Debt

বাড়তে বাড়তে জিডিপির ৪৫.৫ শতাংশ! কেনাকাটার জন্য ঋণের পরিমাণ বাড়াচ্ছে আমজনতা, বলছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের রিপোর্ট

আরবিআই-এর রিপোর্ট বলছে, সাধারণত জিনিসপত্র কেনা, কার্যকরী ক্ষেত্রে নেওয়া ঋণ এবং সম্পদ তৈরির জন্য ধার করেন মানুষ। দেখা যাচ্ছে, মোট ঋণের মধ্যে প্রথমটির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সম্পদ তৈরির জন্য ঋণ নেওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে কম।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৬:৩০
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

গাড়ি, বাড়ি তো ছিলই। সংসার চালানো থেকে শুরু করে টিভি,মোবাইলের মতো ভোগ্যপণ্য কেনার জন্যও সাধারণ মানুষের ধার নেওয়ার ঝোঁক যে বাড়ছে, সে ব্যাপারে করোনাকাল থেকেই সতর্ক করে আসছে বিভিন্ন মহল।মঙ্গলবার রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের আর্থিক স্থিতিশীলতা রিপোর্ট জানাল, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতেপারিবারিক ঋণের পরিমাণ ছুঁয়েছে জিডিপি-র ৪৫.৫%। গৃহঋণ বাদে অন্যান্য খুচরো ঋণের চাহিদার মাথা তোলাই এর কারণ। সব মিলিয়ে গত মার্চে মোট ঋণে তার অংশীদারি পৌঁছেছে ৫৮.৪ শতাংশে। তা ছাড়িয়ে গিয়েছে গৃহঋণ, কৃষিঋণ এবং ব্যবসায়িক ঋণকেও।

আরবিআই-এর রিপোর্ট বলছে, সাধারণত জিনিসপত্র কেনা, কার্যকরী ক্ষেত্রে নেওয়া ঋণ এবং সম্পদ তৈরির জন্য ধার করেন মানুষ। দেখা যাচ্ছে, মোট ঋণের মধ্যে প্রথমটির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সম্পদ তৈরির জন্য ঋণ নেওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে কম। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এতে স্পষ্ট মানুষের হাতে টাকা কমছে। সব মিলিয়ে এই প্রবণতা ভয়ানক।

আরবিআইয়ের হিসাব, ২০২৩-এর সেপ্টেম্বর থেকে টানা গৃহস্থের ঋণ রয়েছে গত পাঁচ বছরের ৪২.৯% গড়ের চেয়ে বেশি। তার উপরে আগে যেখানে ২৫ লক্ষ টাকার কম বকেয়া ঋণ বেশি দেখা যেত (২০১৪-র মার্চের হিসাবে মোট ঋণের ৬০.৬%), সেটাই এখন ৫০ লক্ষের বেশি ঋণের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে (৪৪.৭%)। পাশাপাশি, ব্যাঙ্ক নয় এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি নিয়েও সতর্ক করেছে তারা।

এ দিকে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভারতের মতো দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও প্রাণ সঞ্চার করতে পারে বলে মনে করে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। রিপোর্টে তাদের বক্তব্য, সমস্ত আর্থিক পরিসংখ্যান দেশের অর্থনীতির এগিয়ে যাওয়ার দিকে ইঙ্গিত করছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাও পাকাপোক্ত। তবে তেল-সহ বিভিন্ন পণ্যের চড়া দর এবং বিশ্ব অর্থনীতির দুর্বলতা চলতি অর্থবর্ষে ভারতের বৃদ্ধির হারে ধাক্কা দিতে পারে।

পাশাপাশি, দেশে বৃষ্টিপাত ঠিক মতো না হওয়া, এল নিনিয়োর প্রভাব এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোপুরি না থামায় চিন্তা থাকছে বলে জানিয়েছে এ দিন প্রকাশিত অর্থ মন্ত্রকের মে মাসের রিপোর্ট। যা বলছে, ই-ওয়ে বিল বেশি তৈরি হওয়া, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া এবং গাড়ি বিক্রি গতি প্রমাণ করে আর্থিক কর্মকাণ্ড ভালমতো এগোচ্ছে। তবে শিল্পবৃদ্ধির ঢিমে ভাব, তেলের চাহিদা ধাক্কা খাওয়া, উড়ান যাত্রী কমা, দেশে ক্রেতার আস্থা মাথা নামানো এবং কাজের বাজারের গতি ধাক্কা খাওয়া চিন্তায় রাখছে অর্থনীতিকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন