চুইখেম, কোলাখাম
উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের বার বার হাতছানি দেয়। অরণ্য, পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা বাগান ঘেরা অজস্র পর্যটন কেন্দ্রে প্রকৃতিপ্রেমীরা পৌঁছে যান নির্জনতাকে ভালবেসে। সদ্য ঘুরে এলাম চুইখেম ও কোলাখাম থেকে। এই দুই জায়গায় যাওয়ার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। চুইখেম থেকে লোলেগাঁও হয়ে লাভা যাওয়ার রাস্তা ভয়ংকর। আবার লাভা থেকে কোলাখাম যাওয়ার রাস্তার অবস্থাও ভয়াবহ। লাভা থেকে রিশপে পৌঁছনোর রাস্তা নেই বললেই চলে। পাহাড়ের পর্যটন নিয়ে সরকার যখন এত ভাবছে, তখন রাস্তার বেহাল অবস্থার দিকে অবশ্যই দৃষ্টি দেওয়া দরকার।
অমৃতাভ দে কৃষ্ণনগর,নদিয়া
বাবা-ই দায়ী
‘এমন বউ আনলি, একটা ছেলের জন্ম দিতে পারল না মুখপুড়ি’— কন্যাসন্তানের জন্মদাত্রী মা’কে উদ্দেশ্য করে বলা বস্তাপচা কটুকথাটি আজও ঠারেঠোরে উচ্চারিত হয়, এমনকী উচ্চবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণিতেও। (‘আবার মেয়ে’, সম্পাদক সমীপেষু, ৩১-৫) কিন্তু এই সব গঞ্জনাকারীরা কি জানেন যে, সন্তানের লিঙ্গ গঠনে বাবার ‘অবদান’ পরোক্ষে মায়ের চেয়ে বেশি? রুক্ষ ভাষায় বলতে গেলে, বাবা-ই বেশি ‘দায়ী’, মা নয়।
জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, প্রত্যেক মানুষের ডিএনএ-তে এক জোড়া সেক্স-ক্রোমোজোম থাকে, যার একটির নাম ‘এক্স’, অন্যটির নাম ‘ওয়াই’। ‘এক্স’ ও ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম দিয়ে গঠিত হয় পুরুষ শরীর আর নারী শরীরে থাকে দুটোই ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম। তাই নারী-পুরুষের মিলনের সময় সন্তানের ভ্রূণে বাবার থেকে ‘এক্স’ ও মায়ের থেকে ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম নিয়ে ‘এক্স-ওয়াই’ যুগল, অথবা দুজনের থেকেই ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম নিয়ে ‘ওয়াই-ওয়াই’ যুগল তৈরি হতে পারে। ‘এক্স-ওয়াই’ যুগলের দৌলতে পুত্রসন্তান এবং ‘ওয়াই-ওয়াই’ যুগলের দৌলতে কন্যাসন্তান গঠিত হয়। অর্থাৎ, ‘এক্স’ ক্রোমোজোমই হল পুংলিঙ্গ নির্ধারক, যা নারীর শরীরে থাকেই না। তাই ঠাকুমা নাতির মুখ দেখবেন কি না, তা নির্ভর করবে তাঁর ছেলের শরীরের ওপর, এতে তাঁর বউমার কিছু করার নেই।
চঞ্চল পাল কলকাতা–৪
রিপোর্ট কার্ড
নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তার চড়াই-উতরাইয়ে ভরা তিন বছরে বিদেশনীতি থেকে শুরু করে সাম্প্রদায়িক নানা বিষয়ে সমালোচিত হতে হয়েছে। যদিও সরকারের প্রতিনিধিরা যেমন গত তিন বছরের সাফল্যের ঢাক পেটানো শুরু করেছেন, তেমনই বিরোধীরাও সরকারের ব্যর্থতার নানা দৃষ্টান্ত তুলে ধরে ক্রমাগত বিঁধতে শুরু করেছেন।
কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। যে সুদিনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৪ সালে বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, তার কতটা পূরণ হয়েছে? মোদী সরকারের তিন বছরের ‘রিপোর্ট কার্ড’ নিয়ে এক জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, দেশের প্রায় ৪৯ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, তাঁরা তাঁদের জীবনযাত্রার গুণমানে কোনও পরিবর্তন অনুভব করতে পারছেন না৷ প্রায় ১৫ শতাংশ মনে করছে, জীবনযাত্রার মান আরও নিম্নমুখী হয়েছে৷ সেন্টার ফর মিডিয়া স্টাডিজ এই জনমত সমীক্ষা করে বলছে, মোদী সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে গরিব তেমন ভাবে উপকৃত হয়নি৷ তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর উপরে সংখ্যাগরিষ্ঠ (৬২ শতাংশ) জনগণ এখনও আস্থা হারায়নি৷ আগামী ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাঁরা মোদীকেই হয়তো আবার দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী পদে৷ গত বছর ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, যে গত দু’বছরে সর্বোচ্চ পরিমাণে সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারে আসার পর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসে তাঁদের মত অনুযায়ী যাবতীয় করণীয় ঠিক করেছেন। কিন্তু তাঁদের পরামর্শ যে সরকারকে ঠিক দিশা দেখাতে পারেনি, তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কারণ নেই। বিকাশ হার বলে যেটা দেখানো হচ্ছে, সেটা শুধু পরিষেবা ক্ষেত্রে, ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে নয়৷ কাজেই সেটাকে সাফল্য বলা চলে না৷ দেশের দুটি প্রধান সমস্যা দারিদ্র ও বেকারত্ব৷ দুটি ক্ষেত্রেই মোদী সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ৷ দু’কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কার্যত হয়েছে মাত্র কয়েক লক্ষ৷ অন্য দিকে সহিষ্ণুতার অভাব গত তিন বছরে বারংবার চোখে পড়েছে, যেটা গণতন্ত্রের বিপদের কারণ৷ সন্দেহ নেই, ২০১৪ সালে মোদী সরকার আসার পর সংঘ পরিবার সরকারি রক্ষাকবচের আড়ালে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দেশ জুড়ে৷ কাশ্মীর নিয়ে অগ্রগতি হয়নি ধর্ম-ভিত্তিক রাজনীতির কারণে৷ কাশ্মীরিদের কাছে মোদী সরকার তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে৷
বিদেশে রাখা কালো টাকা উদ্ধারের ক্ষেত্রেও প্রতিশ্রুতি মতো অগ্রগতি হয়নি। পরিবর্তে গত ৮ নভেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রীর আচমকা একটি ঘোষণার মাধ্যমে সমস্ত চলতি পাঁচশো ও এক হাজার টাকার নোট বাতিল করায় মানুষকে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
কিন্তু এত প্রতিকূলতার মধ্যেও যথাসম্ভব বেশি মানুষের কাছে ব্যাংকের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা প্রকল্পের আওতায় দেশের ৩৫ কোটি মানুষ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অধিকারী হয়েছেন। বহু গরিব মানুষের কাছে বিনামূল্যে রান্নার গ্যাসের সুবিধা প্রদান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ২০২২ সালের মধ্যে সকলের জন্য বাসগৃহ সংস্থানের যোজনা, প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা, ভর্তুকির টাকা গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা— এগুলো সবই বর্তমান সরকারের জন কল্যাণমূলক কর্মসূচির উদাহরণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদী সরকারের গত তিন বছরের কার্যকালে আর্থিক উন্নয়নের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি গুণগত পরিবর্তন লক্ষণীয়। তেলের ওপর ভর্তুকি বিলোপ, অধিক কর আদায়, কয়লা ও স্পেকট্রাম ব্লকের স্বচ্ছ নিলাম প্রক্রিয়ার দরুন সরকারের আয় ও সঞ্চয় বিপুল বৃদ্ধি পেয়েছে।
অভিজিৎ রায় বারিডিহ, জামশেদপুর
আলো-আঁধারি
রাজ্যে লোডশেডিং এখন হয় না বললেই চলে। কিন্তু, সম্প্রতি বকখালিতে (দক্ষিণ ২৪ পরগনা) বিপরীত অভিজ্ঞতা হল। সারা দিন সেখানে মুহুর্মুহু বিদ্যুৎ অন্তর্হিত হয়। রাত এগারোটার পরে হোটেলগুলিতে জেনারেটরের বিদ্যুৎ মেলে। সেই বিকট শব্দে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দশা সহজেই অনুমেয়। বকখালিতে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিরাট পাখাগুলি ডানাভাঙা হয়ে স্থবির। রাজ্যের পর্যটক কেন্দ্রগুলি সম্পর্কে মানুষের অভিজ্ঞতা মোটেই সুখের নয়। বকখালির বাসিন্দারা পর্যটক-নির্ভর। এমন অবস্থায় পর্যটকরা সেখানে গিয়ে ফিরে আসছেন।
উত্তর ২৪ পরগনার রহড়াও বিদ্যুৎ নিয়ে জেরবার। এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ প্রায়শই আসে-যায়। অন্ধকারের স্থায়িত্ব ক্ষণিকের বলে আরও বিরক্তিকর। বিশেষত, এখানে বিদ্যুৎ সরবরাহও নির্বিঘ্ন নয়। প্রায়শই তা ওঠা-নামা করে। ফলে কম্পিউটার বা রেফ্রিজারেটর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা। বিদ্যুৎ-সরবরাহ ২২০-ভোল্টের নীচে নামলেই এই যন্ত্রগুলি বন্ধ হয়ে যায়। কাজের মধ্যে কম্পিউটার বার বার বন্ধ হয়ে গেলে কী হয়, ভুক্তভোগীমাত্রই জানেন।
ঊর্মিলা দাশগুপ্ত কলকাতা-১১৮
ভ্রম সংশোধন
বৃহস্পতিবার (৮-৬) ব্যবসার পাতায় (পৃ ১১) ‘আবাসনে সংযুক্তি’ শীর্ষক খবরে ঠিক তথ্যটি হল: ডিএইচএফএল বৈশ্যের সঙ্গে মিশছে আধার হাউজিং ফিনান্স। প্রথম সংস্থাটির ভুল নাম প্রকাশিত হওয়ায় আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।
চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু,
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।
ই-মেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়