Budget

অর্থনীতির ‘সুদিনের’ সুযোগ নিয়ে আরও সুদ ছাঁটাই? নতুন বছরে কোন পথে যাবে আরবিআই?

পুরো ২০২৫ সাল জুড়েই মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল পূর্বাভাসের তুলনায় কম। সরকারের হিসাব অনুসারে, খাদ্যপণ্যের দাম ৩.৯১% কমার হাত ধরে নভেম্বরে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ০.৭১%। পাইকারি বাজারে দর কমেছে ০.৩২%।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৫
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

এক দিকে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার পৌঁছে গিয়েছে ৮ শতাংশের উপরে। অন্য দিকে মূল্যবৃদ্ধির হার নেমেছে ১ শতাংশের নীচে। দেশের অর্থনীতির এই ‘সুদিনের’ সুযোগ নিয়ে ২০২৫ সালে ১২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ ছেঁটেছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। শিল্প, সাধারণ মানুষের সামনে খুলেছে কম সুদে ঋণ নেওয়ার দরজা। যা চাহিদা বাড়াতে কিছুটা হলেও সাহায্য করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে নতুন বছর আরবিআই-এর সামনে আনতে চলেছে নতুন চ্যালেঞ্জ। যেখানে সুদ ছাঁটাইয়ের রাস্তা কমবে এবং অর্থনীতির গতি ঢিমে হওয়ার আশঙ্কা। তার উপরে থাকছে টাকার দামের টানা পতনের চিন্তাও। ফলে সব দিক দিয়ে ৪-৬ ফেব্রুয়ারি বছরের প্রথম ও বাজেট পরবর্তী ঋণনীতিতে শীর্ষ ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

পুরো ২০২৫ সাল জুড়েই মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল পূর্বাভাসের তুলনায় কম। সরকারের হিসাব অনুসারে, খাদ্যপণ্যের দাম ৩.৯১% কমার হাত ধরে নভেম্বরে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ০.৭১%। পাইকারি বাজারে দর কমেছে ০.৩২%। দুই হারই শীর্ষ ব্যাঙ্কের ২% থেকে ৬ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার অনেক নীচে। এই পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হতে চলেছে মূল্যবৃদ্ধির নতুন ভিত্তিবর্ষ। সেখানে আসার কথা নতুন অনেক পণ্য। বাদও যাবে অনেকগুলি। পাল্টানোর কথা মূল্যবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও। ফলে তার পরিসংখ্যানের ধরন যাবে বদলে। এমনিতেই মূল্যবৃদ্ধি পূর্বাভাসের সঙ্গে না মেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। তার উপরে কম ভিতের কারণে ২০২৬ সালে তার হারের মাথা তোলার সম্ভাবনা থাকছে। ব্যাঙ্ক অব বরোদার মুখ্য অর্থনীতিবিদ মদন সবনবিস, ইক্রার অদিতি নায়ার এবং ক্রিসিলের ধর্মকীর্তি জোশীর মতো বিশেষজ্ঞদের মতে, সেটা পৌঁছতে পারে ৪-৫ শতাংশে। ফলে সুদ ছাঁটাইয়ের সুযোগ কমবে।

এ দিকে আবার চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে আর্থিক বৃদ্ধি ৮.২ শতাংশে পৌঁছনোর পরে পরের বছর উঁচু ভিতের উপরে দাঁড়িয়ে মাথা নামানোর আশঙ্কা থাকছে তার হারের। জিডিপি-রও নতুন ভিত্তিবর্ষ চালু হবে ফেব্রুয়ারি থেকে। ফলে তার বৃদ্ধির পালে গতি আনায় তৎপর হতে হবে শীর্ষ ব্যাঙ্ককে। সম্প্রতি আর্থিক স্থিতিশীলতা রিপোর্টে অবশ্য আরবিআই এবং গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রের দাবি, ভারতের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। ব্যাঙ্কিং শিল্পের হালও ভাল। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও আগামী দিনে দেশের ভিতরে চাহিদা ও লগ্নি বৃদ্ধির হাত ধরে জিডিপি-র হারে আরও গতি আসবে। আগামী দিনে দেশের আর্থিক অবস্থা যাতে স্থিতিশীল থাকে এবং নিয়ন্ত্রণ যেন অবস্থা বুঝে হয়, সে দিকে নজর দেবেন বলেও জানিয়েছেন গভর্নর।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন্তা থাকছে ডলারের সাপেক্ষে টাকার দামের টানা পতন নিয়ে। বছরের প্রথম ন’মাসে ৩৮০০ কোটি ডলারের বিদেশি মুদ্রা বিক্রি করেছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। যদিও আরবিআই জানিয়েছে, টাকার দাম চলবে বাজারের নিয়মে। তাতে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। মলহোত্রের বার্তা, ভারতের ঘরে ৬৯,০০০ কোটি ডলারের বেশি বিদেশি মুদ্রা রয়েছে। চলতি খাতে ঘাটতিও আয়ত্ত্বে রয়েছে। কিন্তু তথ্য বলছে, ডলারের দাম ৯১ টাকার ঘরে পৌঁছেছিল কয়েক দিন আগেই। মাঝে একটু কমলেও, ফের শুক্রবার তা ছাড়িয়েছে ৯০ টাকার গণ্ডি। ফলে যে হারে টাকার দর নেমেছে, তাতে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক সতর্ক থাকবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন