মোদীর সোনা জমা প্রকল্পে মাত্র ৪০০ গ্রাম

বাড়ি, লকার বা মন্দির, সরকারি হিসাব বলছে সব মিলিয়ে গোটা দেশে অলস ভাবে পড়ে ২০ হাজার টন সোনা। যার দাম ৫২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। অথচ এ মাসের ৫ তারিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে চালু হওয়া সোনা জমা প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত সংগৃহীত হয়েছে সাকুল্যে ৪০০ গ্রাম।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৫ ০২:২১
Share:

বাড়ি, লকার বা মন্দির, সরকারি হিসাব বলছে সব মিলিয়ে গোটা দেশে অলস ভাবে পড়ে ২০ হাজার টন সোনা। যার দাম ৫২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। অথচ এ মাসের ৫ তারিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে চালু হওয়া সোনা জমা প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত সংগৃহীত হয়েছে সাকুল্যে ৪০০ গ্রাম।

Advertisement

বৃহস্পতিবার এ কথা জানানো হয়েছে জেম অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের (জিজেইপিসি) তরফে। ফলে বহু ঢাকঢোল পিটিয়ে বাজারে আনা প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত কতটা সাফল্যের মুখ দেখবে তা নিয়েই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, প্রকল্পের গতি এতটা শ্লথ দেখে ইতিমধ্যেই তার নিয়ম-কানুন সহজ করতে মাঠে নেমেছে অর্থ মন্ত্রক ও ভারতীয় মানক ব্যুরো (বিআইএস)।

জিজেইপিসি-র উত্তরাঞ্চলের চেয়ারম্যান অনিল শঙ্খওয়াল বলেছেন, সোনা কম সংগৃহীত হওয়ার অন্যতম কারণ হাতে গোনা কয়েকটি কেন্দ্রে তা জমা নেওয়া ও শুদ্ধতা পরীক্ষা করা। তাঁর দাবি, ‘‘দেশে ১৩ হাজার বিআইএস স্বীকৃত গয়না ব্যবসায়ীকে সোনা জমার এজেন্ট ‌হতে অনুমতি মিললে প্রকল্পটি ভাল ভাবে এগোবে বলে আশা।’’

Advertisement

এ দিন কেন্দ্রীয় অর্থনীতি বিষয়ক সচিব শক্তিকান্ত দাসের সঙ্গে দেখা করে আরও বেশি পরীক্ষা কেন্দ্র খোলা নিয়ে কথা বলেছেন শিল্পমহলের প্রতিনিধিরা। যেখানে গয়না শিল্পমহলের পাশাপাশি ছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, বিআইএস, এমএমটিসি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরাও। রফতানিকারী সংস্থা ও বিশেষ আর্থিক অঞ্চলগুলির এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও পিপি জুয়েলার্সের সিইও রাহুল গুপ্ত জানান, অর্থ মন্ত্রকের কাছে বিআইএস স্বীকৃত সমস্ত গয়না ব্যবসায়ীকে সোনা সংগ্রহের এজেন্ট করার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।

মন্ত্রকের তরফে ইঙ্গিত, ডিসেম্বরের মধ্যেই শুদ্ধতা পরীক্ষার কেন্দ্র এখনকার ২৯টি থেকে বাড়িয়ে করা হবে ৫৫টি। আর সোনা গলানোর কেন্দ্র ৪টি থেকে বেড়ে হবে ২০টি। পাশাপাশি শঙ্খওয়ালের দাবি, দাসও ইতিমধ্যেই বিআইএস-কে গয়না ব্যবসায়ীদের এজেন্ট হিসেবে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত সারতে বলেছেন।

Advertisement

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রের আনা গোল্ড মানিটাইজেশন স্কিম (জিএসএম), ২০১৫ বা সোনা জমা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য, সাধারণ মানুষ যাতে ঘরে বা লকারে পড়ে থাকা সোনা ব্যাঙ্কে জমা রেখে নিখরচায় সুদ খাতে সোনা আয় করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে এতে দেশের ভাল হবে বলে মনে করছে সরকার। কারণ, পুরনো সোনা নতুন করে কাজে লাগানো সম্ভব হলে আমদানির খরচ কমানো যাবে। এ ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন মন্দিরে পড়ে থাকা রাশি রাশি সোনাও প্রকল্পের নিশানায় আছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement