Work Policy

প্রমাণ ছাড়া আর মিলবে না ‘সিক লিভ’, প্রথম দিন থেকেই লাগবে ‘মেডিক্যাল সার্টিফিকেট’! কড়া সিদ্ধান্ত ইউরোপের দেশে

জার্মান সরকার কর্মক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম এবং ছুটির নীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনার জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। এর ফলে অসুস্থতার প্রথম দিন থেকেই চিকিৎসকের থেকে পাওয়া ‘মেডিক্যাল সার্টিফিকেট’ জমা দিতে হবে কর্মীদের।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৬:৫৫
Share:

ছবি: ফাইল থেকে।

অসুস্থতাজনিত ছুটি নিয়ে কড়া জার্মানি। ইউরোপের দেশটিতে কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ বোধ করলে এখন থেকে হয়তো আর কেবল ফোন বা মেসেজ পাঠিয়ে অসুস্থতার কথা জানাতে এবং ছুটি নিতে পারবেন না কর্মীরা। প্রথম দিন থেকেই দিতে হবে চিকিৎসকের থেকে পাওয়া বৈধ শংসাপত্র বা ‘মেডিক্যাল সার্টিফিকেট’! সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মান সরকার কর্মক্ষেত্রে ছুটির নীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনার জন্য তেমনটাই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। এর ফলে অসুস্থতার প্রথম দিন থেকেই চিকিৎসকের থেকে পাওয়া ‘মেডিক্যাল সার্টিফিকেট’ জমা দিতে হবে কর্মীদের।

Advertisement

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেয়ার্ৎজ় দেশটির অর্থনীতিকে সচল রাখতে শ্রম, কর ও পেনশন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের যে ৩৪ দফা প্রস্তাবনা বা প্যাকেজ তুলে ধরেছেন, তার অংশ হিসাবেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে খবর। মেয়ার্ৎজ়কে উদ্ধৃত করে ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আমরা জানি এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কাজে অনুপস্থিত থাকার ফলে সৃষ্ট প্রতিযোগিতামূলক অসুবিধা আমরা আর মেনে নিতে পারছি না।” মেয়ার্ৎজ় এ-ও জানিয়েছেন, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রেখেই এই উদ্যোগগুলি সংস্থাগুলির উন্নতি, কর্মসংস্থান এবং প্রতিযোগিতার ক্ষমতা বাড়াবে। এ ছাড়া এতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কর কমানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মেয়ার্ৎজ়ের কথায়, “আমরা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর জন্য কাজ করছি। আমরা আমাদের কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা রক্ষার পাশাপাশি কর কমিয়ে কর্মী ও সংস্থাগুলির উপর থেকে বোঝা লাঘবের জন্যও কাজ করছি।”

জার্মান চ্যান্সেলর আরও জানিয়েছেন, সরকার চলতি বছরের শেষে ৩৪-দফা প্যাকেজের মূল বিষয়গুলি পার্লামেন্টে পাস করানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ক্ষমতাসীন জোট সরকার এই অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে একমত হয়েছে, যা দেশের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং উগ্র ডানপন্থীদের উত্থান মোকাবিলার লক্ষ্যে একটি বড় অগ্রগতি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

Advertisement

কর্মক্ষেত্রে নিয়মকানুন ঢেলে সাজার অংশ হিসাবে অন্যান্য শ্রম সংস্কারের পাশাপাশি সংস্থাগুলিকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নতুন কর্মীদের ক্ষেত্রে চার বছর মেয়াদি চুক্তি করার বাড়তি সুযোগ দেওয়া হবে। এ ছাড়াও অত্যন্ত উচ্চ আয়ের কর্মীদের ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ-সহ অন্যান্য বিষয়েও সংস্থাগুলিরে অধিক স্বাধীনতা দেওয়া হবে। মেয়ার্ৎজ়ের কথায়, “আমরা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নমনীয়তা বাড়ানোর জন্য কাজ করছি।”

দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে শ্রম নীতিতে সংস্কার নিয়ে বিশেষজ্ঞদের একাংশ আশাবাদী হলেও, তা জার্মানির চাকরিজীবী মহলে হইচই ফেলেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement