অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। —ফাইল চিত্র।
গ্রাহককে ভুল বুঝিয়ে বিমা-সহ বিভিন্ন প্রকল্প বিক্রি করা নিয়ে ব্যাঙ্কিং শিল্পকে সতর্ক করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সোমবার রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের কেন্দ্রীয় পর্ষদের সঙ্গে বাজেট পরবর্তী বৈঠকে তাঁর বার্তা, ব্যাঙ্কগুলির উচিত তাদের মূল ব্যবসায় জোর দেওয়া। কিন্তু যখন প্রয়োজন নেই, তখনও তারা বিমার মতো প্রকল্প বিক্রিতে জোর দিতে থাকে। ব্যাঙ্ক ভাবে বিমার নিয়ন্ত্রণ আইআরডিএআই-এ হাতে। আবার বিমা নিয়ন্ত্রক মনে করে ব্যাঙ্কগুলিতে নজরদারি চালানোর দায়িত্ব রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের। মাঝখান থেকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। এই সমস্যা কাটাতে তাই ব্যাঙ্কিং শিল্পের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, দেশে সোনা আমদানি বৃদ্ধির দিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গত ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। আজ বৈঠকে তার বিভিন্ন দিক আরবিআই-এর কাছে তুলে ধরেন তিনি। আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রের থেকে সরকার কী চাইছে, তা-ও জানান। বৈঠকে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধরি-সহ অর্থ মন্ত্রকের কর্তারাও।
এই বৈঠকেই ব্যাঙ্কের কাছে প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন নির্মলা। বলেন, ‘‘বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় ঋণ নেওয়ার সময়ে বিমা করতে বলা হচ্ছে মানুষকে। তিনি দেশের নাগরিক। নিজের সম্পত্তি জমা রেখে গৃহঋণ নিচ্ছেন। বন্ধক তো দেওয়াই হচ্ছে, তা হলে তাঁকে ঝুঁকির মোকাবিলা করার জন্য বিমা কিনতে বলা হবে? কেন অতিরিক্ত বিমা কিনতে হবে তাঁকে?’’ মন্ত্রীর বার্তা, ব্যাঙ্কগুলির উচিত দায়িত্বের সঙ্গে নিজেদের মূল ব্যবসা পরিচালনা করা। যা হল আমানত সংগ্রহ এবং ঋণ দেওয়া। পাশাপাশি গ্রাহকের চাহিদা ও তাঁদের আর্থিক অবস্থার পাশাপাশি নিজেদের শক্তি এবং দুর্বলতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াও দরকার।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভুল বুঝিয়ে প্রকল্প বিক্রি নিয়ে নির্দেশিকা জারির জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব পেশ করেছে আরবিআই। ১ জুলাই থেকে যা কার্যকর হওয়ার কথা। নির্মলার বক্তব্য, ‘‘দেখে ভাল লাগছে যে, কেন ভুল বুঝিয়ে প্রকল্প বিক্রি বরদাস্ত করা হবে না, সে বিষয়ে আরবিআই নির্দেশিকা জারি করছে। ব্যাঙ্কগুলির কাছেও এই বার্তা যাওয়া দরকার যে এই ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না।’’ এর পাশাপাশি রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক দেশে সোনা আমদানির দিকে নজর রাখছে বলেও সোমবার জানান নির্মলা। সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, ভারতে সোনা আমদানি অতিরিক্ত বেড়েছে। যে কারণে মাথা তুলেছে বাণিজ্য ঘাটতি। তথ্য বলছে, গত এপ্রিল-ডিসেম্বরে ভারতে হলুদ ধাতুর আমদানি ১০০ কোটি ডলার বেড়ে ৫০০০ কোটিতে পৌঁছেছিল। জানুয়ারিতে পরিমাণ এবং মূল্য, দুই নিরিখেই তা অনেকটা মাথা তুলেছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে