‘প্রতিভা আছে, পরিবেশ নেই’ (৯-৩) শীর্ষক সিদ্ধার্থ মজুমদারের উত্তর-সম্পাদকীয়টির পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কথা। বিশ্বে বহু সফল বিজ্ঞানীই নোবেল পাননি নানা কারণে। কিন্তু বিজ্ঞানে তাঁদের সাফল্য বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে নানা ভাবে। বিশ্ববাসী উপকৃত হয়েছেন, হচ্ছেনও। ভারতের স্বীকৃত বিজ্ঞানীদের বড় অংশই ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের নাগরিক। স্বাধীন ভারতে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু বিজ্ঞানের প্রতিভার বিকাশে বিশেষ প্রাধান্য দিয়েছিলেন। সেই সময়ে প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের মতো কয়েক জন প্রখ্যাত বিজ্ঞানীকে তিনি পাশে পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই ভাবনা পরবর্তী শাসকদের আমলে সে ভাবে প্রতিষ্ঠা পায়নি। দেশে বিজ্ঞানের উন্নতি কেন্দ্রীভূত হয় বেসরকারি ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও গোষ্ঠী মালিকানার দখলে। প্রবন্ধকার যথার্থ বলেছেন, মূল কারণ প্রতিভার অভাব নয়, আসলে ‘প্রতিভা’কেই অস্বীকার করা। বিশাল ভারতে ‘প্রতিভা’ আজও অনেক আছে। কিন্তু রাষ্ট্রের সে ভাবে উদ্যোগ নেই তাঁদের খুঁজে বার করে বিকশিত করার। ফলে প্রতিভার একাংশ চলে যাচ্ছেন বেসরকারি ক্ষেত্রে, কিছু অংশ বিদেশে। বাকি ‘প্রতিভা’, যাঁদের তেমন সামর্থ্য নেই, তাঁরা নীরবে হারিয়ে যাচ্ছেন। প্রবন্ধে উক্ত ‘রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছা’র অভাবের বাকি কারণগুলিও যথার্থ। ‘বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতির অনুপস্থিতি’ বেড়ে চলেছে ‘হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্থান’ কেন্দ্রিক রাষ্ট্রশক্তির রাজনৈতিক দর্শনের প্রাবল্যে। মৌলিক গবেষণায় বিনিয়োগ যা-ও বা হয়েছে, তা উচ্চ মানের গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। ফলে আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামোর দিক থেকে এ দেশের বিজ্ঞানচর্চা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। এ জন্য বিদেশে গবেষণার দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন বিজ্ঞানের প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রীরা। সেখানে গিয়ে অনুকূল পরিবেশ পেয়ে দেশে ফিরতে চাইছেন না তাঁরা।
একই সঙ্গে নতুন ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতাও আলোচনায় আসা উচিত, যেখানে প্রতি ক্ষেত্রে প্রতিভার অপচয় হচ্ছে। এক, প্রযুক্তিক্ষেত্রের গবেষণার বিকাশ ও তাৎক্ষণিক সাফল্য মৌলিক বিজ্ঞান বিষয়ে দীর্ঘকালীন গবেষণার উৎসাহ কেড়ে নিচ্ছে। দুই, প্রতিভাবান সফল উচ্চশিক্ষার্থী অনেকে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উচ্চ বেতন/প্যাকেজের চাকরি চাইছেন প্রথমে। অর্থাৎ, দেশের কল্যাণার্থে বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণার ভাবনা হারিয়ে যাচ্ছে। তিন, সরকারি উদাসীনতায় সরকারি স্কুল, কলেজে বিজ্ঞানচর্চার পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছেন না প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা।
সব মিলিয়ে সামাজিক বিজ্ঞানমনস্কতার ‘পরিবেশ’-এর অভাব এই অবনতির জন্য দায়ী। সেই ‘পরিবেশ’ ফিরিয়ে আনার দায় ও দায়িত্ব একমাত্র সরকারেরই।
শুভ্রাংশু কুমার রায়, চন্দননগর, হুগলি
বিজ্ঞানের সুফল
সিদ্ধার্থ মজুমদারের ‘প্রতিভা আছে, পরিবেশ নেই’ প্রবন্ধটি যতটা মন কাড়ল, ততটাই আফসোস জাগাল। প্রতিভা আগেও ছিল, আজও আছে। অজানাকে জানার কৌতূহল ও খিদে বিজ্ঞানীদের আজও তাড়িয়ে বেড়ায় নতুন কিছুর আবিষ্কার ও অন্বেষণে। এর জন্য চাই প্রচুর অর্থ। অথচ, সে সহায়তা মিলছে না তাঁদের। অনেক সময় সুযোগ হাতের মুঠোয় পেয়েও হাত আলগা করতে হয়। চলতি সময়ে আমাদের দেশে বিজ্ঞানের ধীরগতির কারণ হল মৌলিক গবেষণার দীর্ঘমেয়াদের তুলনায় চটজলদি সাফল্যের প্রতি সরকারের আগ্রহ। চিকিৎসা, যোগাযোগ, প্রযুক্তি, পরিবেশ দূষণের মোকাবিলা— সব কিছুর জন্য দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন হলেও সরকার বা বেসরকারি সংস্থা, কেউই এই ব্যয়ভার বহন করতে রাজি নয়। স্বাভাবিক ভাবেই কম অনুদানের জেরে সুযোগ-সুবিধা ও উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে ঝিমিয়ে পড়ছে বিজ্ঞানের অনেক অন্বেষণের কাজ। ফলে এ সব ক্ষেত্রে প্রতিভা থাকলেও, সুযোগের অভাবে কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ হচ্ছে না।
বিজ্ঞান হল সমাধান, মূল্যায়ন ও উদ্ভাবনের অন্যতম ভিত্তি। পারমাণবিক শক্তি এক দিকে যেমন কয়েক সেকেন্ডে ধ্বংস করে দিতে পারে একটা গোটা শহর বা অঞ্চল, তেমনই এটি আগামী দিনে হয়ে উঠতে পারে শক্তির অন্যতম উৎসও। জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প। ভুললে চলবে না, বিজ্ঞানীদের সাফল্য সমাজ ও সংস্কৃতিকে যেমন উন্নত করতে পারে, তেমনই দেশের ভিতকেও করে তুলতে পারে মজবুত। তাই, তাঁদের অনুকূল পরিবেশ, যথোপযুক্ত আধুনিক উপকরণের জোগান দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
গীতিকা কোলে, কলকাতা-৫২
অবিচার
‘নাম বাদ গেলে আপিল ট্রাইবুনাল’ (১১-৩) শিরোনামের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কথা। যাঁদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, তাঁরা কোথায় কী ভাবে ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হবেন? সত্যিই দরিদ্র মানুষের এত সময় বা অর্থ আছে কি? অথচ, খতিয়ে দেখলে জানা যাবে এই মানুষগুলোর হয়তো কোনও দোষই ছিল না। যাদের ভুলের জন্য নাম বাদ গেল, তাদেরই উদ্যোগী হয়ে নাম সংযোজন করা উচিত ছিল।
যিনি চোখের সামনে ভারতকে স্বাধীন হতে দেখেছেন, তাঁর হাতে যথেষ্ট প্রমাণ থাকুক বা না থাকুক, শুধু ২০০২-এর তালিকায় নাম নেই বলেই তাঁকে কেন হেনস্থা করা হবে? যাঁরা এ দেশের প্রকৃত নাগরিক— জনজাতি সম্প্রদায়, যাযাবর সম্প্রদায়, যাঁরা জঙ্গল কেটে, পাথর কেটে, পাহাড় কেটে মানুষের বাসযোগ্য জায়গা গড়েছেন, সভ্যতা গড়ে তুলেছেন, রবি ঠাকুরের ভাষায় যাঁরা সভ্যতার পিলসুজ, শুধু কয়েকটি কাগজ নেই বলে তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম থাকবে না? নির্বাচন কমিশন কি জানে না, নির্দিষ্ট কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গেলে এই দরিদ্রদের অনেকেরই সে দিনের খাবার না-ও জুটতে পারে? তা ছাড়া খরা-বন্যা-হড়পা বানে কত পরিবারের কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যায়। বস্তি উচ্ছেদ, বা বস্তিতে আগুন লেগে কত মানুষের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সেই সব কাগজপত্র নতুন করে বানাতে দিনের পর দিন কেটে যায় সরকারি দফতরে ঘুরতে ঘুরতে। এঁদের কাগজপত্র হারিয়ে গেলে, বা নষ্ট হয়ে গেলেও এঁরা তো ভারতেরই নাগরিক। এ ছাড়া ২০০২ সালে যাঁদের ভোটার তালিকার নাম নেই, অথচ তার আগে অনেক বার ভোট দিয়েছেন, তাঁদের কোনও কাগজপত্র না-থাকলেও তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম থাকা উচিত নয় কি?
আবার ২০০২-এ নাম নেই অথচ তার পরে এমনকি ২০২৪-এ যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের নামই বা কমিশন কাটে কী করে? এঁরা যদি সবাই অবৈধ ভোটার হন, তবে যে সরকার এঁদের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে এসেছে, সে-ও অবৈধ। এই অন্যায়ের বিচার করবে কে?
নিখিল কবিরাজ, শ্যামপুর, হাওড়া
বন্ধ হোক যুদ্ধ
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত নতুন কিছু নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সরবরাহের উপর পড়ছে। ফলে যুদ্ধের ধাক্কা অনুভূত হচ্ছে আমাদের হেঁশেল থেকে কর্মক্ষেত্রেও। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি মানে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি। এর প্রভাব পড়বে আনাজ থেকে তেল-মশলা সব কিছুর দামেও। অন্য দিকে, ব্যবসা-বাণিজ্যে এর জেরে অনেক সংস্থাতেই শুরু হবে কর্মী ছাঁটাই। শুরু হয়েছে রান্নার গ্যাসের আকাল। ফলে রেস্তরাঁ শিল্প পড়েছে মুশকিলে। আর এর প্রভাব শুধু সেই সব রেস্তরাঁয় কাজ করা কর্মীদের উপরেই নয়, পড়বে অনলাইন ডেলিভারির সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার কর্মীর উপরেও। পাশাপাশি, এর জেরে হাজার হাজার প্রাথমিক-উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শুরু করে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে মিড-ডে মিলের ক্ষেত্রে যে কী অবস্থা হতে পারে, তা কারও অজানা নয়। তেলের কারণে পরিবহণ ক্ষেত্রেও ভাড়া বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। কোনও যুদ্ধে শুধু সেখানকার মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, বহু দূরে যাঁদের যুদ্ধের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই, তাঁরাও প্রভাবিত হন।
পার্থ প্রতিম মিত্র, ছোটনীলপুর, পূর্ব বর্ধমান
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে