Tiger and People Coexistence

সম্পাদক সমীপেষু: বাঘের সমস্যা

সুন্দরবনই পৃথিবীর অন্যতম একক ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, যেখানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের বাস। তথ্য বলছে, ভারতে বাঘের মোট আক্রমণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘটে সুন্দরবনে।

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ০৬:৩৩
Share:

‘সুন্দরবনে বাঘ বেড়েছে, দাবি গণনায়’ (৯-৬) শীর্ষক খবরে জানা গেল, সাম্প্রতিক বাঘশুমারিতে সুন্দরবনে বাঘ বেড়ে অন্তত ১১০টি হয়েছে। এই সুখবরের পাশাপাশি সুন্দরবনে চলতি মাসের শুরুতেই বাঘের হামলায় প্রাণ গিয়েছে একাধিক মৎস্যজীবী ও বনজীবীর। সুন্দরবনে বাঘের আতঙ্ক বা বাঘ-মানুষের সংঘাত বহু পুরনো হলেও, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বাঘের আক্রমণে এমন প্রাণহানির ঘটনা বনাঞ্চল নির্ভর গরিব মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকায় উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে উঠছে নিরাপত্তার প্রশ্নটিও। সাম্প্রতিক সময়ে (যেমন, ২০২৫ ও ২০২৬ সাল) কুলতলি, গোসাবা ও গভীর জঙ্গলের বিভিন্ন খাঁড়িতে কাঁকড়া-মাছ ধরতে গিয়ে বেশ কয়েক জনের বাঘের পেটে যাওয়ার এবং নিখোঁজ হওয়ার খবরও উঠে এসেছে।

সুন্দরবনই পৃথিবীর অন্যতম একক ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, যেখানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের বাস। তথ্য বলছে, ভারতে বাঘের মোট আক্রমণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘটে সুন্দরবনে। এ দিকে বাঘের সংখ্যা বাড়ায় তাদের বিচরণের জায়গাও প্রসারিত হয়েছে। এক শ্রেণির বাঘ-বিশেষজ্ঞের মতে, তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে জলে নুনের পরিমাণ বাড়ায় বাঘের মানুষখেকো আচরণ আরও বেড়েছে। শিকারের জন্য তাই তারা আরও বেশি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এ দিকে সুন্দরবনের জঙ্গলজীবী প্রান্তিক মানুষগুলির আয়ের আর অন্য কোনও পথ নেই। বন অধিকার আইনের আওতায় ‘কোর এরিয়া’ ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু গরিব মৎস্যজীবীদের সমস্যা কমছে না। বন দফতরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, পেটের তাগিদে বাধ্য হয়ে গভীর জঙ্গলে কাঁকড়া-মাছ-মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁরা বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারাচ্ছেন। আবার অনেকের বৈধ নৌকা বা মাছ ধরার পারমিট থাকলেও, তাঁদের নানা হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে।

সুন্দরবনে বাঘ বৃদ্ধির খবরে পরিবেশ সংক্রান্ত আরও একটি জরুরি বিষয় এখানে যোগ করা যায়। বাঘ-বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এলাকার বাস্তুতন্ত্র ও ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা থাকা উচিত ১১০ থেকে ১২০টির মধ্যে। তাই সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়লে তা নিয়ে যথাযথ সতর্কতার বিশেষ প্রয়োজন আছে। সুন্দরবন সংলগ্ন বনাঞ্চল জুড়ে ক্রমশ বর্ধিত জনসংখ্যার চাপ, চরম বেকারত্ব, দারিদ্রের পাশাপাশি অবৈধ শিকার ও সর্বোপরি উষ্ণায়নের মতো বিষয়গুলি বাঘের থাকার পক্ষেও প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তাই সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়তে আমরা যতই খুশি হই না কেন, আগামী দিনে এই প্রাণীগুলি আর কত কাল এই অঞ্চলে সগৌরবে টিকে থাকতে পারবে, সেই নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

পৃথ্বীশ মজুমদার, কোন্নগর, হুগলি

ডাকঘরে সমস্যা

কিছু কাল আগে স্ত্রী’র সঙ্গে সাব-পোস্ট অফিসে একটি যৌথ সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট এবং একটি মাসিক আমানত (আরডি) প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছিলাম। গত বছর জুন মাসে আমাদের এজেন্টের আকস্মিক মৃত্যুর পর থেকে সমস্ত জমা আমাকে নিজেকেই করতে হয়। জুলাই ও অগস্ট মাসে কিস্তি জমা দিতে গিয়ে দীর্ঘ লাইন, অত্যন্ত ধীর গতির কাজকর্ম এবং কর্মীদের অপ্রয়োজনীয় উদাসীনতার মুখোমুখি হই। এই ভোগান্তি এড়াতে অগস্টের শেষে সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট থেকে আরডি অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয় অর্থ কেটে নেওয়া বা অটো ডেবিটের আবেদন করি। পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ মৌখিক ভাবে ব্যবস্থা চালু হয়েছে বলে জানালেও, কোনও লিখিত প্রমাণ কিন্তু দেননি।

এর পর থেকে নিয়মিত পর্যাপ্ত অর্থ সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে রাখা সত্ত্বেও এক বারও অটো ডেবিট কার্যকর হয়নি। বহু বার যোগাযোগ করার পরও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং জানানো হয়, আমানতের মেয়াদ পূর্ণ না-হওয়া পর্যন্ত কোনও সংশোধন বা অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা যাবে না। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে এমন অব্যবস্থা, জবাবদিহির অভাব এবং গ্রাহক পরিষেবার এই মান অত্যন্ত হতাশাজনক। আরও অনেকেই হয়তো এই একই সমস্যার শিকার হচ্ছেন। তাই কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই পরিষেবার মানোন্নয়নের দাবি জানাচ্ছি।

সুগত চৌধুরী, সাঁতরাগাছি, হাওড়া

ট্যাক্সি স্ট্যান্ড

বেহালা বাজার ও বেহালা ম্যান্টনের মাঝে অনেক আগে একটি হলুদ ট্যাক্সির স্ট্যান্ড থাকত। প্রায় ২৪ ঘণ্টা সেখান থেকে হলুদ ট্যাক্সি পাওয়া যেত। যাঁরা অ্যাপের মাধ্যমে ক্যাব বুক করতে পারেন না, তাঁদের জন্য খুব সুবিধা ছিল। আমার অনুরোধ, ওই ধরনের ট্যাক্সি স্ট্যান্ড যদি কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে আবার ফিরিয়ে আনা যায়, তা হলে বয়স্ক ব্যক্তিরা উপকৃত হবেন।

তাপসকুমার নাগ, কলকাতা-৩৪

তৎকাল টিকিট

রেলের তৎকাল টিকিট এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে— এ কথা ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন। অথচ, রেল কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে আশ্চর্যজনক ভাবে নীরব। যাঁরা জরুরি পরিস্থিতিতে এই টিকিট কাটতে বাধ্য হন, তাঁরা জানেন যে দালাল ছাড়া এমন টিকিট পাওয়া এক প্রকার অসম্ভব। তৎকাল টিকিটের নির্ধারিত সময়ে যেখানে সার্ভারে ঢোকা যায় না, সেখানে এই দালালরা অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দিব্যি টিকিট কেটে দেন। রেল দফতরও এই সুযোগে ‘প্রিমিয়াম তৎকাল’ নামে আর একটি পদ্ধতি চালু করে বিপদগ্রস্ত মানুষদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের খেলায় মেতেছে।

প্রশ্ন জাগে, টিকিট কাটার বিষয়ে এই দালালদের কি অন্য কোনও কৌশল জানা আছে? আর একটি কথা প্রায়ই শোনা যায়— রেলের কিছু অসাধু কর্মচারী এই পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত। যদি সত্যিই এমন কিছু থেকে থাকে, তবে তা নিয়ে যথাসম্ভব শীঘ্র তদন্ত হোক।

অলোক ভট্টাচাৰ্য, কলকাতা-৫৬

অচেনা নম্বর

সম্প্রতি টেলিকম সংস্থাগুলি একটি ব্যবস্থা চালু করেছে, যার ফলে ফোনে না থাকা নম্বর থেকে কল এলে যে সিম থেকে কল করা হচ্ছে, সেই সিম যে ব্যক্তির নামে নথিবদ্ধ, সেই নামটি ফুটে উঠছে মোবাইলের পর্দায়। কোনও ‘থার্ড পার্টি অ্যাপ’ ছাড়াই এই সুবিধা মিলছে। টেলিকম সংস্থাগুলির এটি একটি ভাল উদ্যোগ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কল যখন আসছে তখন ফোনের স্ক্রিনে নাম-সহ নম্বরটি দৃশ্যমান হচ্ছে, কিন্তু নম্বরটি আগে থেকে ‘সেভ’ করা রয়েছে কি না, সেটা বোঝার উপায় থাকছে না। যেমন, কারও ফোনে অমুক পাল নামে এক ব্যক্তির নম্বর আগে থেকে ‘সেভ’ করা রয়েছে। দেখা গেল, অমুক পালেরই ফোন এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফোনটি তুলে বুঝতে পারলেন এই অমুক পাল তাঁর পরিচিত নন, একই নামের অন্য ব্যক্তি। এই অবস্থায় তাই টেলিকম অপারেটরদের কাছে অনুরোধ, সেভ না থাকা নম্বর থেকে কল এলে, সেই ব্যক্তির নাম আর নম্বরের সঙ্গে যদি ‘আননোন কলার’ বা এই ধরনের কিছু সতর্কীকরণ মোবাইলের পর্দায় ভেসে ওঠে, তা হলে বিষয়টি আরও সুবিধাজনক হয় গ্রাহকদের কাছে।

অনির্বিত মণ্ডল, ইছাপুর, উত্তর ২৪ পরগনা

অপরিচ্ছন্ন

অনেক মেট্রো স্টেশনের এস্ক্যালেটরে উঠতে গিয়ে দেখা যায়, তাতে এ দিক ও দিক চিউইং গাম বা কোনও লজেন্স, চকলেটের মোড়ক পড়ে আছে। এগুলিই হয়তো যন্ত্রটির ভিতরে গিয়ে যন্ত্রটি বিকল করে দেয়। তা ছাড়া, এতে জায়গাটিও অপরিচ্ছন্ন হয়। আর কবে বোধোদয় হবে?

শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা-৩৬

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন