এনএসইএল কাণ্ডে গ্রেফতার জিজ্ঞেস শাহ

ন্যাশনাল স্পট এক্সচেঞ্জ (এনএসইএল) তছরুপ কাণ্ডে গ্রেফতার হলেন অন্যতম অভিযুক্ত জিজ্ঞেস শাহ। তিনি এক্সচেঞ্জটির প্রোমোটার সংস্থা ফিনান্সিয়াল টেকনোলজিস (এফ টি আই এল) এবং পণ্য বাজার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (এমসিএক্স)-এর প্রতিষ্ঠাতা। তার সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয়েছে এমসিএক্সের প্রাক্তন কর্তা শ্রীকান্ত জাভালগেকরকেও। ৫,৬০০ কোটি টাকার এই কেলেঙ্কারিতে এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট এগারো জনকে গ্রেফতার করল মুম্বই পুলিশের ইকনমিক অফেন্স উইং। ধৃতদের বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে তারা। শাহ-র বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অন্যান্যদের সঙ্গে মিলে বেআইনি ভাবে এনএসইএল-কে ব্যাঙ্ক নয় এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো করে চালাচ্ছিলেন।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০১৪ ০২:০১
Share:

গ্রেফতারের পর। ছবি: পিটিআই।

ন্যাশনাল স্পট এক্সচেঞ্জ (এনএসইএল) তছরুপ কাণ্ডে গ্রেফতার হলেন অন্যতম অভিযুক্ত জিজ্ঞেস শাহ। তিনি এক্সচেঞ্জটির প্রোমোটার সংস্থা ফিনান্সিয়াল টেকনোলজিস (এফ টি আই এল) এবং পণ্য বাজার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (এমসিএক্স)-এর প্রতিষ্ঠাতা। তার সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয়েছে এমসিএক্সের প্রাক্তন কর্তা শ্রীকান্ত জাভালগেকরকেও। ৫,৬০০ কোটি টাকার এই কেলেঙ্কারিতে এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট এগারো জনকে গ্রেফতার করল মুম্বই পুলিশের ইকনমিক অফেন্স উইং। ধৃতদের বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

Advertisement

শাহ-র বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অন্যান্যদের সঙ্গে মিলে বেআইনি ভাবে এনএসইএল-কে ব্যাঙ্ক নয় এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো করে চালাচ্ছিলেন। যার ফলে তা সমস্যায় পড়েছে। তা ছাড়া, এনএসইএলে মূলত প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল শাহর সংস্থা এফটিআইএলের। কিন্তু বাজারের লেনদেনের পরিমাণকে নিজের সংস্থার ব্যবসা ও মুনাফার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে ফেলেন শাহ। মূলত এই দুই নিয়ম ভাঙার কারণে লগ্নিকারীদের ৫,৬০০ কোটি টাকা ফেরানো যায়নি বলে পুলিশের অভিযোগ।

এ দিন এই দুই কর্তা গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে এনএসইএলের প্রায় ১৩,০০০ লগ্নিকারীর সংগঠন। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত টাকা ফেরত পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে তারা। অন্য দিকে, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবারই পরিচালন পর্ষদের বৈঠক ডেকেছে এফটিআইএল। পাশাপাশি, এফটিআইএল কোনও স্টক এক্সচেঞ্জ চালানোর যোগ্য নয়, সেবির এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আদালত (স্যাট)-এ যাওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।

Advertisement

উল্লেখ্য, স্পট এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেনের সময় আইন ভাঙা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্তের জন্য গত বছর জুলাইয়ে সেখানে সব ধরনের কেনা-বেচা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র। যার পরই সেবি, পণ্য বাজার নিয়ন্ত্রক এফএমসি ও বিভিন্ন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তে নামে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দফায় দফায় জিজ্ঞেস শাহ-সহ এফটিআইএল এবং তার শাখা সংস্থার বহু কর্তাকে জেরা করে পুলিশ। এনএসইএলের প্রাক্তন কর্তা অঞ্জনি সিংহ, অমিত মুখোপাধ্যায় প্রমুখকে গ্রেফতার করলেও, তখন জিজ্ঞেস শাহকে গ্রেফতার করেনি তারা।

এক সময় বিএসই-র স্বয়ংক্রিয় লেনদেন চালুর অন্যতম কারিগর জিজ্ঞেসের উত্থান বেশ চমকপ্রদ। প্রথম প্রজন্মের উদ্যোগপতি হিসেবে ১৯৮৮ সালে তিনি তৈরি করেন নিজের সংস্থা এফটিআইএল। এর পর তাঁর হাত ধরেই ২০০৩ সালে চালু হয় পণ্য বাজার এমসিএক্স। গত দশকের শেষের দিকে এফটিআইএলের শাখা হিসেবেই স্পট লেনদেন শুরু করে এনএসইএল। চালু হওয়ার চার বছরের মধ্যেই ২০১২-এ সমস্যায় পড়ে স্পট এক্সচেঞ্জটি। তারা নিয়ম লঙ্ঘন করেছে বলে শোকজ নোটিস পাঠায় কেন্দ্র। শেষে গত বছর এই কেলেঙ্কারিতে এফআইআর দায়ের করা হয় শাহের বিরুদ্ধে। ৭ মাস তদন্তের পর শেষ পর্যন্ত নিজেদের হেফাজতে রেখে জেরা করতেই এ দিন তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement