Foreign Investments

এফডিআই বাড়লেও লাভ হচ্ছে না, ‘লগ্নিতে খরা’ নিয়ে কটাক্ষ বিরোধীদের

এক্স-এ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ লেখেন, ভারতে আর্থিক বৃদ্ধির হার উঁচু না হওয়ার মূল কারণগুলির দিকে বেশ কিছু দিন ধরে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তাঁরা। যার অন্যতম বেসরকারি লগ্নির মন্থর গতি।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ০৮:৪৩
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

ভারতে প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নির (এফডিআই) মোট পরিমাণ বাড়লেও, নিট হিসাবে তা তলানিতে ঠেকেছে বলে তুলে ধরেছিল সমীক্ষা। মঙ্গলবার বিরোধীদের দাবি, নানা কারণে দেশে অভ্যন্তরীণ লগ্নিও বাড়েনি। অথচ এ দিনই আমেরিকার দাবি, সে দেশে ভারতীয়দের মোট প্রত্যক্ষ লগ্নি প্রায় ১৬৪০ কোটি ডলার ছুঁয়েছে। তাতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৭০,৮০০ জনের, মূলত গবেষণা, উন্নয়ন, রফতানির মতো ক্ষেত্রে। তার উপর সন্ধ্যে নাগাদ এক্স হ্যান্ডলে ভারতে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর লিখেছেন, ২০২৬-এ ভারত থেকে বিপুল বিনিয়োগ আসছে আমেরিকায়। এত বেশি আগে কখনও দেখা যায়নি। এটাই আমেরিকায় ভারতের বৃহত্তম এফডিআই। যা আমেরিকার অর্থনীতির সত্যিকারের জয়। শীঘ্রই এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বিরোধী-সহ বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন, দেশে অভ্যন্তরীণ লগ্নি কমছে। বিদেশি ঠিকানায় যে পরিমাণ পুঁজি পাড়ি দিচ্ছে, তার তুলনায় দেশের মাটিতে বিদেশি লগ্নির অঙ্ক কম। তা হলে দেশ এগোবে কী করে?

এক্স-এ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ লেখেন, ভারতে আর্থিক বৃদ্ধির হার উঁচু না হওয়ার মূল কারণগুলির দিকে বেশ কিছু দিন ধরে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তাঁরা। যার অন্যতম বেসরকারি লগ্নির মন্থর গতি। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনের একটি মন্তব্যকেও তুলে ধরেন তিনি। যেখানে নাগেশ্বরন বলছেন, ‘‘অতিমারির পর থেকে দেশের বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলির মুনাফা প্রতি বছর ৩০.৮% করে বেড়েছে। তবু তারা লগ্নির পথে হাঁটেনি।’’ রমেশের দাবি, ভারতে লগ্নির খরা চলছে বলে তাঁদের অভিযোগকেই কার্যত মেনেছেন নাগেশ্বরন। রমেশের বক্তব্য, দেশে বেসরকারি লগ্নি শুকিয়ে যাওয়ার আর একটি কারণ চাহিদার অভাব। সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় বাড়েনি। ফলে ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। যে কারণে লগ্নিকারীরাও বিনিয়োগে উৎসাহী নন। এ ছাড়া ইডি, সিবিআই, আয়কর দফতরের ঘন ঘন হানা লগ্নিকারীদের আতঙ্কিত করেছে। লগ্নিতে উৎসাহ দেওয়া অথবা ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের অভাবও বেসরকারি লগ্নি বৃদ্ধির পথে বাধা। উপরন্তু মুনাফার একটা অংশ ঘুরপথে সরকারের হাতে তুলে দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের।

এ দিকে, মঙ্গলবার দেশে এফডিআই-এর প্রস্তাবগুলি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সর্বোচ্চ সময়সীমা বাড়িয়ে ১২ সপ্তাহ করেছে কেন্দ্র। আগে তা ছিল ১০ সপ্তাহ। নতুন ব্যবস্থায় পড়শি দেশের সব লগ্নি-প্রস্তাব প্রথমে অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে বিদেশ মন্ত্রকে। তবে বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি, কারখানায় ব্যবহারের যন্ত্রাংশ-সহ ৪০টি পণ্যে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলি থেকে আসা এফডিআই নিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন