(বাঁ দিকে) যোগী আদিত্যনাথ এবং শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও জ্যোতিষপীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর মধ্যে বিবাদের সমাধান সূত্র এক মাস পরেও অধরাই রয়ে গেল। উল্টে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ শঙ্করাচার্যের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করায় দু’পক্ষের বিবাদ আরও তীব্র আকার নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। সব মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির উগ্র হিন্দুত্ববাদী মুখ যোগী আদিত্যনাথ এবং হিন্দুদের অন্যতম ধর্মগুরু শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর মধ্যে ওই লড়াইয়ে দলের হিন্দু ভোটে বিভাজনের আশঙ্কা করছেনবিজেপি নেতৃত্ব।
বিবাদের শুরু গত ১৮ জানুয়ারি। মৌনি অমাবস্যা উপলক্ষে শঙ্করাচার্য অনুগামীদের নিয়ে যখন প্রয়াগরাজের সঙ্গমে স্নান করতে যাচ্ছিলেন, সে সময়ে তাঁকে বাধা দেয় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তার পর থেকেই যোগী প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন সরস্বতী। নিয়ম করে প্রায় ফি দিন আক্রমণ শানাচ্ছিলেন যোগীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দলের মধ্যে প্রশ্ন ওঠায় অস্বস্তিতে ভুগছিলেন যোগীও। উল্টো দিতে যোগী নানা ভাবে চাপ দিয়ে সরস্বতীকে বাগে আনতে না পেরে অবশেষে তাঁর বিরুদ্ধে পুরনো একটি পকসো অভিযোগ সামনে আনেন। যার জেরে ঝুঁসি পুলিশ স্টেশনে একটি মামলা রুজু করার নির্দেশ দেয় আদালত। সূত্রের মতে, সরস্বতীর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই বারাণসী পৌঁছেছে উত্তরপ্রদেশের পুলিশের একটি দল। যা দুই শিবিরের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়িয়েছে। সরস্বতী সাফ বলেছেন, ‘‘যে দুই ছাত্রের যৌন নির্যাতনের কথা বলা হচ্ছে, তারা কোনও কালেই আমার গুরুকুলের পড়ুয়া ছিল না। ওই দু’জন হরদৈয়ের একটি স্কুলে পড়ত। তাই যাবতীয় অভিযোগ মনগড়াও বানানো।’’
হিন্দুত্ববাদী নেতা ও হিন্দুদের অন্যতম ধর্মগুরুর ওই লড়াইয়ে আড়াআড়ি বিভাজন তৈরি হয়েছে হিন্দুদের মধ্যে। এমনিতেই রাজ্যের ব্রাহ্মণ সমাজ যোগী আদিত্যনাথের উপরে নানা কারণে ক্ষুব্ধ। তার মধ্যে সরস্বতী-কাণ্ডের ফলে দলের ভোটব্যাঙ্কে, বিশেষ করে যে সাধু-সন্তরা এত দিন যোগীকে সমর্থন করে গিয়েছেন বা সমর্থনের সুর বেঁধে দিতেন, তাঁরা মুখ ফেরাতে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে চাপে আরএসএস নেতৃত্বও। এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে রাজ্যের দুই উপমুখ্যমন্ত্রীরও। দুই নেতাই সরস্বতীর সঙ্গে হওয়া বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার পক্ষপাতী হলেও কোভিড কালে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হওয়া সরস্বতীর সঙ্গে সংঘাতে আপাতত এক পা পিছোতে রাজি নন আদিত্যনাথ। যোগীর এই অনড় মনোভাবের পরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য কোনও অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যের পুলিশকে ভার দেওয়ার দাবি তুলেছেন সরস্বতী।
যোগী-সরস্বতী সংঘাত থেকে ফায়দা তুলতে তৎপর এসপি নেতা অখিলেশ যাদব। আজ তিনি বলেন, ‘‘যোগী আদিত্যনাথ সিঙ্গাপুরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আর এখানে যোগীর পুলিশ সাধু-সন্তদের তদন্তের নামে অপমানে ব্যস্ত! উত্তরপ্রদেশের মানুষ ওই অভিযোগের জবাব দেবেন।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে