কিছুটা স্বস্তি পাম্প মালিকদের

পুরনো নোটে ধারে কেনা তেলের দাম মেটানোর হিড়িক

নোট বাতিলের ধাক্কায় এখন উলটপূরাণ। আর, পেট্রোল পাম্প মালিকদের অনেকে বলছেন, সেটাই তাঁদের কাছে মন্দের ভাল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৬ ০৩:০০
Share:

নোট বাতিলের ধাক্কায় এখন উলটপূরাণ। আর, পেট্রোল পাম্প মালিকদের অনেকে বলছেন, সেটাই তাঁদের কাছে মন্দের ভাল।

Advertisement

পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট তড়িঘড়ি খরচ করে ফেলার হিড়িকে বাকিতে কেনা তেলের দাম অবশেষে মেটাতে শুরু করছেন ক্রেতাদের একাংশ। ফলে বকেয়া আদায় হওয়ায় খুশি অনেক পাম্প মালিকই।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার পাম্প, সরকারি হাসপাতাল কিংবা ওষুধের দোকানে বাতিল নোট ব্যবহারের সুযোগ ১৪ তারিখ মাঝরাত পর্যন্ত বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আর তাতেই তেল কেনার নামে ক্রেতাদের একটা বড় অংশ ওই সব বড় নোট ভাঙিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় বিপদেই পড়তে হয়েছিল পাম্পগুলিকে। তবে পাশাপাশি ধারের বোঝাও কমতে শুরু করায় এ বার কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন পাম্প মালিকরা। বেশি পরিমাণে তেল যাঁরা অনেক দিন ধরে ধারে কিনে রেখেছেন, এখন তা শোধ করতে চলে আসছেন তাঁদের অনেকেই।

Advertisement

ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তুষার সেন শনিবার বলেন, লরি বা অন্য বাণিজ্যিক পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত নিয়মিত ক্রেতাদের অধিকাংশই আগে বলতে গেলে ধারে তেল নিতেন। তাঁদের কেউ হয়তো পুরসভার ঠিকাদার, কেউ বা অন্য সংস্থায় গাড়ি ভাড়া দেন। ফলে প্রাপ্য টাকা না-পাওয়া পর্যন্ত ধারই ছিল তাঁদের ভরসা। একটি পাম্পে মাসে যত তেল বিক্রি হত, তার অন্তত ২০% ধারেই বেচতেন মালিকেরা। এ নিয়ে তুষারবাবু জানান, ‘‘এখন অনেকেই বাতিল নোটে সেই টাকা হয় পুরোটা বা কিছুটা মিটিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে পাম্পের ধারের খাতার ভার কমছে।’’

কিন্তু এক সঙ্গে বেশি টাকা হাতে এলে পাম্পগুলিকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে কি না, সে ব্যাপারে তাঁর জবাব, ‘‘ধারে তেল নিলেও তার বিল ও আলাদা হিসেব থাকেই। ক্রেতাদের পরিচয়পত্রেও থাকে। সে সবের ভিত্তিতেই ব্যাঙ্কে টাকা জমা দেব এবং তেল সংস্থাগুলিকেও হিসেব দেব। ফলে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।’’

Advertisement

পাম্প মালিকেরা জানান, নির্দেশ মেনে পুরনো নোট তাঁরা নিচ্ছেন। কিন্তু বাজারে যেহেতু ১০০ টাকা-সহ অন্যান্য নোটের জোগান কম, তাই তেল কিনতে এসে ক্রেতার পুরনো বড় নোট ভাঙানোর প্রবণতা এখনও রয়েছে। তুষারবাবু বলেন, ‘‘আমাদের কাছে খুচরো থাকলে টাকা ফেরত দিতে পারি। কিন্তু অল্প তেল কিনতে বড় নোট দিলে আমরাই বা কতক্ষণ খুচরো দেব?’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement