Gold Monetisation Scheme

সোনার গয়না ‘জমা’ রাখলেই সুদ দেবে ব্যাঙ্ক! স্বর্ণালঙ্কারে লক্ষ্মীলাভের নয়া প্রকল্প ঘোষণার পথে মোদী সরকার

সোনার গয়না নিয়ে নতুন একটি প্রকল্প আনতে পারে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। তাতে হলুদ ধাতুর অলঙ্কার জন্য সুদ দেবে সরকারি বা বেসরকারি ব্যাঙ্ক। কী সেই গোল্ড মানিটাইজ়েশন স্কিম?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১৮:৫৯
Share:

ছবি: সংগৃহীত।

বাড়িতে সোনার গয়না থাকলেই কেল্লা ফতে। অলঙ্কারের জন্য মাসে মাসে মিলবে চড়া সুদ! দেশবাসীর পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করতে এ-হেন নতুন ব্যবস্থা চালু করতে পারে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। এর পোশাকি নাম ‘স্বর্ণ নগদীকরণ প্রকল্প’ (গোল্ড মানিটাইজ়েশন স্কিম বা জিএমএস)। চলতি বছরের জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে যা শুরু হতে পারে বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর।

Advertisement

কী এই স্বর্ণ নগদীকরণ প্রকল্প? আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, এর মাধ্যমে স্বর্ণালঙ্কার লগ্নি করে নগদ অর্থ হাতে পাবেন গ্রাহক। তার জন্য সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত কালেকশান অ্যান্ড পিয়োরিটি টেস্টিং সেন্টারে (সিপিটিসি) জমা করতে হবে হলুদ ধাতুর গয়না। এর পর আমানতকারী অনুমোদন দিলে সেই স্বর্ণালঙ্কার গলিয়ে ফেলবে তারা।

গয়না গলানোর মাধ্যমে ৯৯৫ বিশুদ্ধতার মানসম্মত সোনা বার করে আনবে সিপিটিসি। সেটা সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্কের গোল্ড ডিপোজ়িট অ্যাকাউন্টে সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য জমা করতে পারবেন আমানতকারী। খাঁটি হলুদ ধাতু লগ্নির বিনিময়ে মাসে মাসে বা বছরে সুদ পাবেন তিনি। তা ছাড়া মেয়াদপূর্তিতে বাজারমূল্যের ভিত্তিতে সমপরিমাণ সোনা বা টাকা তুলে নেওয়ার মিলবে সুযোগ।

Advertisement

২০১৫ সালে প্রথম বার স্বর্ণ নগদীকরণ প্রকল্প চালু করে কেন্দ্র। ওই সময় এর অংশ হতে পরিবার বা প্রতিষ্ঠানকে ন্যূনতম ১০ গ্রাম বিশুদ্ধ সোনা জমা করার কথা বলে সরকার। তবে ছিল না কোনও ঊর্ধ্বসীমা। পরে অবশ্য দীর্ঘ এবং মধ্য মেয়াদে বন্ধ হয়ে যায় স্বর্ণালঙ্কার আমানতের সুবিধা। বর্তমানে কেবলমাত্র স্বল্প মেয়াদে ব্যাঙ্কে সোনা আমানত করে সুদে পাওয়া সুবিধা চালু রয়েছে।

সেই ব্যবস্থারই এ বার আমূল বদল ঘটাতে চাইছে মোদী সরকার। সূত্রের খবর, সেই কারণেই সম্প্রতি ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রের এক বর্ষীয়ান মন্ত্রী। সেখানে হাজির ছিল বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক এবং স্বর্ণশিল্পের প্রতিনিধিরা। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তুঙ্গে ওঠে জল্পনা।

প্রস্তাবিত মডেল অনুযায়ী, গয়না ব্যবসায়ীদের কাছে স্বর্ণালঙ্কার জমা করা যাবে। তাঁরাই সেগুলিকে প্রথমে শোধনাগার এবং পরে ব্যাঙ্কে পাঠাবেন। গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার দিকে নজর দিচ্ছে সরকার। এতে এক দিকে যেমন কমানো যাবে হলুদ ধাতুর আমদানি, অপর দিকে তেমনই অলঙ্কারশিল্পও চাঙ্গা হবে বলে আশাবাদী পর্যবেক্ষক মহল।

এ দেশের বাসিন্দাদের কাছে মোট কত স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। তবে সব মিলিয়ে হলুদ ধাতুর পরিমাণ ৩০ হাজার টন ছাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতীয়দের গয়না বিক্রি বা লগ্নির ক্ষেত্রে একটা অনীহা রয়েছে। তাই গত ১১ বছরে জিএমএস থেকে মাত্র ৩৯ টন সোনা সংগ্রহ করতে সফল হয়েছে প্রশাসন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement