রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনায় গুজরাতের বিজেপি সাংসদ বাবুভাই দেশাই বক্তৃতা করছিলেন। বিজেপির সাংসদরা গা এলিয়ে বসে। গল্পগুজব চলছে। কেউই বক্তৃতায় মন দিচ্ছেন না। অথচ তিনি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন নরেন্দ্র মোদীর কাজের প্রশংসা করছিলেন। কিছুক্ষণ পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যসভায় আসবেন বক্তৃতা দিতে। অপেক্ষা চলছে। প্রধানমন্ত্রী এলেন। জয়ধ্বনি হল। সবাই তটস্থ। এ বার সবাই বাবুভাইয়ের কথা মনে দিয়ে শুনলেন। প্রতিটি বাক্যে টেবল চাপড়ানো শুরু হল। বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় বিজেপি শিবিরকে এ নিয়ে কটাক্ষ ছুড়লেন কংগ্রেসের রাজীব শুক্ল। তিনি মনমোহন সরকারের প্রশংসা করায় বিজেপি সাংসদরা ফুট কাটছিলেন। রাজীব ঠান্ডা গলায় বললেন, “বিরক্ত করবেন না। প্রধানমন্ত্রী এখন মধ্যাহ্নভোজনে গিয়েছেন। উনি টিভিতে আপনাদের উপর নজরদারি করছেন না। তাই কাজ দেখিয়ে লাভ নেই।”
বক্তৃতা: বাজেট অধিবেশনের সময় রাজ্যসভায় বক্তব্য পেশ করছেন রাজীব শুক্ল।
দেশপ্রেমী লিফ্ট
‘বন্দে মাতরম্’-এর দেড়শো বছর উপলক্ষে একাধিক পদক্ষেপ করেছে বিজেপি। জাতীয় সঙ্গীতের আগে গাইতে হবে ওই গান বলে ফরমান জারি করেছে মোদী সরকার। এ ছাড়া গানের দেড়শো বছর পূর্তিতে সংসদে বিশেষ আলোচনা, দেশভর সভা-সম্মেলন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। যদিও বিরোধীদের মতে, যে দলের নেতারা সংসদে আলোচনার সময়ে বন্দে মাতরম্-কে বন্দে ভারত বলে বসেন, তাঁদের আসলে গোটাটাই লোক দেখানো। যদিও দল যে বন্দে মাতরম্ প্রশ্নে কতটা আন্তরিক তা বোঝাতে দিল্লিতে দলের সদর দফতরের লিফ্ট-এর দরজা বন্ধ হলেই ভেসে আসছে বন্দে মাতরম্-এর সুর। দলের বক্তব্য, লিফ্ট মনে করিয়ে দেবে, বন্দে মাতরম্-এর দেড়শো বছর পূর্তি চলছে।
সামনাসামনি
সংসদ চত্বরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন দুই মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও প্রহ্লাদ জোশী। রাহুল গান্ধী সব ভুল বলেছেন বলে দাবি করছিলেন। এরই মধ্যে সেখানে রাহুল গান্ধী হাজির। সঙ্গে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা ও অন্যান্য কংগ্রেস সাংসদ। রাহুলকে দেখেই দুই মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে থেকে সরে গেলেন। রাহুল তাঁদের হাত টেনে ধরে বললেন, আসুন এক সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়াই। কিন্তু মন্ত্রীরা এক সেকেন্ডও দাঁড়াতে রাজি নন। রাহুল মজা করে বললেও মন্ত্রীদের মুখে হাসিও ফুটল না। রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা নিয়ে বিতর্কে রাহুল গান্ধীকে বলতে না-দেওয়ায় লোকসভা অচল ছিল। শেষে গত বুধবার বাজেট নিয়ে বিতর্কে অংশগ্রহণ করে রাহুল গান্ধী মোদী সরকারকে নিশানা করেন। ঠিক তার পরের ঘটনা।
ভোটের মোয়া
ভোটের মরসুম। সব দলেই টিকিটের জন্য দরবার করতে ভিড় জমাচ্ছেন প্রার্থীরা। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কলকাতা-দিল্লির বাড়িতে উপচে পড়ছে টিকিট-প্রার্থী উমেদারদের ভিড়। এক উৎসাহী এসেছেন বায়োডেটা নিয়ে। তিনি জয়নগরের বাসিন্দা। শমীকের দফতরের কর্মী বললেন, “এসেছেন ভাল কথা। কিন্তু মোয়া কই!” কিছুটা ভ্যাবাচাকা খেয়ে উৎসাহী বললেন, “পরের বার আনব।”
আরও একটু বলব
বেলডাঙা কাণ্ডে রাজ্য সরকারের আইনজীবী হিসাবে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করার পর পোশাক বদলে এসে সংসদে ঢুকে বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় বক্তৃতা শুরু করলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয় রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা। সে সময় লোকসভায় সভাপতিত্ব করছিলেন বিজেপির জগদম্বিকা পাল। সময় শেষ হয়ে যাওয়ামাত্র তিনি কল্যাণকে বলেন, “এ বার বক্তৃতা শেষ করুন।” কল্যাণ বললেন, “আপনি তো বাইরে আমাকে ‘ডার্লিং’ সম্বোধন করেন। তা হলে ‘ডার্লিং’কে আর একটু সময় দিন।”
ব্যস্ত: একটি শুনানির শেষে কল্যাণ।
বায়ুশোধনের জন্য
রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়েছে। মন্ত্রী, আমলা, বিচারপতিদের দফতরে এয়ার পিউরিফায়ার-এর সংখ্যাও বেড়েছে। আগে দিল্লিতে গরমকালে এয়ার কুলার বা এসি আর শীতকালে রুম হিটার নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকায় পড়ত। এখন তালিকায় যোগ হয়েছে এয়ার পিউরিফায়ার। কেন্দ্রীয় পূর্ত দফতরের হিসাবে, ২০২১ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে আটশোর বেশি এয়ার পিউরিফায়ার কেনা হয়েছে। বসেছে মন্ত্রী, আমলা, বিচারপতিদের দফতরে। অবশ্য বায়ুদূষণের সমস্যার সমাধান হয়নি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে