Science and Knowledge

সম্পাদক সমীপেষু: বোঝানোর সহজ পথ

বিজ্ঞান এমন একটি বিষয়, যা বুঝতে পারলেই পড়ুয়ারা তাতে মেতে ওঠে; আর না বুঝলেই বিষয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়ায়।

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ০৮:৪৯
Share:

রূপালী গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বিজ্ঞান-লেখকের দরবারে’ (২২-৩) লেখাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ। এ বিষয়ে কিছু কথা। বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে অক্ষয় কুমার দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ সাহিত্যিকের অবদান তো রয়েছেই, তা ছাড়া আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, সত্যেন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ বিজ্ঞানীও বিজ্ঞান বিষয়ে চমৎকার সাহিত্য রচনা করে গিয়েছেন। বাংলা ভাষার উপর তাঁদের যথেষ্ট দখল ছিল বলেই প্রতিশব্দের অভাবজনিত প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করতে পেরেছেন। বর্তমান বিশেষায়নের যুগে বিজ্ঞান ও সাহিত্য— একই সঙ্গে উভয় ক্ষেত্রে পারদর্শী মানুষের অভাব প্রকট। অথচ এই দুই ক্ষেত্রকে পরস্পরের পরিপূরক হিসাবেই দেখা উচিত। এই প্রসঙ্গে বিজ্ঞান বিষয়ে পঠন-পাঠন নিয়ে কিছু বলতে চাই।

বিজ্ঞান এমন একটি বিষয়, যা বুঝতে পারলেই পড়ুয়ারা তাতে মেতে ওঠে; আর না বুঝলেই বিষয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। বোঝানোর পদ্ধতি তাই যথেষ্ট ভাবনা-চিন্তার দাবি রাখে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, আলোর প্রতিফলনের দু’টি সূত্র লিখতে বললে অধিকাংশ ছাত্র নির্ভুল ভাবে লিখে দেয়— ১) আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান। ২) আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে। কিন্তু দ্বিতীয় সূত্রটি যে সকলের কাছে সহজে বোধগম্য হয় না, তা শিক্ষকদের অনুধাবন করা উচিত। ব্ল্যাকবোর্ডে ছবি এঁকে বোঝালেও বিষয়টি অনেক সময় পরিষ্কার হয় না। সে ক্ষেত্রে তিনটি কাঠি ব্যবহার করে অতি সহজে বিষয়টি বোঝানো যায়। দেখাতে হবে: ‘এ ভাবে নয়’, ‘এ ভাবেও নয়’, বরং ঠিক সেই ভাবে, যাতে উল্লিখিত কোণদ্বয় সমান থাকে ও তিনটি রেখাই একই সমতলে অবস্থান করে।

এর আগে এই সূত্রগুলির প্রয়োজনীয়তা কী, তা ছাত্রদের জানানোও জরুরি। অনেক ছাত্রই জানে না যে, প্রতিফলিত রশ্মি কোন অভিমুখে যাবে তা নির্ধারণ করার জন্যই এই সূত্রদ্বয় ব্যবহৃত হয়। শুধু প্রথম সূত্র দিয়ে অভিমুখ নির্ণয় করা যায় না, এই আলোচনা শিক্ষকেরা অনেক সময় করেন না। ফলে যদি প্রশ্ন করা হয়, “প্রতিফলিত আলো কোন দিকে যায়?”— তবে অনেক ভাল ছাত্রও ঠিক ভাবে উত্তর দিতে পারে না। অথচ এই সূত্রদ্বয় প্রয়োগ করে বলা যায় যে প্রতিফলিত আলো এমন দিকে যাবে, যেখানে প্রতিফলন কোণ ও আপতন কোণ সমান হবে এবং আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি ও অভিলম্ব একই সমতলে থাকবে।কিন্তু এই ধরনের প্রশ্ন সাধারণত করা হয় না বা পরীক্ষাতেও আসে না। মাধ্যমিকে যদি এমন প্রশ্ন আসে, তবে হয়তো ‘সিলেবাস বহির্ভূত’ বলে পরীক্ষা কেন্দ্রেই আপত্তি উঠবে।

দুর্গেশ কুমার পান্ডা, সোনারপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

লেখকের দায়

রূপালী গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘বিজ্ঞান-লেখকের দরবারে’ শীর্ষক প্রবন্ধটি পড়তে পড়তে রাজশেখর বসুর বিচিন্তা গ্রন্থের একটি প্রবন্ধের কথা মনে পড়ছিল। বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ লেখার ক্ষেত্রে সেখানেও কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। আজও সেই পুরনো সমস্যাগুলির অনেকটাই একই রকম রয়ে গিয়েছে।

এ ক্ষেত্রে মূল বিষয় হল, যাঁদের জন্য এই ধরনের বৈজ্ঞানিক লেখা, অর্থাৎ পাঠকসমাজ, তাঁদের জ্ঞানের স্তরকে মাথায় রেখেই লেখা প্রয়োজন। লেখা যদি সহজবোধ্য না হয়, উদাহরণ যদি বাস্তবসম্মত না হয়, তবে সেই লেখা পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল টার্মিনোলজি বা পরিভাষা। আজকের যুগে বিজ্ঞানের বহু পরিভাষা রয়েছে, যা সাধারণ পাঠকের কাছে অপরিচিত। তাই সেই সব পরিভাষা ব্যবহার করলে পাদটীকায় তার ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। ইংরেজি পরিভাষার বাংলা অনুবাদের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার, যাতে অর্থবিকৃতি না ঘটে।

মোদ্দা কথা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা আবিষ্কারের বড় অংশই যে-হেতু বিদেশে সংঘটিত, তাই বাংলায় সেই বিষয়গুলি লিখতে গেলে লেখকের যেমন সচেতনতা প্রয়োজন, তেমনই সম্পাদকদেরও দায়িত্ব কম নয়। লেখার ভাষা, পরিভাষার প্রয়োগ ও উপস্থাপনা— সব দিকেই সমান নজর দিতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলায় অবশ্য অনেক ভাল কাজ রয়েছে। সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাদ সাহা থেকে শুরু করে পথিক গুহ পর্যন্ত এই ধারা আজও অব্যাহত।

শঙ্খ অধিকারী, সাবড়াকোন, বাঁকুড়া

মানবিকতা

রূপালী গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বিজ্ঞান-লেখকের দরবারে’ প্রবন্ধ বিষয়ে কিছু কথা। উচ্চতর বিজ্ঞানের বিষয় সহজ করে বোঝাতে অনেক সময়ই এমন কিছু উদাহরণ দেওয়া হয়, যা হঠাৎ আজব ঠেকতে পারে। কোয়ান্টাম বলবিদ্যার ক্ষেত্রে এ রকম অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেগুলি জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণা স্পষ্ট করে তুলতে সাহায্য করে। আনন্দবাজার পত্রিকার ‘রবিবাসরীয়’ এবং অন্যান্য বিভাগে এই ধরনের বেশ কয়েকটি লেখা পড়ে এই পত্রলেখকের বহু ধারণা পরিষ্কার হয়েছে, যা বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির বই (পেশাগত কারণে) পড়েও ততটা স্পষ্ট হয়নি।

কিছু দিন আগে প্রযুক্তিবিদ্যা বিষয়ক একটি নামী গবেষণাপত্রিকার সম্পাদকীয় পড়তে গিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা পাওয়া গেল, আমাদের মধ্যে যাঁরা বিজ্ঞান নিয়ে প্রথাগত ভাবে লেখাপড়া করি, তাঁদের অনেকের মধ্যেই দু’টি বিষয়ের অভাব দেখা যায়: সাধারণ বোধ এবং পারস্পরিক সৌজন্য। প্রথমটির জন্য বইয়ের পাতা থেকে চোখ তুলে মাঝে মাঝে বাস্তব জগৎকে দেখা প্রয়োজন, আর দ্বিতীয়টি অন্য মানুষদের গুরুত্ব দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

নিজেদের মতকে জোরালো ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমরা আজকাল সেই পারস্পরিক সৌজন্যের কথাই প্রায় ভুলতে বসেছি। বিজ্ঞানচর্চা যেমন যুক্তিবাদী, তেমনই তা মানবিকতাবোধের সঙ্গেও ওতপ্রোত ভাবে জড়িত— এই কথাটি মনে রাখা জরুরি।

সুব্রত ভট্টাচার্য, হাওড়া

বঞ্চনা কেন

আর্যভট্ট খানের প্রতিবেদন ‘অস্থায়ী চাকরিতে বঞ্চনার কথা নিয়ে ভোটের আগে সভায় বৃত্তিমূলক শিক্ষকেরা’র (২৬-৩) প্রেক্ষিতে কিছু বক্তব্য। স্কুলশিক্ষায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হল বৃত্তিমূলক শিক্ষা। কিন্তু এই বিভাগের শিক্ষকদের বেতন অসম্মানজনক।

ক্রমাগত বাড়তে থাকা বেকারত্ব সামাল দিতে যখন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার স্কুলশিক্ষায় বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন এই ক্ষেত্রের শিক্ষকরা বঞ্চিত থাকেন কী ভাবে?

নিকুঞ্জবিহারী ঘোড়াই, কলকাতা-৯৯

চাই সামঞ্জস্য

বর্তমান স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা যে প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, তাতে পরীক্ষার বোর্ডভেদে তারতম্য প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। কলকাতায় মূল তিনটি বোর্ড— আইসিএসই, সিবিএসই এবং রাজ্য বোর্ড-এর পাঠ্যক্রমের পার্থক্য ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত কার্যকলাপে অনেকাংশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

যে বোর্ডে কম সিলেবাস, সেখানে ছাত্রছাত্রীরা খেলা, গানবাজনা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেও পর্যাপ্ত সময় দিতে পারে। কিন্তু যে বোর্ডের সিলেবাস তুলনামূলক ভাবে বেশি, সেখানে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা এই প্রতিযোগিতায় অনেকাংশে পিছিয়ে পড়ছে। পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত কার্যকলাপ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সে ক্ষেত্রে দেশের সর্বত্র যদি বোর্ডগুলির পাঠ্যক্রমে সামঞ্জস্য আনা হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে।

সপ্তরা সেনগুপ্ত, কলকাতা-৬১

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন