Gas pipe

পাইপের গ্যাস আটকে কোথায়, রাজ্যে পালাবদলের পরেই উদ্যোগী কেন্দ্র

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে গত মার্চ থেকেই রান্নার গ্যাস এলপিজি-র চেয়ে পাইপ গ্যাসের উপর বেশি জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪৩,০০০ গ্রাহক এলপিজি সংযোগ ছেড়ে এই গ্যাসের লাইন নিয়েছেন বলেই দাবি মন্ত্রকের।

অঙ্কুর সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৮:৪৩
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

বাংলায় বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই গোটা রাজ্যে পাইপবাহিত রান্নার গ্যাস সংযোগ বিস্তারের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র সংক্রান্ত কী কী সমস্যা তা জানতে চাইল পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। রাজ্যের ভোটের ফল প্রকাশের পরে পশ্চিমবঙ্গে যে সংস্থাগুলির হাতে এই পরিকাঠামো তৈরির দায়িত্ব রয়েছে, তাদের কাছে কোথায় কোথায় এই সমস্যা রয়েছে সেটা জানতে চেয়ে বার্তা গিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গেলের পক্ষ থেকে। সেই মোতাবেক নিজেদের অসুবিধার কথা ইতিমধ্যেই বিস্তারিত ভাবে জানিয়ে দিয়েছে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি, ইন্ডিয়ান অয়েল আদানি, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম। মূলত, বিভিন্ন সরকারি দফতরের পক্ষ থেকে ছাড়পত্র না পাওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরেই গোটা রাজ্যে বিক্ষিপ্তভাবে এই কাজ আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলের।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে গত মার্চ থেকেই রান্নার গ্যাস এলপিজি-র চেয়ে পাইপ গ্যাসের উপর বেশি জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪৩,০০০ গ্রাহক এলপিজি সংযোগ ছেড়ে এই গ্যাসের লাইন নিয়েছেন বলেই দাবি মন্ত্রকের। ইতিমধ্যেই আটকে থাকা পাইপে গ্যাস প্রকল্প নিয়ে দিল্লিতে বৈঠক হয়েছে। সেখানে উঠেছে চন্দননগর-সহ এ রাজ্যে থমকে থাকা প্রকল্পের কথাও। বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানির সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের কাছে মন্ত্রকের পক্ষ থেকে গেল জানতে চেয়েছিল কোথায় কোথায় সমস্যা আছে। চারটি জায়গার কথা জানিয়েছি, যেখানে রাজ্য ও কেন্দ্রের বিবিধ দফতরের ছাড়পত্রের জন্য কাজ আটকে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দমদম বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা, বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের উপরে কল্যাণী রোড থেকে যশোর রোডের সংযোগস্থল পর্যন্ত, ব্যারাকপুর চিড়িয়া মোড় থেকে ডানলপ মোড় পর্যন্ত এবং চন্দননগর পুর এলাকা।’’ পাশাপাশি কলকাতায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া আটকে থাকার কারণে পাইপে গ্যাস পৌঁছনো যাচ্ছে না বলে দাবি বেঙ্গল গ্যাস কর্তার। তাঁর বক্তব্য, ‘‘রাস্তা খোঁড়ার খরচ কত হবে তা নিয়ে পুরো বিষয়টা আটকে রয়েছে। সেটার সমাধানও এ বার দ্রুত হয়ে যাবে বলে আশা করছি। এই সমস্যাগুলি মিটে গেলে পাইপবাহিত গ্যাসের পরিকাঠামো শহর ও শহরতলিতে অনেকটাই তৈরি হয়ে যাবে।’’ কল্যাণী-সহ নিজেদের নির্ধারিত এলাকায় এখনও পর্যন্ত ৬৫০-এর মতো বাড়িতে এই সংযোগ দিয়েছে বেঙ্গল গ্যাস। যদিও প্রায় ১৫,০০০ বাড়িতে মিটার লাগানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে এখনও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়নি।

পাশাপাশি, ইন্ডিয়ান অয়েল-আদানির পক্ষ থেকেও মূলত পশ্চিম বর্ধমানে ১০-১২টি জায়গায় জায়গায় ছাড়পত্র না পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে পেট্রলিয়াম মন্ত্রকে। মূলত আসানসোল-দুর্গাপুর এলাকাতেই এই সমস্যাগুলি রয়েছে খবর। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এর বেশিরভাগই হল রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের ছাড়পত্র না পাওয়ার কারণে। এ ছাড়াও, কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু সংস্থার কাছ থেকে ছাড়পত্র পাওয়া বাকি রয়েছে। সমস্যা মিটিয়ে ছাড়পত্র দ্রুত পাওয়ার আশা করছে ইন্ডিয়ান অয়েল আদানি। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানে এ পর্যন্ত প্রায় ৬৫০০ বাড়িতে পাইপবাহিত গ্যাসের সংযোগ দিয়েছে এই সংস্থা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন