এ বার পূর্বাঞ্চলে অস্তিত্বের সঙ্কটে এনটিসি

ন্যাশনাল টেক্সটাইল কর্পোরেশনের (এনটিসি) পূর্বাঞ্চল শাখায় কর্মীদের সঙ্গে এখনও সই হয়নি নতুন বেতন চুক্তি। তার মেয়াদ শেষ হয়েছে চার মাস আগে। বিষয়টি স্পষ্ট করেননি কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

প্রজ্ঞানন্দ চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৮ অগস্ট ২০১৬ ০১:২৬
Share:

ন্যাশনাল টেক্সটাইল কর্পোরেশনের (এনটিসি) পূর্বাঞ্চল শাখায় কর্মীদের সঙ্গে এখনও সই হয়নি নতুন বেতন চুক্তি। তার মেয়াদ শেষ হয়েছে চার মাস আগে। বিষয়টি স্পষ্ট করেননি কর্তৃপক্ষ। একের পর এক মিল বন্ধ হওয়ায় এমনিতেই এনটিসি-র ভবিষ্যৎ ঘিরে তৈরি হয়েছে সংশয়। বেতন চুক্তি থমকে যাওয়ায় এ বার সংস্থার পূর্বাঞ্চল শাখার অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিল সংশ্লিষ্ট মহলে। অবশ্য এনটিসি চেয়ারম্যান পি সি ব্যাসের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বেঁধে দেওয়া ন্যূনতম বেতনের তুলনায় সংস্থার কর্মীরা বেশিই পাচ্ছেন। কিন্তু এনটিসি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা হওয়ায় কর্মীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ।

Advertisement

পূর্বাঞ্চলে সংস্থার কর্মী ইউনিয়ন অভিযোগ এনেছে, নতুন বেতন চুক্তি করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কেউই কথা বলতে চাইছেন না। তাঁরা একে অপরের উপর দায়িত্ব চাপিয়ে দায় সারছেন। এ দিকে, চেয়ারম্যান পি সি ব্যাস সাফ জানিয়ে দেন, ‘‘এনটিসি কর্মীরা রাজ্য সরকারের ন্যূনতম বেতনের থেকে বেশি মাইনে পাচ্ছেন। তাই তাঁদের বেতন সংশোধন করার কোনও প্রশ্নই নেই।’’ এ প্রসঙ্গে এনটিসি-র পূর্বাঞ্চল শাখায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ মজুমদার বলেন, ‘‘এনটিসি কেন্দ্রীয় সংস্থা। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যূনতম বেতনই কর্মীদের প্রাপ্য। তার তুলনায় অনেক কম বেতন পাচ্ছেন তাঁরা। গত বারও বেতন সংশোধন করে প্রতিদিন ৩০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল। তা ছাড়া চেয়ারম্যান যা বলেছেন, এনটিসি-র কর্তারা কিন্তু ইউনিয়নকে তা সরাসরি জানাচ্ছেন না। তাঁরা চুক্তি সইয়ের দায়িত্ব একে অন্যের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন।’’

প্রসঙ্গত, এক বছর আগে এনটিসি-র কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে সংস্থার পূর্বাঞ্চল শাখা পরিচালনার ভার পশ্চিমাঞ্চল কর্তৃপক্ষের উপর অর্পণ করার কথা জানান। গত বছর যে-বেতন চুক্তি হয়েছিল, সেটি স্বাক্ষরও করেন পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার অশোক ব্যাস। কিন্তু এ বারের চুক্তি নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘‘এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসা করুন।’’ পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার সুব্রত পালও দায় নিতে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘‘এ ব্যাপারে আমি কোনও মন্তব্য করতে পারব না।’’

Advertisement

পূর্বাঞ্চলের পরিচালনভার পশ্চিমাঞ্চলের হাতে তুলে দেওয়ার আগে থেকেই এখানে এনটিসি-র ব্যবসা ক্রমশ গুটিয়ে এনেছেন কর্তৃপক্ষ। এক সময়ে পূর্বাঞ্চলে এনটিসি-র ১৮টি মিল ছিল। কর্মী সংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ হাজার। বর্তমানে পূর্বাঞ্চল শাখার আওতায় পশ্চিমবঙ্গে শুধু একটি মিল খোলা আছে। চালু থাকা সেই আরতি মিলে ৫০০ জনের মতো কর্মী রয়েছেন। বিহার, ওড়িশা এবং অসমে একটি করে মিল থাকলেও সেগুলি দীর্ঘ দিন বন্ধ।

অন্য দিকে এনটিসি-র জামাকাপড় বিক্রির দোকানের সংখ্যা এক সময়ে পূর্বাঞ্চলে ছিল ৬০টি। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০টি। তাতে ৪০ জনের মতো কর্মী কাজ করেন।

ইউনিয়নের অভিযোগ, পূর্বাঞ্চলে এনটিসিকে চাঙ্গা করার জন্য কার্যত কোনও পদক্ষেপই করেননি কর্তৃপক্ষ। এখন তাদের আশঙ্কা, পূর্বাঞ্চল শাখাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। সন্তোষবাবু বলেন, ‘‘এই অবস্থায় পূর্বাঞ্চল শাখা কত দিন কর্তৃপক্ষ চালু রাখবেন, তা নিয়ে সংশয় ঘোরালো হচ্ছে কর্মীদের মনে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement