NEET UG

সম্পাদক সমীপেষু: প্রবেশিকায় গাফিলতি

ছাত্রজীবনের প্রায় সবটুকু উজাড় করে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতিতে জল ঢেলে দিল চরম প্রশাসনিক গাফিলতি। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে হয়েছে, এমন তথ্য পুলিশি তদন্তে এসেছে।

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ০৪:৩৮
Share:

‘ব্যর্থ’ (১৬-৫) শীর্ষক সম্পাদকীয়তে এ বছর ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের পিছনে সরকারি নজরদারিতে ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো’ ব্যবস্থাপনার কথা যথার্থ বলা হয়েছে। ২০২৪-এর মতো এবারও প্রায় ২৩ লক্ষ ছাত্রছাত্রী কেলেঙ্কারির কুশীলবদের হাত থেকে রক্ষা পেল না। খবরে প্রকাশ, পরীক্ষা বাতিলের কারণে একাধিক পরীক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। কারণটা হয়তো এ বারের পরীক্ষা ভাল হয়েছিল। কিন্তু বাতিলের কারণে নতুন যে পরীক্ষা ঘোষিত হয়েছে, সেটি ভাল না-ও হতে পারে।

এর দায় কার? ছাত্রজীবনের প্রায় সবটুকু উজাড় করে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতিতে জল ঢেলে দিল চরম প্রশাসনিক গাফিলতি। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে হয়েছে, এমন তথ্য পুলিশি তদন্তে এসেছে। সুতরাং, মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, এ খেলা চলছে নিরন্তর। তদন্ত এগোলে হয়তো দেখা যাবে বহু বছর ধরে সর্ষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সরকারপোষিত ভূতেদের সাহায্যেই ফাটকাবাজরা এমন কাজ চালাচ্ছে। বিনিময়ে ভূতেদের পকেটে কোটি কোটি টাকা ঢুকছে।

ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দেশের কোচিং সেন্টারগুলির উপর অবশ্যই সরকারি নজরদারি প্রয়োজন। সেই কাজ এখন শুরু হয়েছে। তা ছাড়া এই সব দুর্নীতিগ্রস্ত ফাটকাবাজের হাত থেকে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষাকে রক্ষা করার জন্য পরীক্ষার পদ্ধতিতেও কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। অন্যান্য সর্বভারতীয় চাকরির প্রবেশিকাতে দুই বা তার অধিক ধাপে পরীক্ষা নেওয়া হয়। একটু উচ্চ পদে হলে দ্বিতীয় ধাপের পরে ইন্টারভিউ হয়। সেখানে এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা কেন শুধুমাত্র এক ধাপেই নেওয়া হবে? প্রথম ধাপে যদি অন্যান্য সর্বভারতীয় পরীক্ষার মতো প্রিলিমিনারি এবং দ্বিতীয় ধাপে মেন পরীক্ষা নেওয়া হয়, তা হলে হয়তো জালিয়াতদের জালিয়াতি করার সুযোগ অনেকটা কমবে। জালিয়াতির সুযোগ আরও কমবে যদি মেন পরীক্ষায় পাশ করার পর তৃতীয় ধাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাবজেক্টিভ পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে, যেখানে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু প্রশ্ন থাকবে। এই তিন পরীক্ষার সম্মিলিত মানের মাধ্যমে অবশ্যই সুচিকিৎসক গড়ে তোলার মতো মেধাবী ছাত্রছাত্রী পাওয়া যেতে পারে।

স্বরাজ সাহা, কলকাতা-১৫০

রাজ্যের হাতে

‘ব্যর্থ’ শীর্ষক সম্পাদকীয় প্রসঙ্গে কিছু কথা। আমাদের দেশে শিল্প, ব্যবসা থেকে শুরু করে স্কুলশিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি যখন লাগামছাড়া, তখন তার থেকে মুক্তি পেতে পারে না ডাক্তারি স্নাতক স্তরের সর্বভারতীয় পরীক্ষাও। কেন্দ্রের বিজেপি শাসনের প্রায় ১০ বছরের অধিক সময়ে অনেক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা জানা গিয়েছে। ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্ন লক্ষ লক্ষ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ভাবে ছিনিমিনি খেলা আর কত দিন চলবে? দেশে উচ্চশিক্ষার প্রবেশদ্বার কি কোনও দিন সুরক্ষিত করা যাবে না? দেশের দুর্বৃত্ত চক্রের হাত কত দূর প্রসারিত হলে তবে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যেতে পারে, ভেবে অবাক লাগে! এর পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, নিট পরীক্ষা যদি এনটিএ সামলাতে না পারে, তবে এই প্রবেশিকা পরীক্ষা রাজ্যগুলির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না কেন? হয় কঠোর পদক্ষেপ করে সর্বভারতীয় এই প্রবেশিকা পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করা হোক, নয়তো ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে ভর্তির দায়িত্ব পুনরায় দেওয়া হোক সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির হাতেই।

রতন চক্রবর্তী, উত্তর হাবড়া, উত্তর ২৪ পরগনা

হারের কারণ

শুভময় মৈত্রের ‘হারজিতের হিসাবনিকাশ’ (২০-৫) শীর্ষক প্রবন্ধে সদ্যসমাপ্ত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয় এবং তৃণমূলের পরাজয়ের পিছনে যে তথ্য ও যুক্তির অবতারণা করা হয়েছে, তার সঙ্গে সহমত। যতই তৃণমূল নেতৃত্বের তরফ থেকে ভোট লুট বা ইভিএম-এর কারচুপির অভিযোগ উঠুক না কেন, রাজ্যের বৃহৎ অংশের নাগরিক যে তাঁদের অপশাসনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুসারে, তা মেনে নিয়ে আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন।

এই আমলেই চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। তেমনই কয়লা, বালি, গরু পাচার থেকে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য জনগণকে ক্ষুব্ধ করেছে। দুর্নীতির চরমরূপ দেখা গিয়েছে প্রায় প্রতিটি রাজ্য সরকারি চাকরির নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষায়। শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎকে প্রায় ছেলেখেলার পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছিল। তাঁদেরই অদূরদর্শিতায় সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলি যোগ্য শিক্ষকের অভাবে এখন প্রায় শিক্ষার্থী-শূন্য। এক দিকে যেমন বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, পাশাপাশি বাংলা মাধ্যম সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলি একের পর এক তালাবন্ধ হয়েছে। পার্ক স্ট্রিট, কামদুনি থেকে আর জি কর কাণ্ডের মতো নারীনির্যাতনের ঘটনাগুলিকে সরকারের ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টা ও নির্যাতিতাদের প্রতি অসংবেদনশীল মনোভাব মানুষ সুনজরে দেখেননি। অন্য দিকে, বিগত পুর ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীদের ভীতি প্রদর্শন করে প্রার্থিপদ প্রত্যাহারে বাধ্য করা ও ভোট লুট জনমানসে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি করেছিল।

দলীয় কর্মীদের উপর ভরসার বদলে এজেন্সি-নির্ভরতাও ভরাডুবির অন্যতম কারণ। অন্য দিকে, বাংলার রাজপাট দখলের জন্য বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সব রকম প্রচেষ্টা তাঁদের আশাতীত জয় এনে দিয়েছে। নবগঠিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা কতখানি পূরণ হবে, আগামী দিনেই তা বোঝা যাবে।

কৌশিক চিনা, মুন্সিরহাট, হাওড়া

ট্রাম চালু হোক

এক সময় কালীঘাট ট্রাম ডিপো থেকে অজস্র ট্রাম বালিগঞ্জে যেত। এখন সেই ট্রাম ডিপো বন্ধ, ভিতরের ট্রামগুলি রোদ-ঝড়-জলে নষ্ট হচ্ছে। এই পথে এখন যাতায়াতের খরচ বেড়েছে। অটোতে অথবা ভিড় বাসে বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। ফলে, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির জনগণের পকেটে অত্যধিক চাপ পড়ছে। বর্তমান সময়ে যুদ্ধের আবহে পেট্রলিয়ামজাত পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিদ্যুৎচালিত গণপরিবহণ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। এই অবস্থায় ট্রাম পরিষেবা কলকাতাবাসীর কাছে বিকল্প পরিবহণ হিসেবে কাজ করতে পারে। কালীঘাট থেকে বালিগঞ্জে ট্রাম চালানোর কোনও বাধা নেই। ট্রাম লাইন রয়েছে, বিদ্যুতের তার সংযোগ রয়েছে, ট্রামও রয়েছে। এই রুটের ট্রাম পরিষেবা চালু হলে নিত্যযাত্রীরা তো বটেই, অসংখ্য তীর্থযাত্রীও উপকৃত হবেন। এই ট্রাম রুটটিকে বালিগঞ্জের সঙ্গে কালীঘাট মেট্রো স্টেশন-এর সংযোগকারী লাইন হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।

ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা-১০৭

ধীর গতি

বেলঘরিয়া উড়ালপুলের সংস্কারের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। বিকল্প যে রাস্তাগুলি নির্দিষ্ট করা হয়েছে সেগুলোর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। প্রতি দিন দু’নম্বর রেলগেটে দীর্ঘ ক্ষণ যানজটও হচ্ছে ও রেলগেট বন্ধ করতে না-পারার কারণে ট্রেনও দেরিতে চলছে।

অলোক ভট্টাচার্য, কলকাতা-৫৬

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন