Delhi Diary

দিল্লি ডায়েরি: মন্ত্রিত্ব হারিয়ে চুয়াত্তরে শুরু হল নয়া ইনিংস

আইএএসের চাকরি থেকে অবসরের পরে সেই রাজ কুমার সিংহ ওরফে আর কে সিংহ-ই বিজেপির টিকিটে বিহার থেকে সাংসদ হলেন। তার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী হলেন। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বের বিরাগভাজন হয়ে পড়ায় তৃতীয় মোদী সরকারে আর তাঁর ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি।

প্রেমাংশু চৌধুরী, অনমিত্র সেনগুপ্ত, অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:০৬
Share:

তিনি যখন কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব, সে সময়ই দিল্লির গণধর্ষণ কাণ্ড এবং আজমল কাসভ, আফজল গুরুর ফাঁসি। আইএএস হিসাবে তরুণ বয়সেই অবশ্য তিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন। কারণ লালু প্রসাদ যাদব তাঁকেই রথযাত্রার সময় বিহারে লালকৃষ্ণ আডবাণীকে গ্রেফতার করার বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আইএএসের চাকরি থেকে অবসরের পরে সেই রাজ কুমার সিংহ ওরফে আর কে সিংহ-ই বিজেপির টিকিটে বিহার থেকে সাংসদ হলেন। তার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী হলেন। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বের বিরাগভাজন হয়ে পড়ায় তৃতীয় মোদী সরকারে আর তাঁর ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। চুয়াত্তর বছর বয়সে তাই নতুন কেরিয়ার শুরু করলেন আর কে সিংহ। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসাবে কাজ শুরু করলেন। দিল্লির সেন্ট স্টিফেন’স কলেজে ইংরেজি নিয়ে পড়াশোনার পরে মগধ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ডিগ্রি এত দিন ঝুলিতে পড়ে ছিল। আইএএস, সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পরে এ বার আইনজীবী হয়ে কালো গাউন পরে আর কে সিংহ বলেন, “এ বার গণতন্ত্র ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষার লড়াই করব।”

নবযাত্রা: আইনের পেশায় এলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ কুমার সিংহ।

এজলাসে, ফোন হাতে

সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হাতে মোবাইল ফোন! শুধু হাতে মোবাইল নয়। তিনি মামলার শুনানির মধ্যেই বার বার মোবাইল খুলে দেখছেন! বিরল দৃশ্য দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর মামলায়। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারকরা কালিয়াচকে ঘেরাও হয়ে যাওয়ার পরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি গভীর রাত পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। সেই সংক্রান্ত যাবতীয় রিপোর্ট হাই কোর্টের বিচারপতি তাঁকে ওয়টস্যাপে পাঠিয়েছিলেন। তাই এ নিয়ে মামলার শুনানির সময় মোবাইল নিয়েই এজলাসে হাজির হন প্রধান বিচারপতি। বলেন, “বিচারপতি হিসাবে জীবনে প্রথম মোবাইল হাতে আদালতের এজলাসে এলাম!”

কিস্‌সা কুর্সি কা

সদ্যসমাপ্ত সংসদের বিশেষ অধিবেশনের প্রথম দিনে মকর দ্বারের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে গল্প করছিলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, শুনছি কেরলে কংগ্রেস জিতলে আপনি ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। সংসদে আর পাওয়া যাবে না আপনাকে। হেসে ফেলেন শশী। পাল্টা রসিকতা করেন, “ওটা আমার দফতর নয়। দলীয় নেতা কে সি বেণুগোপাল ওই বিষয়টিতে বেশি আগ্রহী। উনিই ভাল বলতে পারবেন। আমার মুখ্যমন্ত্রিত্বে আগ্রহ নেই।” কংগ্রেসের ভিতরের খবর, কেরলের ভোটের আগে থেকেই, দল জিতলে তিনি ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হতে চান বলে রাহুল গান্ধীর কাছে ইট পেতেছেন বেণুগোপাল।

স্বাদু: চেন্নাইয়ের ‘সিলন পরোটা’।

পরোটায় লঙ্কাজয়

কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহের পরোটা প্রেমের কথা সম্প্রতি সামনে এসেছে। এবং তা এনেছেন খোদ মন্ত্রীই। কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অনুপ মিশ্রের একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। অনুপ পরোটার প্রকারভেদ নিয়ে কিছুটা বলেন বক্তৃতায়। জানান, একটিই পরোটা এক-এক জনের শরীরে এক-এক রকম ক্যালরি প্রদান করতে পারে। একমত জিতেন্দ্র সিংহ। তিনি নিজে ডায়াবিটিস বিশেষজ্ঞও বটে। যে-হেতু সূত্র পরোটা, স্মৃতিচারণেও মগ্ন হলেন মন্ত্রী। ফিরে গেলেন চেন্নাইয়ের স্ট্যানলি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রাবস্থায়। মাদ্রাজ হাই কোর্টের কাছে একটি রেস্তরাঁয় ‘সিলন পরোটা’র ছিল দারুণ রমরমা। তাঁরা দল বেঁধে খেতে যেতেন। রেস্তরাঁ আজও আছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরে শ্রীলঙ্কার অতিথিদের নিয়ে সেখানে যান, সবিস্ময়ে লক্ষ করেন তাঁরাও কোনও দিন এই পরোটার স্বাদ পাননি! প্রথম বার চেন্নাইয়ের সেই রেস্তরাঁয় শ্রীলঙ্কাবাসীরাও চেখে দেখেন সিলন পরোটা।

পর্দায় বন্ধুত্ব

অগ্নিগর্ভ পশ্চিম এশিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিকস গোষ্ঠীর বৈঠক নিয়ে চর্চা বিশ্ব জুড়ে। এই আবহে আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক। তার আগেই এই বহুপাক্ষিক গোষ্ঠীর আদি তিন সদস্য ভারত-চিন-রাশিয়া মিলিত হল চলচ্চিত্রের মঞ্চে। চিনা দূতাবাস এবং রাশিয়ান সেন্টার অব সায়েন্স অ্যান্ড কালচার যৌথ ভাবে দিল্লিতে প্রদর্শন করল চিনা স্পাই থ্রিলার ক্লিফ ওয়াকার্স। দর্শকাসনে ছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির ১২০ জন ছাত্র, কূটনীতিক, চলচ্চিত্র ও শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন