থাকারই জায়গা নেই, প্রার্থনাস্থল তো বিলাসিতা! প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজ়ার বাসিন্দাদের অবস্থাটা এখন এমনই। ইবাদতের মাস রমজ়ান শুরু হয়েছে, কিন্তু ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যে নমাজটুকু পড়বেন, সেই জায়গাও অমিল। প্যালেস্টাইনি সরকারের হিসাবমতে, ইজ়রায়েলের হানায় গাজ়ায় ৮৩৫টি মসজিদ ধূলিসাৎ, ১৮০টি ক্ষতিগ্রস্ত, এমনকি চার্চ, সমাধিস্থল, কবরস্থানও রেহাই পায়নি। কিন্তু মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া কেন? ইজ়রায়েল বলছে, প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যেরা মসজিদ-সহ নানা জনপরিসরে ঘাঁটি গেড়ে আছে, তাই ‘কিছু করার নেই’। গাজ়ায় আল হাসাইনা মসজিদের গম্বুজটুকু মাথা উঁচিয়ে, বাদবাকি ভগ্নস্তূপ। একদা হাজারো মানুষ একত্রে নমাজ পড়তেন, কুশল বিনিময় করতেন, আজ একশো মানুষ জমায়েতও কঠিন। মানুষগুলোও কি আর আছে? মসজিদ চত্বরেই ত্রিপল, প্লাস্টিক, ইট-কাঠ দিয়ে তাঁবু খাটিয়ে থাকছেন সবাই; তার মধ্যেই নমাজ পড়ার জায়গাও তৈরি করে নিচ্ছেন। চারশোরও বেশি এমন অস্থায়ী প্রার্থনাস্থল গড়া হয়েছে নানা জায়গায়।
এখনও: গাজ়ার এক ভগ্ন মসজিদে প্যালেস্টাইনিদের নমাজ, নভেম্বর, ২০২৫। ছবি: পিটিআই।
ভবিষ্যতের প্রশ্নে
পুরুষেরা যুদ্ধ করছেন, নারীরাও। অনেকেই মৃত। তার জেরে জনসংখ্যা-বিপর্যয়ের সম্মুখীন ইউক্রেন, ভবিষ্যৎ-প্রজন্ম নিয়ে চিন্তায় সরকার। ২০২২-এ রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের শুরুতে অসরকারি ‘ফার্টিলিটি ক্লিনিক’গুলি সামরিক কর্মীদের ‘ক্রায়োপ্রিজ়ার্ভেশন’ পরিষেবা দেওয়া শুরু করে। পাছে তাঁরা যুদ্ধে আহত হন, বা প্রজনন-ক্ষমতায় প্রভাব পড়ে, তা মাথায় রেখে এই ব্যবস্থায় বিনামূল্যে শুক্রাণু বা ডিম্বাণু হিমায়িত করে রাখা যাচ্ছিল। ব্যাপারটা গোড়ায় মানুষের মনে তত ধরেনি, আইনি জটিলতাও দেখা দেয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে একে আরও জনপ্রিয় করতে সচেষ্ট সরকার।
আর নয়
যৌন ও লিঙ্গপরিচয় বা শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কেউ যদি অপরাধের লক্ষ্যবস্তু হন, সেই ‘ঘৃণা-অপরাধ’কে গুরুতর গণ্য করা হবে, তার শাস্তি হবে আরও বেশি: সিদ্ধান্ত হয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস-এ। সরকার ‘ক্রাইম ও পুলিশিং বিল’ সংশোধন করতে চাইছে। লেবার পার্টির সাংসদ র্যাচেল টেলর জানিয়েছেন, ২০২৪-এর মার্চ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ভিন্ন যৌনতায় বিশ্বাসী ও বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের বিরুদ্ধে ৩০ হাজারেরও বেশি ঘৃণামূলক অপরাধ হয়েছে। পার্লামেন্টের হাউস অব লর্ডস-এ বিল পাশ হচ্ছে, আইন হয়নি এখনও। অপরাধ ও অসামাজিক আচরণ মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ।
কাঠগড়ায়
ডিজিটাল ভুবনে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা নিয়ে বিশ্ব তোলপাড়। ছোটদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি বিবেচনা করছে অস্ট্রেলিয়া-সহ বহু দেশই। আমেরিকার ফ্লরিডায় সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলিকে চোদ্দো বছরের কমবয়সিদের অ্যাকাউন্ট খুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, চাপে পড়ছে সংস্থাগুলি। ক্যালিফোর্নিয়ায় এক তরুণী মামলা করেছেন, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউব-ব্যবহার শৈশবে তাঁর অবসাদ ও আত্মহননের চিন্তা বাড়িয়েছিল। লস অ্যাঞ্জেলেসে এই মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন মেটা-র সিইও মার্ক জ়াকারবার্গ। তাঁকে নথিপত্র দেখিয়ে বলা হয়, ছোটদের আকর্ষণ করার উদ্দেশ্য ছিল সংস্থার। জ়াকারবার্গ তাঁর সংস্থার সমর্থনে বলেছেন, অ্যাপ-নির্মাতাদের পক্ষে ব্যবহারকারীর বয়স বোঝা মুশকিল, যন্ত্র-নির্মাতাদের পক্ষে তা সম্ভব। সত্যি? যে অ্যালগরিদম মনের ইচ্ছা পর্যন্ত পড়ে-জেনে ফেলে, সে বয়স ধরতে পারবে না— তা-ই হয় নাকি?
বিবাদী: মার্ক জ়াকারবার্গ। ছবি: রয়টার্স।
আদিপর্ব
লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজ়িয়মে গেলে দেখা যাবে, কুড়ি বছর পুরনো এক ওয়েবপেজ-এর, গোড়ার দিকের এক ভিডিয়ো চলছে। তাতে দেখা যাচ্ছে বছর পঁচিশের এক তরুণকে, চিড়িয়াখানায় গিয়ে সে বলছে সবচেয়ে মজার বিষয়, এই হাতিদের শুঁড়গুলো বিশাল লম্বা। উনিশ সেকেন্ডের ভিডিয়োটি দেখা হয়েছে ৩৮.২ কোটি বার। ভিডিয়োয় দৃশ্যমান তরুণ আসলে জাভেদ করিম, ‘ইউটিউব’-এর সহ-নির্মাতা; ২০০৫ সালের ওই ভিডিয়োটিও সংস্থার জন্মলগ্নের। বিশ্বখ্যাত জাদুঘরে এখন স্থান পেল তা। প্রমাণ, অতি সাধারণ মুহূর্তের বুকেও থাকে ভবিষ্যতের বিরাট প্রভাব বিস্তারের বীজ।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে