রক্তের অপচয়
প্রতি বছর গরম পড়লেই রক্তের চাহিদা আর জোগানের মধ্যে এক বিশাল ফারাক লক্ষ করা যায়। অথচ সারা ভারতে মোট সংগৃহীত রক্তের ৮৭ শতাংশ সংগ্রহ হয় এই পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় মাপের ছোট ব্যাগ বা পাউচের অভাবে আমাদের রক্তদান শিবিরগুলি থেকে পাওয়া বেশির ভাগ রক্তই স্রেফ ফেলে দিতে হয়। কারণ, এই রাজ্যে রক্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয় শুধুমাত্র ৩৫০ মিলি-র পলিপ্যাকে। নবজাতক, থ্যালাসেমিয়া-আক্রান্ত ও অন্যান্য কোনও কোনও ক্ষেত্রে খুব অল্প পরিমাণ রক্তের প্রয়োজন। অথচ তা নিতে হয় সেই ৩৫০ মিলির পাউচ থেকে। তাই এক বার ব্লাড-ব্যাংক থেকে বার হওয়া রক্ত পুনরায় ফেরত নেওয়ার সংস্থান না-থাকায় বাকি মহার্ঘ রক্তের অপচয় হয়।
হিসেব বলছে নবজাতকের দেহে দিতে হয় মাত্র ৩০ মিলি রক্ত। অর্থাৎ ওই ব্যাগের বাকি ৩২০ মিলি রক্ত নষ্ট হয়। এই ভাবে এই রাজ্যে প্রতি মাসে প্রায় পনেরো লক্ষ মিলি রক্ত ফেলে দিতে হয়, যা দিয়ে অন্তত পাঁচ হাজার মুমূর্ষু মানুষের চিকিৎসা করা যেত। পার্শ্ববর্তী বহু রাজ্যে প্রয়োজন মাফিক ৩০, ৪০, ৫০, ১০০ ও ৩৫০ মিলি-র পাউচ ব্যবহার হচ্ছে অপচয় রোধ করতে। এ ছাড়া অত্যাধুনিক ‘পেন্টা-ব্যাগ’ বলে ছোট-ছোট প্যাকেটের সেটও পাওয়া যায়, যা বড় প্যাকেটের সঙ্গে সহজেই যুক্ত করা যায়।
এই অপচয় অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। অথচ বামফ্রন্ট সরকার থেকে পরিবর্তনের সরকার— অপচয়ের কোনও পরিবর্তন নেই।
সঞ্জীব রাহা পাডিয়া মার্কেট, হাইস্ট্রিট, কৃষ্ণনগর
শুভ উদ্যোগ
খবরে প্রকাশ, গোটা রাজ্যে সরকার-পোষিত গ্রন্থাগারগুলির পরিচালন সমিতি গঠনে যে নির্বাচন পদ্ধতি এত বছর ধরে চলে আসছে, তা বর্তমান রাজ্য সরকার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রত্যেকটি জেলায় সরকার এল এল এ, অর্থাৎ ‘লোকাল লাইব্রেরি অথরিটি’ নামে একটি ‘বডি’ তৈরি করে দেবে, যার মাথায় থাকবে জেলাশাসক। এই বডিই গ্রন্থাগারগুলিতে পরিচালন সমিতি তৈরি করে দেবে (‘মনোনীতদের হাতে গ্রন্থাগার’, ১৮-৮)।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই গ্রন্থাগারমন্ত্রীকে। আমার মতে, পরিচালন সমিতি স্বচ্ছ হলে রাজ্যের গ্রন্থাগারগুলির আধুনিকীকরণ ত্বরান্বিত হবে। ফলে উপকৃত হবেন সত্যিকারের বইপ্রেমী পাঠক ও পড়াশোনা জগতের মানুষজন।
রাজ্য সরকার নির্বাচন পদ্ধতি
এড়াতে চেয়ে এবং গ্রন্থাগারের যথাযথ উন্নয়ন করতে উপযুক্ত, যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে পরিচালন সমিতির দায়িত্ব অর্পণ করতেই এই পদক্ষেপ করেছে।
এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে বেশ কয়েকটি ভাল কাজ হবে। যেমন, নির্বাচন বা ভোট করতে যে সরকারি টাকা খরচ হত, সেটা বাঁচবে। ভোটের দিন গ্রন্থাগার চত্বরে পরিচালন সমিতি দখলে উদ্যত, উত্তেজিত দুটো বা একাধিক পক্ষের মধ্যে মারামারি হত, গ্রন্থাগারের সদস্য তথা ভোটারদের নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া হত, এমনকী জাল ভোটও পড়ত, সেগুলি সব বন্ধ হবে। বইপ্রেমীও নয়, বইপত্তরের সঙ্গে সম্পর্ক নেই, এ রকম বহু লোককে গ্রন্থাগারের সদস্যপদ দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা নির্বাচনের সময় ক্ষমতাসীন পরিচালন সমিতির প্যানেলটিকে ফের এক বার ভোট দিয়ে জিতিয়ে নিয়ে আসতে পারে। অথচ যাঁরা সত্যিই বইপোকা মানুষ, তাঁরা গ্রন্থাগারের সদস্যপদ পান না। ফলে গ্রন্থাগারপ্রেমী পাঠকের সংখ্যা কমে গেছে। নির্বাচন তুলে দেওয়ায় প্রকৃত পাঠক, শিক্ষক তথা শিক্ষিত মানুষজন ফের গ্রন্থাগারমুখী হবেন, সদস্য হতে পারবেন, এই আশা করা যেতেই পারে।
বেশ কিছু বছর আগে শ্রীরামপুর মহকুমা পাবলিক লাইব্রেরিতে তথ্যচিত্র পরিচালক সন্দীপ রায় এসেছিলেন রামমোহন লাইব্রেরি ফাউন্ডেশন-এর পক্ষ থেকে। সে সময় তাঁর মুখে শুনেছিলাম, দক্ষিণ ভারতের গ্রন্থাগারগুলোকে কত আধুনিক করে গড়ে তুলেছে সেখানকার সরকার! আর আমাদের রাজ্য কত পিছিয়ে আছে। বর্তমান রাজ্য সরকার নিশ্চয়ই এ সবই ভেবেছেন এবং তাই প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে নির্বাচন পদ্ধতিটা তুলে দিলেন। ফলে এ বার গ্রন্থাগারমনস্ক শিক্ষিত মানুষদেরই গ্রন্থাগার পরিচালন সমিতির সদস্য করা হবে, যাঁরা গ্রন্থাগারগুলোর বেহাল অবস্থা ঘোচাতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করবেন।
বাম আমল থেকেই গ্রন্থাগারগুলোর আর একটা গুরুতর সমস্যা হল, অধিকাংশ সরকার পোষিত গ্রন্থাগারেই কর্মীর অপ্রতুলতা। নেই কোনও গ্রন্থাগারিকও। জেলা, মহকুমা, শহর ও গ্রাম নিয়ে হুগলি জেলায় মোট ১৭টি গ্রন্থাগার, যেখানে কর্মীসংখ্যা খুব অপ্রতুল। দেড়শো বছর ছুঁই ছুঁই শ্রীরামপুর পাবলিক লাইব্রেরি (স্থাপিত ১৮৭১) অনেক দিন ধরে গ্রন্থাগারিকহীন, কর্মী মাত্র এক জন! গ্রন্থাগারিক না থাকলে পরিচালন সমিতিও তৈরি হবে না, এটা ভাবার অনুরোধ রইল গ্রন্থাগারমন্ত্রীর কাছে। গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত কর্মী না নিয়োগ করলে কিন্তু সরকারের সব শুভ উদ্যোগ বিফলে যাবে।
সমীরকুমার সাহা শ্রীরামপুর, হুগলি
এর জন্যও ক্লাস?
‘পড়ানোর আগে ভালবাসার ক্লাস করুন শিক্ষক’, এবং ‘রোগীর সঙ্গে ব্যবহারের পাঠ চাই ডাক্তারদের’ শীর্ষক (২১-৮) দুটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমান করছি এর পর হয়তো ‘বিয়ের আগে প্রেম করার ক্লাস করুক হবু দম্পতিরা’, ‘গৃহবধূ বরণ করার আগে বধূদের মেয়ের মতো ভালবাসার ক্লাস করুক শ্বশুর শাশুড়িরা’, ‘সন্তান জন্মানোর আগে সন্তানস্নেহ শেখার ট্রেনিং নিক বাবা মায়েরা’— এমনি সব শিরোনাম দেখব। প্রেম, ভালবাসা, মাতৃস্নেহ, ভ্রাতৃপ্রীতি, ভাল ব্যবহার ইত্যাদি শেখার জন্যও কি বিশেষ বিশেষ কোচিং স্কুল খুলবে এ বার? এই সমস্ত কৃত্রিম শিক্ষাক্রম কি বিকৃত মানসিকতার এই সব মানুষদের সুস্থ করতে পারবে?
অশোককুমার দাস কলকাতা-৭৮
সুবলদহ নয়
‘ডানপিটের জন্মদিন’ শীর্ষক চিঠিতে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর জন্মস্থান বর্ধমানের সুবলদহ গ্রাম বলে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা ঠিক নয় (১৪-৬)। রাসবিহারীর বাবা ম্যালেরিয়ার কবল থেকে বাঁচতে বরাবরের জন্য সুবলদহ গ্রাম ত্যাগ করে ফরাসি শাসনাধীন চন্দননগরে এসে ফটকগোড়া এলাকায় স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন। সেই সময় হাওড়া-হুগলি-বর্ধমানের ম্যালেরিয়া কবলিত গ্রাম থেকে বহু পরিবার চন্দননগরে চলে আসেন। রাসবিহারী বসুর মা সন্তান প্রসবের জন্য ফেলে আসা গ্রাম সুবলদহে ফিরে যাননি। তিনি গর্ভাবস্থায় ভদ্রেশ্বর থানা এলাকায় বিঘাটি অঞ্চলের পালাডা গ্রামে বাপের বাড়িতে ছিলেন এবং সেখানেই রাসবিহারীর জন্ম দেন।
মধুসূদন নিয়োগী বিঘাটি, হুগলি
ঢিলেঢালা
টালিগঞ্জ এলাকার একটি মেট্রো স্টেশন থেকে মোটামুটি সাড়ে এগারোটা থেকে পৌনে বারোটার মধ্যে মেট্রো ধরে রোজ কাজের জায়গায় যাই। অনেক দিন ধরেই লক্ষ করছি, কার্ড পাঞ্চ করে স্টেশনে ঢোকার মুখটায় যে নিরাপত্তা রক্ষীরা বসে থাকেন, তাঁদের অসহ্য ঢিলেঢালা আচরণ। কেউ যদি দয়া করে তাঁদের দিকে ব্যাগ বাড়িয়ে দেন, তা হলে তাঁরা বসে বসেই হ্যান্ড ডিটেকটর-টা কোনও মতে ঠেকিয়ে নেন। যাঁরা দেন না, তাঁরা বিনা বাধায় প্ল্যাটফর্মে ঢুকে যান। আর যে মহিলা কর্মীরা দায়িত্বে থাকেন, তাঁদের প্রতি দিনই দেখি চুটিয়ে গল্প করতে। ফলে মহিলাদের হ্যান্ডব্যাগ ঠিকমত পরীক্ষা হয় না। মেট্রোর মতো এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিরাপত্তার এই হাল কেন?
অপরাজিতা সামন্ত টালিগঞ্জ
চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু,
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।
ই-মেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়