Rajesh Exports Stock Fall

কোটি কোটি টাকার গরমিলে হুলস্থুল! স্বর্ণসংস্থার স্টক বেচে পালাচ্ছেন লগ্নিকারীরা, শেয়ারবাজারে অশনিসঙ্কেত

রাজেশ এক্সপোর্টস লিমিটেডের আয়ের হিসাবে কোটি কোটি টাকার গরমিলের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই শেয়ার বিক্রিতে পড়ে গিয়েছে হুড়োহুড়ি! ফলে হু-হু করে নামছে এর স্টকের সূচক।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৩:১৫
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

আর্থিক তছরুপের অভিযোগে বেসামাল রাজেশ এক্সপোর্টস লিমিটেড (আরইএল)। স্বর্ণালঙ্কার সংস্থাটির শেয়ার বিক্রি করতে লগ্নিকারীদের মধ্যে পড়েছে হুড়োহুড়ি। ফলে লাফিয়ে লাফিয়ে নামছে এর স্টকের সূচক। সেই সঙ্গে হ্রাস পাচ্ছে রাজেশ এক্সপোর্টসের বাজারমূল্যও। এই পরিস্থিতি আপাতত বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

Advertisement

শুক্রবার, ৫ জুন, বাজার খুলতে না খুলতেই রাজেশ এক্সপোর্টসের স্টক বিক্রি করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন লগ্নিকারীরা। বেলা ১২টা নাগাদ প্রায় পাঁচ শতাংশ কমে যায় এর শেয়ারের দাম। ফলে স্টকটির মূল্য দাঁড়ায় ৯৮.৭৩ টাকা। এই নিয়ে টানা দু’দিন (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) স্বর্ণালঙ্কার সংস্থাটির শেয়ারে পাঁচ শতাংশের পতন দেখল সেনসেক্স-নিফটি।

এ দিন সকাল ১০টা নাগাদ ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (এনএসই) ৪.৯৯ শতাংশ কমে রাজেশ এক্সপোর্টসের স্টকের দাম দাঁড়ায় ৯৮.৭৩ টাকা। ওই সময়ে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) ৪.৯৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে শেয়ারটি ৯৯.৪৫ টাকায় নেমে আসে। দু’জায়গাতেই সর্বনিম্ন স্তর বা লোয়ার সার্কিট লিমিট ছুঁয়ে ফেলেছে সংশ্লিষ্ট স্বর্ণালঙ্কার সংস্থা।

Advertisement

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, লগ্নিকারীরা এ ভাবে শেয়ার বিক্রি করায় রাজেশ এক্সপোর্টসের বাজারমূল্য কমে দাঁড়িয়েছে ১,৩৩৪ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই স্বর্ণালঙ্কার সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও (চিফ এক্‌জ়িকিউটিভ অফিসার) রাজেশ মেহতার স্টক লেনদেনের উপর জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। পাশাপাশি, অবিলম্বে তাঁর প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে সেবি।

বুধবার, ৩ জুন, রাজেশ এক্সপোর্টসের বিরুদ্ধে ১০৯ পাতার একটি অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করে সেবি (সিকিউরিটিজ় অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া)। বাজার নিয়ন্ত্রণকারী কেন্দ্রীয় সংস্থাটির অভিযোগ, এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ের আর্থিক বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে সংশ্লিষ্ট স্বর্ণালঙ্কার প্রতিষ্ঠান। গত পাঁচটি অর্থবর্ষ ধরে ব্যাপক কারচুপি করে চলেছে তারা। এর মধ্যে ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকা ঘোষিত আয়ের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত।

সেবির দাবি, টাকার অঙ্ক এতটাই বড় যে এটি অনেক দেশের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের চেয়েও বেশি। অন্তর্বর্তী আদেশে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজেশ এক্সপোর্টসের রাজস্বের পরিমাণ ৯৭-৯৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নজিরবিহীন। এই অসঙ্গতি নজরে আসার পরই তদন্তে নামে তারা। অন্য দিকে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট স্বর্ণালঙ্কার সংস্থা।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement