— প্রতীকী চিত্র।
যেমন ভাবা হয়েছিল, ঠিক তেমনই হয়েছে। এ বারও কোনও স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পের সুদে হাত দেয়নি কেন্দ্র। অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর, এই তিন মাস মাসিক আয় প্রকল্প, এনএসসি, পিপিএফ, সিনিয়র সিটিজ়েন্স সেভিংস স্কিম ইত্যাদি প্রকল্পে সুদ পাওয়া যাবে একই হারে। সুদের হারে হেরফের হবে না ভারত সরকারের পরিবর্তনশীল সুদযুক্ত বন্ডের ক্ষেত্রেও। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে সুদ নির্ভর সাধারণ মানুষ।
গত মঙ্গলবার শেষ হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম তিন মাস। প্রকাশ হতে শুরু করেছে জুনের নানা পরিসংখ্যান। জুনে জিএসটি আদায় ১৪% বেড়ে পৌঁছেছে ১.৯৫ লক্ষ কোটি টাকায়। যাত্রী গাড়ি বিক্রি প্রায় ২৫% বেড়ে ছুঁয়েছে ৪ লক্ষ। তবে গত মাসে কারখানায় উৎপাদন কিছুটা কমেছে। উৎপাদন শিল্পের পিএমআই সূচক মে মাসের ৫৫ থেকে কমে জুনে হয়েছে ৫৪.২। বেশ খানিকটা কমে পরিষেবা সূচক হয়েছে ৫৭.৪। যা ১৭ মাসের মধ্যে সবথেকে কম। এই দুই পরিসংখ্যান অর্থ মন্ত্রককেচিন্তায় রাখবে।
তবে সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে বর্ষার ঘাটতি। এ বার বর্ষা দেরিতে ঢুকেছে। জুনে দেশে বৃষ্টির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৮%। ভারতের ৭৯% অঞ্চল ঘাটতি বা অতি ঘাটতির কবলে পড়েছে। কিছু অঞ্চলে খরার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবার কোথাও মেঘ ভাঙা বৃষ্টি বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অর্থনীতির জন্য দু’টোই খারাপ। এ বার এল নিনিয়োর প্রভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ-সহ বহু অঞ্চলেই তাপমাত্রা অত্যাধিক বেড়েছে। বহু জায়গায় শুরু হয়েছে দাবানল। এ সবের বড় প্রভাব পড়বে কৃষিতে। ফলন কমতে পারে বেশ খানিকটা। যা খাদ্যপণ্যের দাম অনেকটাই বাড়াতে পারে।
ইরান-আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ থামায় ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরছে শেয়ার বাজারে। গত সপ্তাহের প্রথম দু’দিনে সেনসেক্স ৬২২ নামলেও পরের তিন দিনে উঠেছে ১২৮৪ পয়েন্ট। পাশাপাশি, বাড়ছে শেয়ার ভিত্তিক (একুইটি) ফান্ডের ন্যাভও। চলতি সপ্তাহে শুরু হবে প্রথম ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফল প্রকাশ। আগামী কয়েক সপ্তাহ যা বাজারকে চালনা করবে। বৃহস্পতিবার জানা যাবে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএসের ফল। সম্প্রতি এই শিল্পের বহু সংস্থার শেয়ারে ধস নামায় সবাই তাকিয়ে এর দিকে। বিশেষত ভবিষ্যতে টিসিএস কেমন করবে, তার পূর্বাভাস জানায় অপেক্ষায় লগ্নিকারীরা।
হরমুজ় প্রণালী খোলায় অশোধিত তেল মাথা নামলেও ডলার কিন্তু ৯৫ টাকার উপরেই বসে আছে। বিদেশী লগ্নিকারীরা ভারতীয় বন্ডে টাকা ঢাললেও শেয়ারে এখনও তেমন ভাবে ফেরেনি। তারা ফিরতে শুরু করলে এক দিকে বাজার শক্তি পাবে। অন্য দিকে টাকার দাম বেড়ে ডলার মাথা নামাবে। তেল ও গ্যাস আমদানির খরচ কমায় সরকার বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম কিছুটা কমিয়েছে ঠিকই। তবে স্পষ্ট জানিয়েছে পেট্রল এবং ডিজ়েলের দাম এখনই কমছে না। ফলে সাধারণ মানুষের সেই অর্থে জ্বালানিতে কোনও সুরাহা হচ্ছে না।
(মতামত ব্যক্তিগত)
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে