বেশি নোট ছাপাতে হওয়ায় এ বাবদ খরচও ২৫% বেড়ে হয়েছে ৬৩৭২ কোটি টাকা। —প্রতীকী চিত্র।
ডিজিটাল লেনদেনে জোর দেওয়ার কথা বার বারই বলে আসছে মোদী সরকার। ২০১৬-র ৮ নভেম্বর নোট বাতিলের ঘোষণা করার সময়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন, এর অন্যতম লক্ষ্যও হল বাজারে নোট কমিয়ে ডিজিটালে জোর। যাতে কালো টাকা লেনদেন কমে। অথচ বৃহস্পতিবার রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের বার্ষিক রিপোর্ট বলছে, গত অর্থবর্ষে (২০২৪-২৫) বাজারে লেনদেন হওয়া নোটের সংখ্যা এবং মূল্য তার আগের বছরের তুলনায় বেড়ে গিয়েছে যথাক্রমে ৫.৬% এবং ৬%। আর বেশি নোট ছাপাতে হওয়ায় এ বাবদ খরচও আলোচ্য সময়ে ২৫% বেড়ে হয়েছে ৬৩৭২ কোটি টাকা। মূলত নোটে তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ কাগজ, কালি এবং সুরক্ষা সংক্রান্ত খরচ বৃদ্ধিই এর কারণ।
রিপোর্টে দাবি, গত বছর বাজারে ৫০০ টাকার নোট ছিল মোট নোটের ৮৬%। ছোট নোটের (১০, ২০ এবং ৫০ টাকার) হার ছিল ৩১.৭%। বেড়েছে কয়েনের পরিমাণও। টাকার অঙ্কে বৃদ্ধির হার ৯.৬% এবং সংখ্যায় ৩.৬%। সাধারণ মুদ্রার পাশাপাশি, সাধারণের ডিজিটাল লেনদেনের জন্য বছরখানেক আগে ই-রুপি এনেছিল শীর্ষ ব্যাঙ্ক। সেই ডিজিটাল মুদ্রাও গত অর্থবর্ষে ৩৩৪% বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে ১০১৬ কোটি টাকায়।
এ দিকে, ছেঁড়া-ফাটা নোট বরাবরই বাজার থেকে তুলে নেয় আরবিআই। তাদের রিপোর্ট বলছে, এ বার সেগুলি দিয়ে পার্টিক্ল বোর্ড তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যেই এ জন্য বোর্ড প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করছে তারা। এমনিতে বিভিন্ন দেশে এই ধরনের নোট বর্জ্য হিসেবে জমি ভরাটের কাজে লাগানো হয় অথবা সেগুলি পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু সেটা পরিবেশবান্ধব নয়। তাই অন্য পথ খুঁজতে এই সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১৫,০০০ টন ফাটা এবং ছেঁড়া নোটের কাগজের মণ্ড তৈরি হয়।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে