কলকাতায় ব্যালেনো প্রদর্শনে সঞ্জীব হান্ডা।
‘ব্যালেনো’ গাড়িটি জাপানে রফতানি করবে মারুতি -সুজুকি ইন্ডিয়া। এই প্রথম ভারতের কারখানায় তৈরি কোনও গাড়ি সুজুকির সদর দফতর জাপানের বাজারে রফতানি করবে ভারতের বৃহত্তম গাড়ি সংস্থাটি।
ভারতের ছোট ও কম দামি গাড়ির বাজারের প্রতিযোগীদের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও দামি গাড়ির বাজারে সে ভাবে কৌলিন্য পায়নি মারুতি-সুজুকি। সেই লক্ষ্যে এ বার উদ্যোগী সংস্থাটি। দামি ও আধুনিক নানা বৈশিষ্ট্যের সুবিধা-সহ গাড়ি তৈরির পাশাপাশি সেগুলি বিক্রির জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের শো-রুম ‘নেক্সা’ গড়েছে তারা। নেক্সায় বিক্রির জন্য প্রথম গাড়ি এস-ক্রসের পরে এ বার তাদের বাজি ব্যালেনো। সোমবার ভারতের বাজারে গাড়িটি বিক্রির জন্য আনল মারুতি-সুজুকি।
সেই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দিল্লি ও কলকাতায় সংস্থার এমডি-সিইও কেনিচি আয়ুকায়া ও ভাইস প্রেসিডেন্ট (বিপণন) সঞ্জীব হান্ডা জানান, জানুয়ারি থেকে ১০০টি দেশে রফতানি হবে ব্যালেনো। সেই তালিকাতেই রয়েছে জাপানও। গোড়ায় বছরে অন্তত ৩০ হাজার ব্যালেনো রফতানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তাঁদের।
দীর্ঘ দিন আগে ব্যালেনো নামে একটি সেডান গাড়ি থাকলেও নতুন গাড়িটি আনকোরা ‘হ্যাচব্যাক’। হান্ডা জানান, ব্যালেনোর অর্থ আলোর ঝলকানি। বস্তুত, এই গাড়িটির হাত ধরেই ছোট কিন্তু দামি গাড়ির বাজারে আশার আলো দেখতে চাইছে সংস্থা। এখন কলকাতায় গাড়িটির পেট্রোলচালিত সংস্করণের দাম পড়ছে প্রায় ৫.২৪ লক্ষ টাকা থেকে ৭.০৫ লক্ষ টাকা। ডিজেল গাড়ির দাম পড়বে ৬.৪৪ লক্ষ টাকা থেকে ৮.৪৪ লক্ষ টাকা।
ভারতের দামি গাড়ির বাজারে হুন্ডাই-এর ‘এলিট আই ২০’, হোন্ডার ‘জ্যাজ‘ এবং ফোক্সভাগেনের ‘পোলো’-র সঙ্গে টক্কর দিতে ব্যালেনো-কে হাতিয়ার করছে মারুতি। কিন্তু এটি সংস্থার অন্য গাড়ি সুইফট-এরই প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে না? কর্তাদের দাবি, সেই আশঙ্কা কম। কারণ দু’টি দু’ধরনের গাড়ি। ব্যালেনো-র ক্ষেত্রে আধুনিক বৈশিষ্ট্য অনেক বেশি। যেমন এয়ারব্যাগ বা এবিএস-এর মতো সুবিধা গাড়িটির সব সংস্করণেই মিলবে।
হান্ডা জানান, সারা দেশে এ পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি এস-ক্রস বিক্রি করেছে সংস্থা। মারুতি-সুজুকির পূর্বাঞ্চলীয় কর্তারা জানিয়েছেন, এখানে সে সংখ্যা ৭৫০টির বেশি।