেগেছে লগ্নির দুনিয়ায়। অনেকটা পড়ে যাওয়া শেয়ার বাজারে বহাল অস্থিরতা। কোনও দিশা মিলছে না। সূচক মাঝেমধ্যে মাথা তুললেও তেল বা ডলারের দাম চড়লেই ফের হুড়মুড়িয়ে নামছে। আশঙ্কা, মে মাসে দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে নাগাড়ে শেয়ার বিক্রি করছে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলি। ফলে আরও বেশি শক্তি ক্ষয় হচ্ছে বাজারের। ধন্দে লগ্নিকারীরা। বিশেষত যাঁরা ব্যাঙ্ক-ডাকঘরের বাইরে কিছু তহবিল ঢালতে চান। বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে কোনটা লগ্নির সঠিক সময়। যাঁরা স্থির এবং নিশ্চিত আয় প্রকল্পে লগ্নির পক্ষপাতী, তাঁদের সমস্যা কম।
গত এক বছরে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো রেট (যে সুদে তারা ব্যাঙ্কগুলিকে ধার দেয়) মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৫.২৫ শতাংশে নামিয়েছে। ফলে ঋণের সঙ্গে ব্যাঙ্ক জমাতেও বিভিন্ন মেয়াদে সুদ কমেছে ৮০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত। সুদ কমিয়েছে ব্যাঙ্ক নয় এমন আর্থিক সংস্থাগুলিও (এনবিএফসি)। শুধু স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে হাত পড়েনি। যে কারণে এখনও ব্যাঙ্কের তুলনায় সুদ বেশি সেখানে। সুদ কমেনি ভারত সরকারের পরিবর্তনশীল সুদযুক্ত বন্ডেও, যা বাজারে আরবিআই বন্ড নামে পরিচিত। এ বার দেখে নেওয়া যাক বর্তমান পরিস্থিতিতে কে কোথায় টাকা রাখতে পারেন।
যাঁদের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং ঝুঁকি পছন্দ করেন না, তাঁরা ৫ বছর মেয়াদে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রাখতে পারেন সিনিয়র সিটিজ়েন্স সেভিংস স্কিমে (সুদ ৮.২%), ১৮ লক্ষ পর্যন্ত যুগ্ম নামে ডাকঘর মাসিক আয় প্রকল্পে (৭.৪%) এবং আরবিআই বন্ডে (বর্তমানে ৮.০৫%)। এখানে লগ্নির কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই। কিছু টাকা নিশ্চয়ই ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজ়িটে (৭%) থাকবে। অল্প ঝুঁকিতে আপত্তি না থাকলে মাসিক আয়ের জন্যে নিয়মিত তুলে নেওয়ার (এসডব্লিউপি) শর্তে এককালীন থোক টাকা রাখা যায় ভাল হাইব্রিড মিউচুয়াল ফান্ডে। এই ফান্ডের তহবিল শেয়ার এবং ঋণপত্র, দু’টিতেই খাটানো হয়।
পেনশনের সুবিধা না থাকলে অনেকে ৪০ বছর বয়স বা তার আগে থেকে অবসরের জন্যে টাকা জমাতে শুরু করেন। তাঁরা বছরে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রাখতে পারেন ১৫ বছর মেয়াদি পিপিএফে (সুদ করমুক্ত ৭.১%)। খোলা যায় এনপিএস অ্যাকাউন্ট। সাধ্যমত জমানো সম্ভব এর শেয়ার ভিত্তিক বিকল্পে। লগ্নি করা যেতে পারে ফান্ডে এসআইপি মারফতও।
নতুন চাকরিতে ঢুকলে সামনে লম্বা ইনিংস। অল্প করে হলেও সঠিক প্রকল্পে নিয়মিত লগ্নি সুদে-মূলে বিরাট তহবিল গড়ে দেবে। কাজ করবে ক্রমপুঞ্জিত আয়ের (কম্পাউন্ডিং ইন্টারেস্ট) ম্যাজিক। ওই টাকা বাড়ি-গাড়ি কেনা এবং অন্যান্য সম্পদ সৃষ্টির কাজে লাগতে পারে। এঁরা ১৫ থেকে ২০ বছর নিয়মিত টাকা জমাতে পারেন পিপিএফ, এক বা একাধিক সুবিন্যস্ত শেয়ার ভিত্তিক ফান্ড অথবা মাল্টি অ্যাসেট অ্যালোকেশন ফান্ডে। লগ্নি শুরু করতে পারেন এনপিএসেও।
যাঁদের আয় ১২ লক্ষ টাকার কম অর্থাৎ কর দেন না, তাঁদের জন্য ভাল আরবিআই বন্ড (৮.০৫), এনএসসি (৭.৭%), ৫ বছরের মেয়াদি জমা (৭.৫%)। অল্প ঝুঁকি নিলে বড় মেয়াদে ভাল ফান্ডে থোক লগ্নি বা এসআইপি করা যায়। রয়েছে এনপিএস-ও।
যাঁদের উঁচু হারে কর দিতে হয়, ভাল আয় এবং কর বাঁচাতে তাঁদের ঝুঁকতে হবে ভাল ফান্ড এবং শেয়ারে। নিচু বাজারে থোক টাকা এবং লম্বা মেয়াদে এসআইপি-র পথে। ঝুঁকি কম চাইলে হাইব্রিড ফান্ডে (৬৫% শেয়ার+৩৫% ঋণপত্র)। পড়তি বাজারে বড় মেয়াদে ভাল শেয়ার কিনে রাখা যায়।
(মতামত ব্যক্তিগত)
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে