—প্রতীকী ছবি।
ফের ভারতীয় শেয়ার বাজারে মার্কিন শুল্কের আতঙ্ক! হু-হু করে কমল ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম নির্মাণকারী সংস্থাগুলির স্টকের দর। মঙ্গলবার, ৮ জুলাই বাজার বন্ধ হলে দেখা যায়, প্রায় ২০০ পয়েন্ট পড়েছে নিফটি ফার্মার সূচক, শতাংশের নিরিখে যা ০.৮৯। এ দিন ২২,১৬৫.৯০-তে পৌঁছে দৌড় থামায় ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) নিফটি ফার্মা। ওষুধ সংস্থাগুলির শেয়ার নিম্নমুখী হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে লগ্নিকারীদের।
মঙ্গলবার সকালে বাজার খুলতেই লাফিয়ে লাফিয়ে নামতে থাকে নিফটি ফার্মার সূচক। বেলা ১২টার পর ওষুধ নির্মাণকারী সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম সামান্য চড়লেও দিনের মধ্যে কখনওই সেটা লাল রেখা অতিক্রম করতে পারেনি। ফলে সর্বাধিক লোকসান হয়েছে অরবিন্দ ফার্মার লগ্নিকারীদের। ৩.৬৪ শতাংশ কমে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির স্টকের দর নেমে এসেছে ১,১৪২ টাকায়। অন্য দিকে, লুপিন লিমিটেডের শেয়ারের দাম কমেছে ২.৮৬ শতাংশ। এই সংস্থার স্টক ১,৯২২ টাকায় ঘোরাফেরা করছে।
এ ছাড়া ডাঃ রেড্ডিস্ ল্যাবরেটরিজ় লিমিটেড এবং জ়াইডাস লাইফসায়েন্সেস লিমিটেডের স্টকের দাম হ্রাস পেয়েছে যথাক্রমে ২.০২ ও ১.৭৯ শতাংশ। এই দুই সংস্থার শেয়ার কিনতে হলে বর্তমানে দিতে হবে ১,২৮৪ ও ৯৮১ টাকা। একই ছবি দেখা গিয়েছে সান ফার্মা, সিপলা, গ্রানুলস এবং টরেন্ট ফার্মার শেয়ার সূচকেও। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির স্টকের দামে গড়ে এক থেকে আড়াই শতাংশের পতন দেখা গিয়েছে।
মঙ্গলবার শেয়ার বাজারে পিছিয়ে পড়া অন্যান্য ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নির্মাণকারী সংস্থাগুলির তালিকায় নাম রয়েছে অজন্তা ফার্মা, লরাস ল্যাবস, গ্রেনমার্ক ফার্মা, বায়োকন এবং অ্যালকেম ল্যাবসের। তবে ডিভি’স ল্যাবস, ম্যানকাইন্ড ফার্মা, ন্যাটকো ফার্মা, আইপিসিএ ল্যাবস, গ্ল্যান্ড ফার্মা এবং অ্যাবট ইন্ডিয়ার স্টকের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা ১০ দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর চলতি সপ্তাহে দু’দিন নীচের দিকে গেল নিফটি ফার্মার সূচক।
সমীক্ষক সংস্থা নোমুরার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জুনে শেয়ার বাজারে ভারতীয় ওষুধ এবং চিকিৎসা নির্মাণকারী সংস্থাগুলির স্টকের দর আট শতাংশ বৃদ্ধি পায়। আইপিসিএ ল্যাব্স ও সান ফার্মার শেয়ারের দাম ১২ শতাংশ, টরেন্ট ফার্মা, ডাঃ রেড্ডিস ল্যাব এবং গ্লেনমার্কের স্টকের দাম ১১ শতাংশ চড়েছিল। ফলে বাম্পার মুনাফা করেন বিনিয়োগকারীরা।
এ দেশের ফার্মা সংস্থাগুলির রাজস্বের একটা বড় অংশ আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। কারণ, সেখানে বিপুল পরিমাণে ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম রফতানি করে থাকে তারা। এই পরিস্থিতিতে ১৪টি দেশকে নতুন করে শুল্ক সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১ অগস্ট থেকে বর্ধিত হারে শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। অন্য দিকে, নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এখনও চূড়ান্ত হয়নি বাণিজ্যচুক্তি। সেই কারণে, ওষুধ সংস্থাগুলির শেয়ার দর নিম্নমুখী হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি সাময়িক বলে মনে করেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)