কুড়ি মাসের তলানি থেকে ৪৭৩.৪৫ পয়েন্টের লম্বা লাফ। শুক্রবার সেনসেক্স পৌঁছল ২৪,৪৩৫.৬৬ অঙ্কে। ঘুরে দাঁড়াল টাকাও। ডলারে দাম বাড়ল ৩৯ পয়সা। এক ডলারের দর ৬৭.৬৩ টাকা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত আর্থিক সমস্যা জর্জরিত দেশগুলির জন্য মার্চের মধ্যে আরও ত্রাণ প্রকল্প ঘোষণা করতে পারে সেখানকার শীর্ষ ব্যাঙ্ক (ইসিবি)। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানত এই ইঙ্গিতেই এ দিন বিশ্ব জুড়ে চাঙ্গা হয় শেয়ার বাজার। প্রভাব পড়েছে ভারতে। সূচকের লাফও সেই কারণে।
গত অক্টোবরের পর থেকে এক দিনে এতখানি ওঠেনি সেনসেক্স। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে শীঘ্রই বাড়তি ত্রাণ প্রকল্প ঘোষণার সম্ভাবনা ছাড়াও এ দিন বাজার চাঙ্গা হওয়ার পিছনে কাজ করেছে একাধিক কারণ।
প্রথমত, মাঝে দু’দিন ছাড়া গত ন’দিন বাজার নিম্নমুখী থাকায় অনেক ভাল (এমনকী ব্লু-চিপ) শেয়ারের দাম নেমেছে। পড়তি বাজারে শেয়ার কেনার সুযোগ হাতছাড়া করেননি লগ্নিকারীরা।
দ্বিতীয়ত, বেশ কিছু দিন পরে শুক্রবার বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম কিছুটা উঠেছে। ৫% উঠে উন্নত মানের অশোধিত তেলের ব্যারেল প্রতি দর ছাড়িয়েছে ৩০ ডলার। বিভিন্ন তেল উৎপাদক দেশের (বিশেষত পশ্চিম এশিয়ার) নানা ধরনের তহবিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শেয়ার বাজারে লগ্নি করে। তেল তলানিতে ঠেকায় তহবিলগুলি গুটিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। তাতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে লগ্নিকারীদের মধ্যে। তাই এ দিন তেলের দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানো আশা জুগিয়েছে তাঁদের।
তৃতীয়ত, অনেকে মনে করছেন, চিনের বৃদ্ধি ধাক্কা খেয়ে ৭ শতাংশের নীচে নেমেছে। কিন্তু তা আরও নামার সম্ভাবনা কম। যা স্বস্তি জুগিয়েছে বাজারকে।
চতুর্থত, এ দিন টাকার দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবে। তা-ও ইন্ধন জুগিয়েছে শেয়ার বাজারের উত্থানে।
বজাজ ক্যাপিটালের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সংস্থার বিপণন বিভাগের কর্তা বিশ্বজিৎ পরাশর বলেন, ‘‘এখন শেয়ার কেনার ভাল সুযোগ। ভাল সংস্থার শেয়ারও মিলছে কম দামে। ৩-৫ বছরের মেয়াদে লগ্নি করলে ভাল মুনাফার সম্ভাবনা।’’ স্টুয়ার্ট সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান কমল পারেখের মতে, ‘‘এখন বাজার কেমন থাকবে, তা নির্ভর করছে টাকা ও তেলের দামের উপর। তেল আর না-পড়লে আর ডলার ৬৭ টাকার নীচে নামলে, বাজার চাঙ্গা হবে।’’