—প্রতীকী ছবি।
‘বিমা লোকপালের’ নামে জালিয়াতি! সঞ্চিত পুঁজি ফেরত দেওয়ার নামে উল্টে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের থেকে সরকারের ঘরে এই ধরনের অভিযোগ জমা পড়েছে ভুরি ভুরি। এর ফলে এ বার আমজনতাকে সতর্ক করতে উদ্যোগী হল প্রশাসন। ‘বিমা লোকপাল’ কোনও ভাবেই লগ্নিকারীর পুরনো বিনিয়োগ জানতে পারে না বলে স্পষ্ট করেছে তারা।
কী ভাবে হচ্ছে এই প্রতারণা? একটি উদাহরণের সাহায্যে বুঝে নেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক, কোনও ব্যক্তি জীবন বিমায় লগ্নি করেছেন যার প্রিমিয়াম বাবদ ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু, নির্ধারিত সময় পর সংশ্লিষ্ট বিমাটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে, কোনও কারণে সুদেমূলে বিনিয়োগের টাকা তুললেন না তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ধরনের ক্ষেত্রেই ‘বিমা লোকপালের’ নাম করে গ্রাহকের থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে জালিয়াতেরা।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সুযোগের জন্য ওঁত পেতে থাকা প্রতারকেরা সাধারণত গ্রাহককে ফোন করে থাকে। কথার জালে ফাঁসিয়ে দাবি না করা বিমার টাকা সরকার ফেরত দিচ্ছে বলে জানিয়ে দেয় তাঁরা। শুধু তা-ই নয়, লোভ দেখাতে একসঙ্গে সুদেমূলে পাঁচ বা সাত লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে বলে জালিয়াতদের থেকে মেলে প্রতিশ্রুতি। বিনিয়োগকারীর সন্দেহ দূর হয়েছে বুঝতে পারলেই আসল চাল দিতে থাকে তারা।
পুলিশের দাবি, এর পরই টাকা ফেরত পেতে গ্রাহককে নতুন একটি পলিসি কিনতে বলা হয়। এ ব্যাপারে তাঁকে রাজি করাতে ‘বিমা লোকপালের’ একগুচ্ছ ভুয়ো নিয়মের কথা বলে প্রতারকের দল। বিনিয়োগকারী তাতে ‘হ্যাঁ’ বললেই অনলাইনে টাকা পাঠাতে বলে জালিয়াতেরা। একবার সেখানে টাকা পৌঁছে গেলে যোগযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে গায়েব হয়ে যায় তারা।
এ ছাড়া আর্থিক প্রতারণার আরও একটি পদ্ধতি আছে। সেটা হল দাবিহীন টাকা ফেরত দেওয়ার নামে গ্রাহকের ব্যাঙ্কের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া। তার পর হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুরো অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে চম্পট দেয় তারা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের সাইবার অপরাধীদের দল ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ।
বিমা সংস্থাগুলি এবং প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘বিমা লোকপালের’ পক্ষে কখনওই কোনও গ্রাহকের বিনিয়োগ বা সুদেমূলে কত টাকা তিনি ফেরত পাবেন, তা জানা সম্ভব নয়। দাবিহীন টাকা ফেরত নিয়ে এই ধরনের কোনও টেলিফোনের পরিষেবা দেয় না তারা। তাই এই ধরনের ক্ষেত্রে গ্রাহককে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইটে ঢুকে গোটা বিষয়টি পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে তিনি বিমা আধিকারিক বা এজেন্টদের সাহায্য নিতে পারেন।