নোট বাতিলের আবহে স্পেনসার্স বা বিগ বাজারের পথে হাঁটতে পারে ক্ষুদ্র-ঋণ সংস্থাগুলিও।
দেশের খুচরো বিক্রেতা সংস্থাগুলি বরাবর যন্ত্রে (পয়েন্ট অব সেলস বা পিওএস) ডেবিট কার্ড ঘষে ক্রেতার কাছ থেকে দাম নেয়। যা নগদের এই বেহাল অবস্থায় কয়েক গুণ বেড়েছে। এ বার ঠিক সে ভাবেই গাঁ-গঞ্জে ঋণের কিস্তি আদায়ের ছক কষছে ক্ষুদ্র-ঋণ প্রদানকারীরা। গ্রামে গ্রামে সংস্থাগুলির বয়ে নিয়ে যাওয়া যন্ত্রে কার্ডটি সোয়াইপ (ঘষে) করলেই ঋণগ্রহীতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কিস্তির টাকা সরাসরি কেটে নেওয়া যাবে।
গ্রামে ঋণ দেওয়া বা ঋণের কিস্তি মেটানো, সবই সাধারণত নগদে হয়। শুধুমাত্র ঋণ বড় অঙ্কের হলে, তা সরাসরি ঋণগ্রহীতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকে। কিন্তু সম্প্রতি বড় নোট বাতিলের পরে নগদের টানাটানিতে সমস্যায় এই ব্যবসাও। আর সমস্যার এই মাটিতেই নতুন সম্ভাবনার বীজ বপন করতে চাইছে ক্ষুদ্র-ঋণ সংস্থাগুলি। উঠে আসছে নগদের বদলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ভাবনা। অ্যাসোসিয়েশন অব মাইক্রো ফিনান্স ইনস্টিটিউশন্স (অ্যামফি)-ওয়েস্ট বেঙ্গল আয়োজিত সভাতেও যে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
অ্যামফি-ওয়েস্ট বেঙ্গলের পরিচালন পর্ষদের অন্যতম সদস্য তথা ভিলেজ ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের এমডি কুলদীপ মাইতি ও উত্তরায়ন ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের এমডি কার্তিক বিশ্বাসের মতে, নোট বাতিলের আবহে নগদের উপর অত্যধিক নির্ভরতাই এই মুহূর্তে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁদের ব্যবসার সামনে। যে-কারণে কার্তিকবাবু বলছেন, ‘‘আগামী দিনে বিকল্প হিসেবে গ্রামে গিয়ে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য আমাদের এজেন্টদের পিওএস যন্ত্র দেওয়ার কথা ভাবছি। ঋণগ্রহীতারা ওই যন্ত্রে তাঁদের অ্যাকাউন্টের ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে সরাসরি কিস্তি মেটাবেন। নগদের প্রয়োজনই হবে না।’’ ব্যাঙ্কগুলির ব্যস্ততা কমলে পুরোদস্তুর আলোচনায় বসবেন তাঁরা।
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দিচ্ছেন কুলদীপবাবুও। তিনি বলেন, ‘‘ন্যূনতম নগদ লেনদেন হলে খরচ কমবে। যার সুফল পাবেন ঋণগ্রহীতা।’’ আর ক্ষুদ্র-ঋণ সংস্থা থেকে পুরোদস্তুর ব্যাঙ্কে পরিণত হওয়া বন্ধনের এমডি চন্দ্রশেখর ঘোষের বক্তব্য, প্রযুক্তি ব্যবহারের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছে সমস্যার জায়গাটা।