ভারতে ‘রেবেকা’

‘অফুরন্ত হিংসের জলজ্যান্ত গল্প’ (রবিবাসরীয়, ২৯-৪) শীর্ষক লেখার সঙ্গে যোগ করি, ‘রেবেকা’কে প্রথম বার ভারতীয় সংস্করণে বড় পর্দায় পেশ করেন এক কিংবদন্তি বঙ্গসন্তান।

Advertisement
শেষ আপডেট: ১০ মে ২০১৮ ০৬:৩৪
Share:

‘অফুরন্ত হিংসের জলজ্যান্ত গল্প’ (রবিবাসরীয়, ২৯-৪) শীর্ষক লেখার সঙ্গে যোগ করি, ‘রেবেকা’কে প্রথম বার ভারতীয় সংস্করণে বড় পর্দায় পেশ করেন এক কিংবদন্তি বঙ্গসন্তান। ভারতে একাধিক বার ‘রেবেকা’ অবলম্বনে ছবি নির্মিত হয়েছে, কিন্তু প্রথম তৈরি হয় ১৯৬৪ সালের ‘কোহরা’। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় প্রযোজিত এই ছবির মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন বিশ্বজিৎ এবং ওয়াহিদা রেহমান। ১৯৬২ সালে হেমন্তর প্রযোজনায় আর্থার কনান ডয়েলের ‘দ্য হাউন্ড অব বাস্কারভিলস’ অবলম্বনে ‘বিশ সাল বাদ’ (পরি: বীরেন নাগ) ভীষণ জনপ্রিয় হওয়ায়, সেই একই টিম ’৬৪ সালে সৃষ্টি করল ‘কোহরা’। বীরেন নাগ পরিচালিত ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত: ‘ইয়ে নয়ন ডরে ডরে’ কিংবা ‘ও বেকারার দিল’-এর মতো গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। আবার, হিচকক নির্দেশিত এবং লরেন্স অলিভিয়ের ও জোন ফনটেন অভিনীত ১৯৪০ সালের ‘রেবেকা’ ছবিটি অস্কারে শ্রেষ্ঠ ছবির শিরোপা পেয়েছিল।

Advertisement

শঙ্খশুভ্র চট্টোপাধ্যায়, ঢাকুরিয়া, কলকাতা

সাপের পা

Advertisement

কয়েক দিন আগে ফেসবুকে দেখলাম, সাপের দেহের একাংশের ছবি, যেখানে দুটো পায়ের মতো অংশ ঝুলে আছে। ক্যাপশনে লেখা, ‘সুন্দরবনের বাসন্তীতে সাপের পা দেখা গেল’। পর দিন সকালে বাসন্তী বাজারে আমার চাল-বিক্রেতা বললেন, গত কাল আমাদের সজনেতলায় একটা দাঁড়া(শ) সাপের পা দেখা গিয়েছে। বাগান জাল দিয়ে ঘেরা ছিল। দাঁড়াশ ওই জালে কোনও ভাবে আটকে যায়। অনেক চেষ্টায় নিজেকে মুক্ত করতে না পেরে শেষে দুটো পা বার করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় বহু দূর থেকেও বহু লোক ছুটে আসেন। কারণ, প্রবাদ আছে, সাপের পা দেখলে রাজা/রানি হবে। ধনসম্পদ বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু সাপটি জাল থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনি। মারা যায়। তবে বহু মানুষ মোবাইলে ফটো তুলে রেখেছেন। সকলেই সাপের পা দেখে খুশি। এমনকী শিক্ষিত মানুষজনও বলেছেন, সাপের পা থাকে, বিশেষ প্রয়োজনে তারা সেগুলো বার করে। এখন বিভিন্ন অলীক ব্যাখ্যায় এলাকা মুখরিত। কিন্তু কেউ বলছেন না, ওগুলি সাপের পা নয়। প্রাণিবিজ্ঞানের ছাত্র হিসাবে দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, কোনও সাপের পা নেই। দেহের ভিতরেও পা থাকে না।

সর্প-সরীসৃপ শ্রেণির, বর্গ-স্কোয়ামাটা, দু’টি উপ-গোত্রের একটিতে সাপ। গোত্র ১১টি। গোসাপ কিন্তু সাপ নয়। চারপেয়ে সরীসৃপ থেকে সাপের বিবর্তন। পা ক্রমাগত অব্যবহারে লুপ্ত। বোয়া, পাইথনের পেটের তলায় ছোট্ট ‘পা’ এখনও বিবর্তনের চিহ্ন বহন করছে।

এখন প্রশ্ন হল, সে দিন তোলা বিভিন্ন ছবিতে যে দুটো পায়ের মতো দেখা যাচ্ছে, ওই দুটো কী? জালে পড়ার আগে সাপটি একটি প্রাণী খেয়েছিল। জালের ফাঁসের চাপে পেট ভেদ করে ওই প্রাণীর দেহের দুটো অংশ এমন ভাবে বার হয়েছে, কিছু মানুষ ওই দু’টিকে সাপের পা বলে ধরে নিয়েছে। অনেক সময় অজগর গোটা হরিণ গিলে ফেলায়, হরিণের শিং অজগরের পেট ভেদ করে বাইরে চলে আসে। অজগর মারা যায়। তেমনই ঘটনা ঘটেছে।

প্রভুদান হালদার, বাসন্তী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

বাম সন্ত্রাস

বাম আমলের শাসকদের নির্বাচনী সন্ত্রাসের কথা লিখতে গিয়ে দেবাশিস ভট্টাচার্য (‘বিরোধীরাও কলঙ্কমুক্ত নয়’, ২০-৪) লিখেছেন, ‘যদি কেউ ইতিহাস-বিস্মৃত না হন, তবে দীর্ঘ বাম শাসনে এই রাজ্যে সন্ত্রাসের ভয়াল চেহারা তাঁর মনে থাকার কথা।’ ঠিক। অনেকেরই মনে আছে, শুধু আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট নয়, হুগলির বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে বাম আমলে শাসক সিপিএম নির্বাচনী সন্ত্রাসকে কোন নৃশংসতায় নিয়ে গিয়েছিল। ২০০৯ থেকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর, এই এক বছরে শুধু হুগলি জেলার বিভিন্ন গ্রামেই তৃণমূলের ১২ জন নেতা, কর্মী খুন হন। এঁদের মধ্যে আরামবাগ মহকুমার পুড়শুড়ায় ৪ জন, খানাকুলে ২ জন, আরামবাগে ৩ জন তৃণমূল নেতা। চুঁচুড়া সদর মহকুমার গুড়াপ গ্রামে ১ জন খুন হয়েছেন। আর শ্রীরামপুর মহকুমার জাঙ্গিপাড়ায় ১ জন ও চণ্ডীতলায় ১ জন খুন হয়েছেন।

হুগলিরই দু’একটা ঘটনা উল্লেখ করি। ২০০৯ সালের ৩ জুন খানাকুলের সারদা জাকরি গ্রামে তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের নেতাকে তাঁর নিজের বাড়ির উঠোনে স্ত্রী, বৃদ্ধা মা, দুই শিশুপুত্রের সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে, তাঁর চোখ উপড়ে, যৌনাঙ্গ কেটে খুন করা হয়। রক্ত লাগানো হয় উঠোনের প্রান্তে থাকা মনসা গাছটিতে। ২০১০ সালের ১৮ মার্চ গুড়াপের গুড়বাড়ি গ্রামে তৃণমূলের তফসিলি জাতি-জনজাতি সেলের আর এক জন নেতাকে বাড়ির ভেতরে ঢুকে ঘর থেকে টেনে বার করে বোমা মেরে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়।

একটু পিছিয়ে গেলে মনে পড়বে ২০০১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে জাঙ্গিপাড়ার জগন্নাথপুরে ১৩ এপ্রিল দুই কংগ্রেসি ভাইকে নৃশংস ভাবে হত্যার কথা। ওঁদেরকেও নিজের বাড়ির ভেতরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং মায়ের কাপড়ে তরোয়ালের রক্ত মুছে চলে যায় খুনিরা। ছেলেদের খুনের পর কেস লড়তে ওই মাকে জাঙ্গিপাড়ার বাইরে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে।

আর নীরব সন্ত্রাসকে সিপিএম শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। বিরোধীদের বশে আনতে, এলাকাকে বিরোধীশূন্য করতে, পুকুরের জলে ফলিডল, জমির ফসল তুলতে না দিয়ে জমিতেই তা নষ্ট করে দেওয়া, চুরি-ডাকাতির বদনাম দিয়ে পুলিশ দিয়ে তুলিয়ে নেওয়া, এ সব ছিল পরিচিত কৌশল।

এমনকী বাম শরিকদের বশে রাখতেও বড় ভাই সিপিএমের তৎপরতা ছিল দেখার মতো। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের সময়, গোঘাটের কামারপুকুরে ফরওয়ার্ড ব্লক পার্টি অফিসের কর্মীদের শুয়ে-বসে সময় কাটাতে দেখে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বসে সময় কাটাচ্ছেন, গোঘাট তো আপনাদেরই শক্তপোক্ত জায়গা? ওঁরা উত্তর দিয়েছিলেন, বাইরে বেরোলে সিপিএম পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেবে। তাই ওদের কথা শুনেই চলতে হয়। যা করার ওরাই করে। সে সময় গোঘাট-সহ আরামবাগ মহকুমার কোথাও শাসকের লাল চোখকে উপেক্ষা করে কোনও মানবাধিকার সংগঠন অত্যাচারিত গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়াতে গ্রামগুলোতে যাওয়ার সাহস দেখাতে পারেনি।

আজ সেই বামেরাই সন্ত্রাস নিয়ে সবচেয়ে বেশি আওয়াজ তুলছে! আজ তারা পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করছে, কিন্তু এটাও ভুলে গেলে চলবে না, ’৯২ সালে জ্যোতি বসু প্রশাসনে ‘অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ)’ এই পদটি সৃষ্টি করেন, যাতে পার্টির গুন্ডাদের পাশাপাশি পুলিশকেও গ্রামাঞ্চলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, কর্মীদের দমন করতে কাজে লাগানো যায়।

সমীর সাহা, শ্রীরামপুর, হুগলি

তখনই দিয়ে দিন

এমনিতেই পরিবারের সদস্য ‍সংখ্যা দিন দিন কমছে, অনেকেই পড়াশোনা বা জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করে থাকেন। তা ছাড়া ইদানীং সকলেই কমবেশি ব্যস্ত থাকেন। তাই কোনও শিশুর জন্মের পর বাড়ি যাওয়ার সময় হাসপাতাল বা নার্সিংহোম থেকেই অভিভাবকদের হাতে সরকারি জন্ম-সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়া হলে, খুব সুবিধাজনক হবে।

অভিজিৎ দাস, বালি, হাওড়া

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু,
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০০১।
ই-মেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়

ভ্রম সংশোধন

পঞ্চায়েত নির্বাচন সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদনে (‘১৪ মে ভোট হবে কি?’, ৯-৫) বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের নাম ভুলবশত লেখা হয়েছে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘নিরাপত্তায় সন্তুষ্ট কমিশন, রায় পরশু’ শিরোনামেও একটি ভুল হয়েছে— ‘রায় আগামিকাল’ লেখা উচিত ছিল। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলগুলির জন্য আমরা দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement