প্রবন্ধ ২

ন’টি ড্যাশ নিয়ে চিনের সাগর সরগরম

ভা রী দুষ্টু ছেলে। সুযোগ পেলেই পড়শিদের ওপর উৎপাত চালায়। পড়শিরা নাজেহাল। পাড়ার দাদা-কাকারা বিস্তর বুঝিয়েছে। কোনও লাভ হয়নি। শেষে এক দিন বাধ্য হয়ে তারা দলবেঁধে নালিশ ঠুকল ছেলের অভিভাবকদের কাছে।

Advertisement

পৌলমী দাস চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০০:০০
Share:

ভা রী দুষ্টু ছেলে। সুযোগ পেলেই পড়শিদের ওপর উৎপাত চালায়। পড়শিরা নাজেহাল। পাড়ার দাদা-কাকারা বিস্তর বুঝিয়েছে। কোনও লাভ হয়নি। শেষে এক দিন বাধ্য হয়ে তারা দলবেঁধে নালিশ ঠুকল ছেলের অভিভাবকদের কাছে। এ বছরের ১২ জুলাই সেই রায় বেরোল। অভিভাবকরা সারা পৃথিবীর সামনে ছেলেটিকে বেশ খানিক দাবড়ে কড়া গলায় জানালেন, সে মোটেই ঠিক কাজ করছে না। বেয়াড়া ছেলে বুক ফুলিয়ে বলল, যা করেছি বেশ করেছি। আবার করব।

Advertisement

চিনের হাবভাব অনেকটা এ-রকমই। আন্তর্জাতিক আইনকে বিশেষ পাত্তা না দিয়ে সে দাবি করে আসছে, দক্ষিণ চিন সাগরের বেশির ভাগ অংশই ঐতিহাসিক ভাবে তার। এই দাবিতে বিস্তর আপত্তি দক্ষিণ চিন সাগর-লাগোয়া ফিলিপিন‌্স, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ব্রুনেই-এর মতো পড়শি দেশগুলির। বেজিংয়ের কর্তারা তাতে কান দিতে নারাজ। চিনের এই আচরণ ক্রমে এক আন্তর্জাতিক সমস্যার চেহারা নিয়েছে, এবং অনেক পক্ষকে জড়ো করেছে। শেষ পর্যন্ত দ্য হেগ-এর আন্তর্জাতিক আদালতে নালিশ ঠুকেছিল ফিলিপিন‌্স। ১২ জুলাই আদালত চিনের ‘ঐতিহাসিক’ দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, চিন যে সমস্ত প্রস্তরখণ্ডকে (যাদের কয়েকটি শুধু ভাটার সময়ই জেগে ওঠে) নিজের বলে দাবি করে আসছে, তারা আঞ্চলিক দাবির ভিত্তি হতে পারে না এবং এই জলভাগের কিছু অংশ ফিলিপিন‌্স-এর নিজস্ব এলাকার মধ্যে পড়ে, সেখানে মাছ ধরা ও পেট্রোলিয়াম তোলার ব্যবস্থা করে, কৃত্রিম দ্বীপ বানিয়ে চিন ফিলিপিন‌্স-এর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করেছে।

সম্প্রতি জি-২০ শীর্ষবৈঠকের ঠিক আগে আমেরিকাও ‘দক্ষিণ চিন সাগরে পড়শি দেশদের উত্ত্যক্ত করা বন্ধ না করলে ফল ভুগতে হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তার পরে ‘আসিয়ান’ দেশগোষ্ঠীর বৈঠকেও দক্ষিণ চিন সাগর নিয়ে চিন সমালোচিত হয়েছে। কিন্তু কী বা তাতে এসে গেল! চিন ফিলিপিন্‌স-এর প্রায় নাকের ডগায় বেশ কিছু জলযান মোতায়েন করেছে, আসিয়ান-এ ওবামার বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘বহিরাগত’ দেশ যে ভাবে দক্ষিণ চিন সাগর নিয়ে কথা বলার জন্য ইস্ট-এশিয়া সামিটকে বেছে নিয়েছে, তা অ-সময়োচিত এবং অনুপযুক্ত। এবং মাত্র ক’দিন আগে রাশিয়াকে সঙ্গী করে ওই দক্ষিণ চিন সাগরেই যৌথ মহড়ায় নেমে আমেরিকা ও তার সঙ্গী দেশদের দিকে মোক্ষম বার্তাও পাঠিয়েছে।

Advertisement

নাইন ড্যাশ লাইন

এক অর্থে, চিনের এই দখলদারির শুরু ১৯৪৭ সালে। তখন দেশের নাম রিপাবলিক অব চায়না। তার প্রকাশিত এক ম্যাপে দক্ষিণ চিন সাগরের একাংশে ড্যাশ লাইন-এর আবির্ভাব ঘটল। ছোট ছোট ড্যাশ দিয়ে তৈরি অনেকটা ইংরেজি ইউ-এর মতো একটি রেখা। চিনের বক্তব্য, এই রেখা দিয়ে ঘেরা অংশটা তার। ড্যাশ কেন? চিনের বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা সামুদ্রিক সীমারেখা, স্থলভূমিতে আঁকা নয়। ফলে একটি নির্দিষ্ট একটানা রেখা আঁকা অসম্ভব। প্রথমে ছিল ‘ইলেভন ড্যাশ লাইন’। ১৯৪৭ সালেই সরকারি ভাবে, এই রেখার মধ্যের প্রস্তরখণ্ড আর দ্বীপগুলোকে একসঙ্গে নাম দেওয়া হয় ‘ম্যাপ অব সাউথ চায়না সি আইল্যান্ডস’। এর মধ্যে ছিল প্যারাসেল আইল্যান্ডস, স্প্র্যাটলি আইল্যান্ডস, ম্যাকক্লেসফিল্ড ব্যাংক এবং স্কারবরো শোল। এর দু’বছর পরে চিনে ক্ষমতায় আসে কমিউনিস্ট পার্টি। তারাও এই একই ম্যাপ ব্যবহার করতে থাকে। পঞ্চাশের দশকে চিন ‘গাল‌্ফ অব টংকিন’কে ভিয়েতনামের হাতে তুলে দেওয়ার ফলে দুটি বিন্দু খসে এটি হয় নাইন ড্যাশ লাইন। ১৯৭০-এর দশকে বেজিং প্যারাসেল আইল্যান্ডস থেকে দক্ষিণ ভিয়েতনামের নৌবাহিনীকে হঠিয়ে নিজের মুঠো শক্ত করে। এর পরের কয়েক বছরে স্প্র্যাটলি আইল্যান্ডসের অন্তত সাতটি ভৌগোলিক অঞ্চল তার দখলে আসে। ২০০৯ সালের মে মাসে চিন রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে ম্যাপটি পেশ করে নিজের দাবি প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। ২০১৩ সালে চিন আবার একটি টেন ড্যাশ লাইন ম্যাপকে সামনে এনেছে। অবশ্য এই নয়া ড্যাশটি তাইওয়ানের পূর্বে, দক্ষিণ চিন সাগরে নয়।

Advertisement

নাইন ড্যাশ লাইন নিয়ে চিনের দাবিটা ঠিক কী? এর তিনটি দিক তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। ১) লাইনের মধ্যের ভৌগোলিক অঞ্চল, অর্থাৎ প্রস্তরখণ্ড এবং দ্বীপের ওপর সার্বভৌমত্ব, ২) এই ভৌগোলিক অঞ্চল-লাগোয়া জলের ওপর সার্বভৌম অধিকার এবং ৩) চিনের সীমানা থেকে ১৫০০ কিলোমিটার দূর অবধি সমুদ্রে মাছ ধরা, জাহাজ চলাচল এবং খনিজ সম্পদের ওপর চিনের ঐতিহাসিক অধিকার। সবচেয়ে বড় গোল বেধেছে ওই ‘ঐতিহাসিক অধিকার’ ঘিরে। আন্তর্জাতিক আইন ‘ঐতিহাসিক দাবি’র তত্ত্ব স্বীকার করে না। তার ওপর এই অঞ্চলে অন্যদের দাবি প্রায় উড়িয়ে চিনের আগ্রাসী পদক্ষেপ দেখে মোটের ওপর তাদের সকলেরই বক্তব্য, চিন বেআইনি ভাবে গোটা দক্ষিণ চিন সাগরকে কবজা করতে চাইছে। বিশেষ করে, চিনের এ দাবি ‘ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অব দ্য ল’জ অব দ্য সি’-র পরিপন্থী।

দক্ষিণ চিন সাগরের বেশির ভাগটাই দখল করার অভিযোগ চিনের বিরুদ্ধে। (ম্যাপটি স্কেল অনুযায়ী নয়)

দক্ষিণ চিন সাগর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট দ্বীপ, প্রবাল প্রাচীর, বালির চরকে লাগোয়া দেশগুলির নিজের দখলে আনার লড়াই কিন্তু বেশ পুরনো। কারণ, এই অঞ্চলের অবস্থান আর প্রাকৃতিক সম্পদ। এখানে খনিজ তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাসের এক বিরাট ভাণ্ডার রয়েছে বলে অনুমান, যেখানে এখনও মানুষের হাত পৌঁছয়নি। আবার, প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য আর বাণিজ্যিক প্রয়োজনে মাছ ধরার জন্য ফিলিপিন‌্স, মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ ভিয়েতনাম-লাগোয়া স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ চমৎকার জায়গা। তা ছাড়া, পাঁচ ট্রিলিয়ন (লক্ষ কোটি) ডলারের বিশ্ব-বাণিজ্য যাতায়াত করে এই পথ দিয়ে। এমন জায়গাকে নিজের তাঁবে আনার লোভ সামলানো মুশকিল। ফলে দেশগুলোও কিছু কিছু অঞ্চল নিজের বলে দাবি করেছে এবং সেখানে যে যার মতো করে অর্থনৈতিক কাজকর্ম চালাতে চেয়েছে। সমস্যা, চিন এ যাবৎ অন্য দেশের দাবিকে উড়িয়ে তাদের কাজে অনবরতই বাগড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই দড়ি টানাটানি থামাতেই চিন, ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন‌্স এবং ভিয়েতনাম বছর পাঁচেক আগে একগুচ্ছ নির্দেশিকা তৈরি করেছিল। কিন্তু এতে সামুদ্রিক পরিবেশের সুরক্ষা, বৈ়জ্ঞানিক গবেষণা, জাহাজ চলাচলের সুরক্ষার মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকলেও তেল এবং গ্যাস নিয়ে কোনও স্পষ্ট নীতি নেওয়া হয়নি। ফলে, অশান্তিও কমেনি।

তা ছাড়া চিনের সাম্প্রতিক কাজকর্ম এই অশান্তিকে আরও খানিক উসকে দিয়েছে। স্যাটেলাইট-পাঠানো ছবিতে দেখা গেছে, দ্বীপের আয়তন বাড়িয়ে, কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে দক্ষিণ চিন সাগরে কী ভাবে জমি উদ্ধারে নেমেছে চিন। শুধু তা-ই নয়, এই অঞ্চলে যে ভাবে সামরিকীকরণের উদ্যোগ সে নিয়েছে, তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছে পড়শি দেশগুলো। গত কয়েক বছর ধরে সে বিতর্কিত স্প্র্যাটলি আইল্যান্ডস-এ তার দখল করা এলাকায় ব্যাপক ভাবে নির্মাণ কাজ এবং পরিকাঠামো তৈরিতে হাত দিয়েছে। এই অঞ্চলে তিনটি এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করা হয়েছে। অন্য দিকে, প্যারাসেল আইল্যান্ডস-এর মধ্যে উডি আইল্যান্ডে মোতায়েন হয়েছে ফাইটার জেট, ক্রুজ মিসাইল। তৈরি হয়েছে অত্যাধুনিক রেডার সিস্টেম। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ফিলিপিন‌্স, ভিয়েতনামের মতো দেশ তাদের সার্বভৌমত্ব হারানোর আশংকায় ভুগছে। আন্তর্জাতিক আদালতে নালিশ ঠোকার পিছনে মুখ্য কারণ এটাই।

মার্কিন উদ্বেগ

আমেরিকার সঙ্গে দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের সরাসরি কোনও স্বার্থ সংঘাত নেই। তা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে এই অঞ্চল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচাপ বাড়িয়েছে। ২০১২ সাল নাগাদ চিন ফিলিপিন‌্স-এর দাবিকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে স্কারবরো শোল দখল করে নেয়। সেই স্কারবরো শোল, যেখানে মার্কিন সামরিক বাহিনীরও প্রবেশাধিকার আছে। ফিলিপিন‌্স-এর পরে ভিয়েতনাম। সে দেশের উপকূল থেকে ১২০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে চিনের তেল খননকে কেন্দ্র করে দুই দেশের টেনশন চরমে ওঠে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই দুই দেশের সম্পর্কই যথেষ্ট ভাল জায়গায় দাঁড়িয়ে। ফলে, বারুদ জমা ছিলই। স্প্র্যাটলি আইল্যান্ডস-এর মতো বিতর্কিত জায়গায় চিনের বেপরোয়া হাবভাব তাতে দেশলাই কাঠি ছোঁয়ানোর কাজটা করে দিয়েছে মাত্র। অথচ, এই চিনেরই প্রেসিডেন্ট গত বছর মার্কিন সফরে গিয়ে আশ্বাস দিয়ে এসেছেন যে, দক্ষিণ চিন সাগরকে সামরিকীকরণের কোনও উদ্দেশ্য নাকি চিনের নেই। মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

আমেরিকার চিন্তা স্বাভাবিক। এশিয়ায় কমিউনিস্ট চিন অমিত শক্তির অধিকারী হয়ে উঠলে তাদের দুনিয়াজোড়া খবরদারি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সুতরাং, জল মাপতে তারা গত বছর অক্টোবরে একটি মিসাইল ডেস্ট্রয়ার পাঠায় চিনের তৈরি এক কৃত্রিম দ্বীপের খুব কাছে। কারণ হিসেবে অবশ্য সরকারি ভাবে জানানো হয়, সে ‘ফ্রিডম অব নেভিগেশন’-এ বিশ্বাসী। দেশের স্বার্থেই সে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার পক্ষপাতী। তবে চিঁড়ে তাতে ভেজেনি। আমেরিকার এই ‘নাক গলানো’কে চিন ব্যাখ্যা করেছে কার্যত চিনের ওপর আক্রমণ হিসেবে। সঙ্গে হুঁশিয়ারি, আমেরিকা যেন কোনও ভাবেই দক্ষিণ চিন সাগরকে ‘আন্তর্জাতিক বিষয়’ না বানায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব অ্যাশটন কার্টার অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন তাদের অনুমতি দেবে, সেখানেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার উপস্থিতি জানান দেবে। দক্ষিণ চিন সাগর এর ব্যতিক্রম নয়।

এবং ভারত

এই মুহূর্তে এশিয়ায় চিনকে থামাতে ভারতের সাহায্য আমেরিকার প্রয়োজন। সে খোলাখুলিই জানিয়েছে, এশিয়া প্যাসিফিক এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের আগ্রাসন রুখতে নয়াদিল্লিই এখন ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় বন্ধু। অ্যাশটন কার্টার ঘন ঘন এ তল্লাটে যাতায়াত শুরু করেছেন। ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়াকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ মহড়ার সঙ্গে যৌথ নজরদারির প্রস্তাবও দিয়েছেন। দক্ষিণ চিন সাগরে ভারতের নিজস্ব কোনও দাবি নেই। তবে, এই অঞ্চলে ভারতও আমেরিকার মতোই ‘ফ্রিডম অব নেভিগেশন’ নীতিতে বিশ্বাসী। সেটা খুব স্বাভাবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের বহির্বাণিজ্যের পঞ্চাশ শতাংশেরও বেশি এই জলপথে যাতায়াত করে। তাই চিনের দখলদারি নিয়ে ভারতের নিশ্চিন্তে বসে থাকার উপায় নেই। তা ছাড়া, এই দক্ষিণ চিন সাগরেই ভিয়েতনামের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ওএনজিসি-র যৌথ তেল উত্তোলন প্রকল্পে চিন এক সময় আপত্তিও তুলেছে। সাধারণ ভাবে, চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খুব একটা ভাল জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই। সুতরাং পোড়খাওয়া আমেরিকা যে শত্রুর শত্রুকে তোয়াজ করার রাস্তায় হাঁটবে, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement