IPL 2026

১৮ বছর অপেক্ষার পর টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন, ‘স্বপ্ন দেখতাম আমার শটে দল আইপিএল জিতছে’, স্বীকার কোহলির

ছয় মেরে বেঙ্গালুরুকে দ্বিতীয় বার আইপিএল জিতিয়েছেন। তবে বাড়তি উচ্ছ্বাসে ভাসতে দেখা গেল না বিরাট কোহলিকে। নিজেকে সামলে নিয়ে কথা বললেন সম্প্রচারকারী চ্যানেলে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০০:১৪
Share:

জয়ের পর বিরাট কোহলির হাসি। ছবি: পিটিআই।

মাত্র এক রান দরকার ছিল। কিন্তু ১৯তম ওভারে আরশাদ খানের করা শেষ বল মাঠের বাইরে উড়িয়ে দিলেন তিনি। অহমদাবাদের এক লক্ষাধিক দর্শকের বেশির ভাগই ছিলেন বেঙ্গালুরুর সমর্থক। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন তাঁরা। ম্যাচ জয়ের শট মেরেই হেলমেট খুলে ফেললেন বিরাট কোহলি। দু’দিকে দু’হাত ছড়িয়ে উৎসব করলেন। গ্যালারিতে তখন লাফাচ্ছিলেন স্ত্রী অনুষ্কা শর্মা। বেঙ্গালুরুর টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রাত হয়ে থাকল এ রকমই রঙিন। ম্যাচের পর কোহলি স্বীকার করেছেন, এ বার অতটা চাপ ছিল না তাঁদের। তিনি স্বপ্ন দেখতেন, কোনও দিন তাঁর শটে আইপিএল জিতবে। ট্রফিজয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন গোটা দলকে।

Advertisement

রবিবার আরসিবি যে জিততে পারে, এটা বোঝা গিয়েছিল গুজরাতের ব্যাটিং দেখেই। ফাইনালের মতো চাপের ম্যাচে গুজরাতের ব্যাটারেরা একের পর এক আত্মসমর্পণ করলেন। ফাইনালে জেতার জন্য ১৫৫ রান এখনকার সময়ে একেবারেই লড়াকু স্কোর নয়। তবে আইপিএলে অতীতে চার বার এর চেয়েও কম রান করা দল জিতেছে। ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা বলেই আগে থেকে কিছু বলা যাচ্ছিল না। তবে কোহলি এবং বেঙ্কটেশ আয়ার মিলে শুরুটা যে ভাবে করলেন, ওখানেই ম্যাচের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যায়। তবু বেঙ্গালুরু এক সময় পর পর উইকেট হারানোয় চিন্তা একটু হয়েছিল। সেটাও কাটিয়ে দেন কোহলি।

ছয় মারার পরেই বেঙ্গালুরুর ক্রিকেটারেরা হইহই করে ঢুকে পড়েন মাঠে। কিছুটা উৎসব করার পরেই কোহলির উৎসুক চোখ খুঁজতে থাকে অনুষ্কাকে। দেখতে পাওয়ামাত্রই ছুড়ে দেন তিনটি চুমু। পরে ফোনে কথা বলতেও দেখা গিয়েছে কোহলিকে। ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিয়ে কোহলি বলেন, “সত্যি বলতে, স্বপ্ন দেখছি মনে হচ্ছে। অনেক বার এই মুহূর্তটার কল্পনা করেছি যে, আমরা ট্রফি জিতেছি এবং জয়ের শট আমার ব্যাট থেকে এসেছে। আসলে যে দল রয়েছে তাতে যে কোনও সময়েই আত্মবিশ্বাসী থাকা যায়। ক্রিকেট এখন এমনই হয়ে গিয়েছে যে তরুণ ক্রিকেটারেরা প্রতি মুহূর্তে ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে। প্রতি মুহূর্তে আরও ভাল খেলার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।”

Advertisement

তার আগে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে কোহলি বলেন, “আমি ছেলেদের বলেছিলাম, গত বারের মতো চাপ এ বার নেই। আমরা জানতাম এই দল কী করতে পারে। আমরা লিগে শীর্ষে শেষ করেছিলাম। কী ভাবে খেলেছি সেটা সকলেই দেখেছে। আমরা একটাই কথা নিজেদের মধ্যে বলেছিলাম, যদি নিজেদের মতোই ক্রিকেট খেলতে পারি এবং পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারি তা হলে কেউ আমাদের হারাতে পারবে না। এই কারণেই গ্রুপ পর্বে আমরা এত ভাল খেলেছি। তা ছাড়া এই দলের দক্ষতা, মানসিকতা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তা আজ সকলেই দেখতে পেয়েছে।”

এই দলকে নিয়ে কখনও কি সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। সঞ্চালক অ্যারন ফিঞ্চের প্রশ্নের উত্তরে কোহলি বলেন, “সত্যি বলতে বিরতির পর আমরা দুটো ম্যাচে ধাক্কা খেয়েছিলাম। একটা ম্যাচ হেরেছিলাম। আর একটায় মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে জিতেছিলাম। সেই সপ্তাহটা কঠিন গিয়েছিল আমাদের। কারণ আমরা লিগের শীর্ষে শেষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে জেতার পরেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলাম। তার পর কেকেআরকে সহজে হারাই। শেষ পর্যন্ত লিগেও সকলের আগে শেষ করেছি।”

দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে নিয়ে খুশি। বিশেষ করে গোটা মরসুমে যে ভাবে সকলে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছিলেন, সেটাই খুশি করেছে কোহলিকে। বলেছেন, “অসাধারণ খেলেছে গোটা দল। এত বছর অপেক্ষা করেছি। কিন্তু এই দলটা একত্র হওয়ার পর এখন মাঠে নামলে এটা মনে হয় না যে আমাকেই জেতাতে হবে। আমি জানি যে পিছনে এবং পাশে বাকিরা রয়েছে যারা দলকে জেতাতে পারে। এতগুলো ক্রিকেটার ম্যাচের সেরার পুরস্কার পেয়েছে। হেজ়লউড, ভুবনেশ্বর, ডাফির মতো বিশ্বসেরা বোলারেরা দলে রয়েছে। ক্রুণালের উপর বরাবর ভরসা করা যায়। এ বার রাসিখ দার অসাধারণ খেলেছে। ব্যাটারেরাও নিজেদের মতো অবদান রেখেছে। ভারসাম্য থাকা এই দলটার অংশ হতে পেরে খুব খুশি। এখন আমরা অলরাউন্ড দল। তাই জন্যই মাঠে নামলে আলাদা আত্মবিশ্বাস থাকে।”

মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুর হয়ে গত ১১ বছরে পাঁচটি আইপিএল জিতে ফেললেন ক্রুণাল। তাঁর কথায়, “ট্রফি জেতা নিয়ে দলের মধ্যে কারও মনে সন্দেহ ছিল না। তবে আইপিএলের প্রতিটা ট্রফিই আমার কাছে সন্তানের মতো। আলাদা করে বেছে নেওয়া মুশকিল। ১১ বছরে পাঁচটা ট্রফি জেতা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সাপোর্ট স্টাফদের কৃতিত্ব দেব। এই ট্রফি আরসিবি সমর্থকদের জন্য।”

জিতেশ শর্মা কৃতিত্ব দিয়েছেন দল পরিচালন সমিতি, দীনেশ কার্তিককে। তিনি বলেছেন, “মো বোবাট বলেছিলেন, আমরা ট্রফি রাখতে নামছি। ট্রফি তাড়া করতে নামছি। ওটাই দলের মানসিকতা বদলে দেয়। দল পরিচালন সমিতির কৃতিত্ব প্রাপ্য। ওঁরাই আমাদের চাঙ্গা করেছেন। দীনেশ কার্তিক সাহায্য করেছেন।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement