Tea Garden Workers

চা নিয়ে কোনও চর্চাই নেই নির্মলার বাজেটে, ‘উপহার’ না পেয়ে হতাশ চা শিল্প

আবহাওয়ার খামখেয়াল, রফতানি কমায় দেশের বাজারে চা উদ্বৃত্ত হওয়া, চা পর্ষদের (টি বোর্ড) অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় উঠে আসা ‘চাহিদা কমা’র তত্ত্বের ছায়ায় যেখানে চা শিল্পে উদ্বেগের চোরাস্রোত বইছে, সেখানে কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে প্রত্যাশা থাকাই স্বাভাবিক বলে দাবি শিল্পমহলের।

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৫
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

আসন্ন বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে ‘উপহার’ থাকতে পারে চায়ের জন্য— কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে তেমনই আশা ছিল সে শিল্পে জড়িতদের। কার্যত চা নিয়ে চর্চা শোনা গেল না কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের রবিবারের বাজেট-বক্তব্যে।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন নির্মলা বন্ধ চা বাগান কেন্দ্রীয় ভাবে অধিগ্রহণের যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, বাজেটে তার প্রয়োগ নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত লোকসভা ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা বাগান খোলা, ছোট চা চাষিদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, নেই তা নিয়ে ঘোষণা। যদিও উত্তরবঙ্গে বন্ধ এবং ধুঁকতে থাকা বাগানের সংখ্যা কম-বেশি কুড়ি।

আবহাওয়ার খামখেয়াল, রফতানি কমায় দেশের বাজারে চা উদ্বৃত্ত হওয়া, চা পর্ষদের (টি বোর্ড) অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় উঠে আসা ‘চাহিদা কমা’র তত্ত্বের ছায়ায় যেখানে চা শিল্পে উদ্বেগের চোরাস্রোত বইছে, সেখানে কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে প্রত্যাশা থাকাই স্বাভাবিক বলে দাবি শিল্পমহলের। দেশের যে চার রাজ্যে সবচেয়ে বেশি চা হয় সেই অসম, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং কেরলে বিধানসভা ভোট কড়া নাড়ছে। অথচ, ‘চা’ শব্দটি বাজেটে উপেক্ষিত বলে ক্ষুব্ধ সংশ্লিষ্টেরা।

২০২১-এর কেন্দ্রীয় বাজেটে ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন’ প্রকল্পে অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের মহিলা চা শ্রমিক এবং শ্রমিক পরিবারের শিশুদের শিক্ষা খাতে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্র। এ বারের বাজেটে সে তহবিলের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন’-এর মহাসচিব প্রবীরকুমার ভট্টাচার্য বললেন, “ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কৃষিতে এআই-প্রযুক্তি ব্যবহার হবে। আশা করা যায়, সে সবের সুফল চা শিল্প পাবে।” ছোট চা চাষিদের সর্বভারতীয় সংগঠন ‘সিস্টা’-র সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, “আমরা হতাশ।”

চা শ্রমিক নেতা তথা সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ সমন পাঠকের দাবি, “চা আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা উচিত ছিল।” সহমত অখিল ভারতীয় আদিবাসী বিকাশ পরিষদের ‘প্রোগ্রেসিভ টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অমরদান লাকড়া। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “২০২১ সালে যে হাজার কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্র, তা পূরণ হোক।” তবে চা শ্রমিক নেতা তথা আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গার দাবি, “কেন্দ্রের প্রকল্পের টাকা অসম খরচ করেছে। এ রাজ্য করেনি। রাজ্যে যতক্ষণ না সরকার পরিবর্তন হচ্ছে, টাকা দিলেও কাজ হবে না।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন