ISL 2026

সম্পাদক সমীপেষু: ফের জ্বলল মশাল

একের পর এক কোচের পরিবর্তন, লগ্নিকারী সংস্থার সঙ্গে আকস্মিক টানাপড়েন, দল গঠনে ব্যর্থতা এবং মাঠের ভিতরে একের পর এক হার— সব মিলিয়ে ক্লাবের সোনালি অতীত ফিকে হতে বসেছিল।

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৫:৩৪
Share:

‘সব ক্লাবের সেরা...’ (২২-৫) শীর্ষক প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি। শতবর্ষ প্রাচীন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ইতিহাস যেমন গৌরবের সোনালি পাতায় মোড়া, তেমনই বিগত দু’টি দশক লাল-হলুদ সমর্থকদের জন্য ছিল এক চরম অগ্নিপরীক্ষা। গত ২১ মে-র মায়াময় রাতে কলকাতার কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইন্টার কাশী-কে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথম বার ইন্ডিয়ান সুপার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভারতীয় ফুটবলের সিংহাসন পুনরুদ্ধার করল ইস্টবেঙ্গল এফসি।

একের পর এক কোচের পরিবর্তন, লগ্নিকারী সংস্থার সঙ্গে আকস্মিক টানাপড়েন, দল গঠনে ব্যর্থতা এবং মাঠের ভিতরে একের পর এক হার— সব মিলিয়ে ক্লাবের সোনালি অতীত ফিকে হতে বসেছিল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের সাফল্য যখন সমর্থকদের মনে ক্ষোভ আর হতাশার জন্ম দিচ্ছিল, ঠিক তখনই খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়াল মশাল বাহিনী। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের আসল শক্তি তার কোটি কোটি সমর্থক। গত ২২ বছর ধরে ট্রফি না পেয়েও যাঁরা ক্লাবের পতাকা আগলে রেখেছিলেন, উপহাস সহ্য করেও গ্যালারিতে গলা ফাটিয়েছেন, এই জয় উৎসর্গীকৃত তাঁদের জন্য। ফুটবল এগারো জনের খেলা, কিন্তু কিছু চরিত্র ইতিহাসের পাতায় সোনার অক্ষরে খোদাই হয়ে যায়। ২২ বছর পর কিশোর ভারতীতে ইস্টবেঙ্গলের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প যখনই লেখা হবে, তখন স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড কোচ অস্কার ব্রুসোর নিখুঁত রণকৌশল, আনোয়ার আলি-কেভিন সিবিল্লের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা, ইউসেফ এজ়েজ্জারির গোলক্ষুধা, মিগুয়েলের পায়ের জাদু আর রশিদের সেই ট্রফিজয়ী শটের কথা চিরকাল স্মরণ করা হবে।

অমিয় বিশ্বাস, উত্তর ২৪ পরগনা

অসঙ্গতি?

‘পিজির আইভিএফ ক্লিনিকে লক্ষাধিক টাকায় চিকিৎসার প্রস্তাব’, ‘চার বছরে আইভিএফে গর্ভবতী ৩৩, সন্তান প্রসব ৬ জনের!’ (কলকাতা, ৩-৬) শীর্ষক দু’টি প্রতিবেদনে আইপিজিএমইআর ও এসএসকেএম হাসপাতালে অবস্থিত সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন অ্যাসিসটেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজিস (সিওই ইন এআরটি)-এর কার্যক্রম নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই চিঠি লিখছি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই কেন্দ্রটি আইপিজিএমইআর-এর ‘নলেজ পার্টনার’ হিসেবে জিডি ইনস্টিটিউট অব ফার্টিলিটি রিসার্চ বা জিডিআইএফআর পরিচালনা করে। এর পরিচালক এবং সিওই ইন এআরটি-র প্রধান হিসেবে জানাই যে, প্রতিবেদনগুলিতে একাধিক তথ্যগত অসঙ্গতি ও বিভ্রান্তি রয়েছে।

২০২১ সালে জিডিআইএফআর-কে সিওই পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রশাসনিক কারণে মূল আইভিএফ ল্যাব এখনও চালু না হলেও ওপিডি পরিষেবা চলছে। বর্তমানে ৪,৭০০-এরও বেশি রোগী অপেক্ষায় রয়েছেন। ২০২৪ সালে সরকারের নির্দেশে প্রায় একশো জন রোগীর আইভিএফ চিকিৎসা ২০% ছাড়ে সম্পন্ন করা হয়, যার ব্যয়ভার সরকারের বহন করার কথা ছিল। প্রসঙ্গত, এখনও প্রায় ১১ লক্ষ টাকার সরকারি বকেয়া রয়েছে।

২০২৪-২৫ সালে সরকারি বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক রোগীকে নতুন অনুমোদনের অপেক্ষা করতে বলা হয়। সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ পরামর্শ দেওয়া হয়। যাঁরা বেসরকারি আইভিএফ বিষয়ে জানতে চান, তাঁদের বলা হয় যে, তাঁরা যে কোনও স্বীকৃত কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে পারেন। আইপিজিএমইআর-সিওই-র রোগীদের জন্য জিডিআইএফআর এখনও ২০% ছাড় প্রদান করে।

উল্লেখ্য, চুক্তি অনুযায়ী জিডিআইএফআর-এর মাসিক ব্যবস্থাপনা ফি পাওয়ার কথা থাকলেও গত চার বছরেরও বেশি সময়ে কোনও অর্থ প্রদান করা হয়নি। তবুও রোগীদের স্বার্থে ওপিডি ও আল্ট্রাসাউন্ড পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে। জিডিআইএফআর-কে নলেজ পার্টনার হিসেবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট, প্রতিযোগিতামূলক বিডিং ও টেন্ডার-সহ সরকারের নির্ধারিত সমস্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি সরকারের কাছে এবং আমাদের কাছেও সংরক্ষিত রয়েছে।

ডা. বিশ্বনাথ ঘোষ দস্তিদার ২০২১ থেকে আইপিজিএমইআর-এ কর্মরত। তিনি জিডিআইএফআর-এর প্রতিনিধি নন। আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ও ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজিস্ট হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সরকারি নির্দেশে সিওই-তে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৮৭ জনের মধ্যে ৩৩ জন গর্ভবতী হয়েছেন। প্রায় ৪০% গর্ভধারণের হার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সিওই একটি ওপিডি-ভিত্তিক কেন্দ্র; এখানে ইনডোর বা প্রসব-পরিষেবা নেই। আইভিএফ-পরবর্তী রোগীরা আইপিজিএমইআর-এর সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তাই ‘মাত্র ৬টি প্রসব’-এর উল্লেখ করে কেন্দ্রের কার্যকারিতা বিচার করা বাস্তবসম্মত নয়।

আমার ৪৫ বছরের আইভিএফ গবেষণায় অবদানের কথাও রিপোর্টে আসেনি, যার মধ্যে রয়েছে ভারতের প্রথম সফল আইইউআই কর্মসূচি (১৯৮২-৮৩), দ্বিতীয় সফল আইভিএফ শিশু জন্ম (১৯৮৬), প্রথম সফল আইসিএসআই কর্মসূচি (১৯৯৫)। আমাদের আইভিএফ কেন্দ্রকে ভুল ভাবে গড়িয়াহাটে অবস্থিত বলা হয়েছে, যদিও এটি ২০০৬ সালেই ৩৬এ/১, এস.পি. মুখার্জি রোডে স্থানান্তরিত।

ডা. সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার, ডিরেক্টর, জিডিআইএফআর, প্রধান উপদেষ্টা, সিওই ইন এআরটি, আইপিজিএমইআর, এসএসকেএম হাসপাতাল

প্রতিবেদকদের উত্তর: পত্রলেখক চিকিৎসকের পত্রের উত্তরে প্রথমে জানাই, প্রতিষ্ঠানের পুরনো ঠিকানা লেখার ভুলটি অনিচ্ছাকৃত। অতঃপর কতগুলি প্রশ্নের উত্তর। প্রথমত, লেখার মধ্যে উদ্বেগের মূল কেন্দ্রবিন্দুটি তিনি বুঝতে অসমর্থ হয়েছেন। ৮৭ জনের মধ্যে ৩৩ জনের গর্ভবতী হওয়াটা বড় কথা নয়, বন্ধ্যাত্ব কেন্দ্রে চার বছর ধরে অপেক্ষমাণ প্রায় পাঁচ হাজার মহিলার মধ্যে মাত্র ১০০ জনকে আইভিএফ-এর জন্য বাছাই করে চিকিৎসা করার বিষয়টিতেই উদ্বেগের উৎস। এবং তার পর ৩৩ জনের মধ্যে যদি সাকুল্যে ৫-৬ জনের প্রসব ওই কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে হয়, তবে কেন্দ্রের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, সে কথাই বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, সাক্ষাৎকারে পত্রলেখক নিজেও এ বিষয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তাঁর পুত্রও হতাশার কথা বলেন। দ্বিতীয়ত তিনি দাবি করেছেন কেন্দ্রটি ওপিডি-ভিত্তিক। অথচ তিনি নিজেই বলেছিলেন, এসএসকেএম-এ এই কেন্দ্রের জন্য ছয় শয্যার একটি ছোট ওয়ার্ড রয়েছে, যেখানে ছয়-সাত জনের প্রসবও হয়েছে। তাঁর নিজের ভাষায়, ‘‘বাকিরা অন্য কোনও সরকারি বা বেসরকারি জায়গায় ভর্তি হয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, আমাদের কাছে তার তথ্য নেই।’’ প্রশ্ন হল, রাজ্য সরকার থেকে ১ কোটির উপরে টাকা পেয়েও এই গর্ভবতীরা সুস্থ সন্তান প্রসব করতে পারলেন কি না, সেই তথ্য তাঁরা রাখেননি কেন। তৃতীয়ত, তাঁর নিজের চিকিৎসক জীবনের কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়নি, এই অভিযোগ তিনি তুলেছেন। এখানে তার প্রয়োজন ছিল না বলে রাখা হয়নি, মূল প্রসঙ্গ ছিল, রাজ্যের পয়লা নম্বর সরকারি হাসপাতালে চার বছর ধরে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার নামে যে প্রহসন চলছে, তা তুলে ধরা। চতুর্থত, প্রতিবেদনে বলা হয়নি যে, সরকারি অনুমোদন ছাড়া বেসরকারি আইভিএফ পরিচালনা হয়েছে। বরং বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, এসএসকেএম-এ আইভিএফ চিকিৎসার উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিতে ‘ঘোষদস্তিদার ইনস্টিটিউট ফর ফার্টিলিটি রিসার্চ’-কে নলেজ পার্টনার করা হয়েছিল। পঞ্চমত, এসএসকেএম হাসপাতালে আইভিএফ ক্লিনিকে আসা একাধিক রোগী তাঁদের বক্তব্যে জিডিআইএফআর-এর কাউন্সেলিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কাউন্সেলিং-এর ঘরে সংস্থার কর্মীরা প্রথমেই হাসপাতালের সরকারি কাঠামোর চিকিৎসা নিয়ে নিরুৎসাহিত করেন এবং জিডিআইএফআর-এর মোট টাকার থেকে নির্দিষ্ট ছাড়ের কথা বলে বেসরকারি সংস্থাটির ল্যাবে যেতে বলেন। কাউন্সেলিং-এর ঘর থেকে জিডিআইএফআর-এর ঠিকানা সম্বলিত ছাপানো চিরকুটও দেওয়া হত। ষষ্ঠত, চিকিৎসক বিশ্বনাথ ঘোষ দস্তিদারের ভূমিকা সম্পর্কে প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। তিনি জিডিআইএফআর-এর প্রতিনিধি না হলেও ওই সংস্থা তাঁর বাবার পরিচালিত, ফলে তাঁর কথা অপ্রাসঙ্গিক নয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন