Crimes

পালাবদলের পরেই রাজনীতি-যুক্ত মামলার সেঞ্চুরি, প্রমাণ সংরক্ষণ করতে নাজেহাল পুলিশ

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এমন অভিযোগের তদন্তের পরে ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করতেই নাজেহাল হতে হচ্ছে।

নীলোৎপল বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ০৮:০১
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বানের জলের মতো অভিযোগ আসছে থানায় থানায়। খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, প্রতারণা, জালিয়াতি, যৌন নিগ্রহের এমন বেশির ভাগ অভিযোগের সঙ্গেই রাজনীতি যুক্ত। গত এক মাসে কলকাতা পুলিশ এলাকার বিভিন্ন থানায় এমনই পরিস্থিতি বলে সূত্রের খবর। অবস্থা এমন যে, আগে যে সব থানায় মাসে সাকুল্যে সাত-দশটি মামলা রুজু হত বলে পুলিশকর্মীদের দাবি, সেই সব থানাতেও গত এক মাসে ৫০টি মামলা রুজু হয়েছে। কোথাও নতুন সরকারের প্রথম ২০ দিনেই মামলার সেঞ্চুরিহয়ে গিয়েছে!

ফাঁপরে পড়া পুলিশকর্মীদের বড় অংশই দাবি করছেন, অতীতের ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলির তদন্ত করার নির্দেশ তো ছিলই, তার পাশাপাশি, ইতিমধ্যেই তদন্ত শেষ হয়ে যাওয়া অতীতের ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা বা যৌন নিগ্রহের ঘটনাগুলিরও পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে অভিযোগের বন্যা।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এমন অভিযোগের তদন্তের পরে ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করতেই নাজেহাল হতে হচ্ছে। এ নিয়ে একটি থানার অফিসারের মন্তব্য, ‘‘এত মামলা নজরে রাখাই তো শক্ত। তথ্যপ্রমাণ ঠিকঠাক সংরক্ষণ করতেই ঘামছুটে যাচ্ছে।’’

গত ৯ মে নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। পুলিশ সূত্রের খবর, তার পরের এক মাসে সব চেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে দক্ষিণ কলকাতার থানাগুলিতে। গত এক মাসে সব চেয়ে বেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের গ্রেফতারিও ঘটেছে দক্ষিণ কলকাতার থানাগুলিতেই। দক্ষিণ কলকাতার একটি থানার তদন্তকারী অফিসারের মন্তব্য, ‘‘অভিযোগ এলেই পদক্ষেপ করতে এবং দ্রুত গ্রেফতার করতে বলা হচ্ছে। তাতেই মামলার পাহাড় জমে যাচ্ছে।’’

উত্তরে সব চেয়ে বেশি এই ধরনের অভিযোগ জমা পড়েছে উত্তর-পূর্ব কলকাতার থানাগুলিতে। এর পরেই রয়েছে কাশীপুর এবং শ্যামপুকুর থানা। উত্তরের মানিকতলা, বেলেঘাটা, বড়তলার মতো কয়েকটি থানায় আবার রাজনৈতিক কার্যালয় দখল হওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে বেশি।

পুলিশ সূত্রের খবর, গত এক মাসে সব চেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮ (প্রতারণা), ৩০৮ (তোলাবাজি) এবং ৩২৬ (জালিয়াতি) নম্বর ধারা। এর পরেই রয়েছে হুমকির (৩৫১) ধারা। যে সমস্ত ঘটনার সঙ্গে রাজনীতি যুক্ত, সেখানেই মামলা রুজু করার সময়ে এই ধারার ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে। পুলিশের একাংশেরই বক্তব্য, এর সঙ্গেই কিছু ক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছে খুনের চেষ্টা, অর্থাৎ ১০৯ (১), যৌন নিগ্রহ (৭৫), যৌন সম্পর্ক স্থাপনের দাবি করে হুমকি (৭৫) (১) (ii) এবংযৌন নিগ্রহের উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগের (৭৪) ধারা।

হেফাজতে থাকাকালীন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগ জমা পড়লে নতুন মামলা রুজু করে পরে সংশ্লিষ্ট মামলায় ফের হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। আইনজীবী কল্লোল ঘোষ বললেন, ‘‘কিছু ক্ষেত্রে এমন ভাবে মামলা হচ্ছে, যাতে প্রথমেই জামিন পাওয়ার উপায় না থাকে। কেউ কারও মুখ থেকে কারও বিরুদ্ধে কিছু শুনেছেন বলে দাবি করেও অভিযোগ দায়ের হচ্ছে।’’

আইনজীবীদের দাবি, গত এক মাসে রুজু হওয়া মামলাগুলিতে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া, সরকারি ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার কারণে প্রতারণা বা টাকা তোলার অপরাধ সংক্রান্ত ধারাও যুক্ত হচ্ছে। আর এক আইনজীবী সপ্তর্ষি সিংহ বললেন, ‘‘আইনের চোখে তোলাবাজি এক ধরনের অপরাধ। তবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৮৬ ধারা, অর্থাৎ, খুনের হুমকি দিয়ে তোলাবাজি আরও গুরুতর ব্যাপার। এতে ১০ বছর হাজতবাসের শাস্তি হতে পারে। তেমনই শুধু প্রতারণার ধারার থেকে আরও গুরুতর ৩১৮ (৪), অর্থাৎ সম্পত্তি হস্তান্তরে বাধ্য করার ধারা যুক্ত করা হচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে।’’

এ ব্যাপারে কলকাতা পুলিশের কোনও কর্তাই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি। যুগ্ম-নগরপাল পদমর্যাদার এক পুলিশকর্তা শুধু বলেছএন, ‘‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইন কিছু ক্ষেত্রে বেশি কঠোর। নির্দিষ্ট অভিযোগে নির্দিষ্ট ধারা যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। সেই মতোই সব করা হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন