Budget 2026

আর নয় ফৌজদারি অপরাধ, এ বার থেকে জরিমানা দিলেই মিটবে হিসাবের গরমিলের

বিদেশে কম অঙ্কের সম্পদ থাকলে পড়ুয়া-সহ ছোট করদাতাদের তা জানানোর সুযোগও করে দিয়েছে বাজেট। তার অঙ্ক ২০ লক্ষ টাকার কম হলে লাগবে না জরিমানা।

প্রজ্ঞানন্দ চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৩
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

এ বারের বাজেটে হিসাবের খাতায় গরমিল বা তথ্যের হেরফের থাকার শাস্তিকে ফৌজদারি অপরাধের তালিকা থেকে বার করে এনেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ফলে এতদিন যে অপরাধের শাস্তি হিসেবে হাজতবাস করতে হত, তা-ই মিটে যাবে স্রেফ বাড়তি কিছু টাকা খরচ করে। অর্থমন্ত্রীর ইঙ্গিত, কর ব্যবস্থায় মামলা-মোকদ্দমা কমাতে এবং নিয়ম সহজ করতেই এই উদ্যোগ। কর সংক্রান্ত ভুল তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে শাস্তি বিধানের সময় করদাতার প্রকৃত উদ্দেশ্যের উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি। বার্তা, যেখানে অনিচ্ছাকৃত ভাবে রিটার্নে করদাতা ত্রুটি করেছেন সেখানে শাস্তি হিসেবে আগে যে সব ক্ষেত্রে জেলে পাঠানো হত, সেই সব অপরাধে পরিবর্তে জরিমানার নিয়ম চালু করা হয়েছে। কর মেটানোর ক্ষেত্রে ছোটখাটো ত্রুটিতেও জরিমানা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বিদেশে কম অঙ্কের সম্পদ থাকলে পড়ুয়া-সহ ছোট করদাতাদের তা জানানোর সুযোগও করে দিয়েছে বাজেট। তার অঙ্ক ২০ লক্ষ টাকার কম হলে লাগবে না জরিমানা। ২০২৪-এর পরে তেমন ঘটলে পড়তে হবে না শাস্তির মুখেও। শর্তসাপেক্ষে তাঁদের এককালীন ছ’মাসের সুবিধা দেওয়া হবে ওই সম্পদ জানানোর জন্য।

এ বার থেকে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পরে তা সংশোধন করার জন্য প্রতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। আগে তা করতে হত ডিসেম্বরের মধ্যে। আয়কর বিশেষজ্ঞ রাজীব নাগ বলেন, ‘‘অনেক সময়েই ডিসেম্বর পেরিয়ে যাওয়ার পরে রিটার্নের ত্রুটি নজরে আসত। এখন থেকে তা সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত সময় পাবেন করদাতারা।’’

এ বার নতুন কর কাঠামোয় আয়করের হার পাল্টায়নি। তবে অন্য কিছু করের ক্ষেত্রে বদল এনেছেন নির্মলা। যেমন, শেয়ারের আগাম লেনদেনে বেড়েছে লেনদেন কর (এসটিটি)। তার হার ০.০২% থেকে বেড়ে হচ্ছে সর্বোচ্চ ০.১৫%। বিশেষজ্ঞ আশিস নন্দী বলেন, ‘‘আগাম লেনদেন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইতিমধ্যেই তাতে লগ্নি করে অনেকে হাত পুড়িয়েছেন।’’ অ্যাকুইল-র কর্তা রাজর্ষি দাশগুপ্ত অবশ্য বলেন, ‘‘বাজারের অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বাজেটে মূলধনী লাভকরে সুবিধা পাওয়ার আশা ছিল। তা পূরণ হয়নি। উল্টে এসটিটি বৃদ্ধি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’’ পাশাপাশি সংস্থা নিজের শেয়ার লগ্নিকারীদের থেকে কিনে ফিরিয়ে নিলে, তাতে হওয়া মুনাফা ডিভিডেন্ড গণ্য হত। যা আয়ের সঙ্গে যোগ হয়ে কর হিসাব হত। এ বার তা মূলধনী লাভকর ধরা হবে। দীর্ঘ মেয়াদে (কেনার এক বছর পরে সংস্থা ফেরালে) কর ১২.৫%, স্বল্প মেয়াদে ২০%। লগ্নিকারী প্রোমোটার হলে কর দিতে হবে বেশি। এ ছাড়া, যে সব সংস্থা মিনিমাম অলটারনেটিভ ট্যাক্সের (ম্যাট) আওতায় রয়েছে, নতুন কাঠামোয় তাদের করও ১৫% থেকে কমে ১৪% হয়েছে।

বাজেটে বিদেশে শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠানোয় উৎসেকর সংগ্রহের (টিসিএস) হার ৫% থেকে নেমে হয়েছে ২%। বিদেশে বেড়ানোর ক্ষেত্রে দিতে হবে ২% কর। আগে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্যাকেজে কর ছিল ৫% ও তার বেশি দামের ক্ষেত্রে বসত ২০%। শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নির জন্য ব্যাঙ্ক বা আর্থিক সংস্থা থেকে ঋণ নিলে সুদে আয়কর ছাড় মিলত। উঠছে সেই সুবিধা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন