School Students

সম্পাদক সমীপেষু: ব্যাগের ওজন

দীর্ঘ শিক্ষকতার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, শিক্ষার্থীদের ব্যাগের ভার কমাতে চাইলেই আমরা কমাতে পারি না। এর প্রধান কারণ অভিভাবকদের অসচেতনতা। সমস্ত বই-খাতাকে তাঁরা এক ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখেন। ওই ভাবেই চলে কোচিং ক্লাসে যাওয়া এবং স্কুলে আসা।

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ০৮:১৯
Share:

সম্প্রতি সর্বশিক্ষা মিশন একটি নির্দেশিকায় জানিয়েছে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ব্যাগের ওজন কমাতে হবে। উল্লেখ্য, এ ধরনের ভাবনা এই প্রথম নয়, আগেও একাধিক বার এই উদ্যোগ করা হয়েছে। কিন্তু কতকগুলি প্রশ্ন আছে এখানে।

দীর্ঘ শিক্ষকতার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, শিক্ষার্থীদের ব্যাগের ভার কমাতে চাইলেই আমরা কমাতে পারি না। এর প্রধান কারণ অভিভাবকদের অসচেতনতা। সমস্ত বই-খাতাকে তাঁরা এক ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখেন। ওই ভাবেই চলে কোচিং ক্লাসে যাওয়া এবং স্কুলে আসা। ব্যাগের মধ্যে কী আছে, অনেক শিশু বলতেও পারে না। তাদের অভিভাবকদের রুটিন দেখার সময় নেই। সময় নেই চঞ্চলমতি শিশু-কিশোরদেরও। দরিদ্র পরিবারগুলির ক্ষেত্রে অনেক সময় আবার ভাড়ার ঘরে জল পড়ার ভয়ে বা পড়ার আলাদা জায়গা না থাকায় বইখাতা বাইরে রাখা যায় না। ফলে ব্যাগেই বন্দি থাকে সব। সেই সঙ্গে বন্দি হয় সরকারি ইচ্ছা এবং প্রচেষ্টা। তাই এ বিষয়ে একাধিক উদ্যোগ সত্ত্বেও আজ অবধি কোনও পরিবর্তন দেখতে পাইনি। বার বার অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেও বিশেষ ফল পাওয়া যায়নি। তাই মনে হয়, বিকল্প ভাবনার অবকাশ আছে।

স্কুলব্যাগের ভার কমানো-সহ যে কোনও শিক্ষা বিভাগীয় নির্দেশ অভিভাবকদের প্রতিও থাকা উচিত বলে মনে হয়। সেই সঙ্গে অভিভাবক সভায় উপস্থিতি বিষয়ে কিছু বাধ্যবাধকতার নির্দেশ থাকলে শিক্ষকদের পক্ষে সরকারি নির্দেশগুলি পালন করা সহজ হয়।

স্বপনকুমার মণ্ডল, কলকাতা-৯৯

পাঠ্যক্রমে বদল

‘শিক্ষার হাল ফেরানোর বার্তা, সব কলেজে চালু হবে বায়োমেট্রিক’ (১৯-৫) শীর্ষক সংবাদ থেকে জানতে পারি, এই রাজ্যের নব নির্বাচিত সরকার পাঠ্যক্রমের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে চলেছে। এই বিষয়ে কিছু কথা। আমাদের রাজ্য বোর্ডের মোটামুটি সকল বিষয়ের পাঠ্যক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের মধ্যে এক বিরাট দূরত্ব রয়েছে। অর্থাৎ, মাধ্যমিক স্তরের লেখাপড়া যদি পুকুরের সঙ্গে তুলনীয় হয়, তবে উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীরা সরাসরি গিয়ে পড়ছে সমুদ্রের মধ্যে।

অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি দ্বিতীয় ভাষার যে পাঠ্যক্রম পড়ছে, এবং যে অতি সহজ পরীক্ষা দিয়ে পাশ করছে ভাল নম্বর নিয়ে, সেই পড়ুয়াদেরই অনেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এসে আর সে রকম ভাল ফল করতে পারছে না। এর কারণ উচ্চ মাধ্যমিকে যে ধরনের গল্প কবিতা নাটক পাঠ্যক্রমে রাখা হয়েছে সিমেস্টার ব্যবস্থায়, সেগুলি অনেকটাই জটিল। একই সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিকে দু’টি সিমেস্টারে পড়ুয়াদের বড় প্রশ্নের উত্তর লিখতে হচ্ছে, যা তারা মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সে ভাবে শেখেইনি। রাজ্য বোর্ডে মাধ্যমিক স্তরে ইংরেজি দ্বিতীয় ভাষার সিলেবাস না পাল্টালে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সিলেবাসের সঙ্গে আমাদের পড়ুয়ারা যে পাল্লা দিতে পারছে না, এ বারের উচ্চ মাধ্যমিকের রেজ়াল্টের চতুর্থ সিমেস্টারের ফলাফলের পর্যালোচনা করলে তার হদিস পাওয়া যাবে।

একই সঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন, বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সঙ্গে পাল্লা দিতে বর্তমানে রাজ্য বোর্ডের কিছু সরকারি স্কুলেও ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া শুরু হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক দুই স্তরেই। সেখানেও ইংরেজি প্রথম ভাষা, অল্টারনেটিভ ইংরেজি ইত্যাদি বিষয়ের পাঠ্যপুস্তক রয়েছে ভ্রান্তিতে ভরা। বার বার সিলেবাস পাল্টানোর ফলে উচ্চ মাধ্যমিকের অনেক ছাত্রছাত্রী এ সব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ বই যথাসময়ে পায়নি। রাজ্য বোর্ডের ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়গুলিকে যদি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হয়, তবে এই সমস্ত পাঠ্যপুস্তক অপ্রাপ্তির সমস্যা দ্রুত সারিয়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি রাজ্য বোর্ডের ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করা ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম বলে বাজারে এই সব বিষয়ের জন্য ভাল মানের গাইড বই বা প্রশ্নপত্রের বইও সুলভ নয়। এই বিষয়ে পুস্তক প্রণেতা এবং সরকার যৌথ ভাবে এগিয়ে এলে আখেরে লাভ হবে রাজ্য বোর্ডের পড়ুয়াদের।

অনির্বিত মণ্ডল, ইছাপুর, উত্তর ২৪ পরগনা

সমবণ্টন

‘শিক্ষকের সমবণ্টন’ কথাটি বহুল ভাবে চর্চিত। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ করা হয়েছে, কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয়নি। অনেক স্কুলে ছাত্রসংখ্যার তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম, এমনকি কোনও কোনও স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক নেই। আবার কলা বিভাগের শিক্ষক থাকলেও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নেই। এর উল্টো ছবিও আছে। সেখানে বিদ্যালয় আছে, শিক্ষক আছে, কিন্তু পড়ুয়ার সংখ্যা নগণ্য। কোনও কোনও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক স্তরে পড়ুয়ার সংখ্যা হয়তো যথেষ্ট, কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ছাত্র ভর্তি হয় না বললেই চলে।

এই ব্যবস্থার একটা সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন। স্কুল সার্ভিস পরীক্ষা যথাযথ ভাবে চালু করে নিয়মিত ব্যবধানে শিক্ষক নিয়োগ করা যেমন খুব দরকার, ঠিক তেমনই শিক্ষকের সমবণ্টনের ব্যাপারে উদ্যোগ করতে হবে। যে সমস্ত স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা নগণ্য, সেই স্কুলগুলিকে এক সঙ্গে জুড়ে দেওয়া বা অন্য কোনও বড় স্কুলের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। শিক্ষক বদলির কারণে যেন কোনও স্কুলে শিক্ষকের ঘাটতি, আবার কোনও স্কুলে বাড়তি শিক্ষক না হয়, এ দিকে কঠোর নজরদারি করতে হবে। যে সমস্ত স্কুলে শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রসংখ্যা নগণ্য, সেই স্কুলগুলি থেকে ছাত্রদের অন্য স্কুলে স্থানান্তরিত করা গেলে ভাল হয়।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক না থাকায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক দিয়ে পঠনপাঠনের কাজ চালানো হয়। ফলে উভয় স্তরেরই পড়াশোনা বিঘ্নিত হয়। এ বিষয়টিকেও গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে।

কল্যাণী নাথ, জিয়াগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ

ফেরার আশা

বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ছাত্রছাত্রীদের একটি অংশের ঝোঁক থাকে কারিগরি শিক্ষার প্রতি। হাতেকলমে প্রশিক্ষণ, যার জেরে সহজেই মেলে চাকরির সুযোগ। রাজ্যে রয়েছে একাধিক সরকারি বেসরকারি এবং কেন্দ্রীয় সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। খুব সহজে মেধাতালিকার ভিত্তিতে ভর্তি হয়ে জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে চলেছে অসংখ্য অল্পবয়সি ছেলেমেয়ে। সমস্যা হল, প্রশিক্ষণের শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ এলে দেখা যায় বেশির ভাগই তা অন্য রাজ্যে। স্বাভাবিক ভাবেই পরিবার ছেড়ে পাড়ি দিতে হয় মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানার মতো শিল্পবান্ধব রাজ্যগুলিতে। প্রশ্ন জাগে, আর কত দিন পরিবার ছেড়ে তাদের বাংলার বাইরে থাকতে হবে! কবেই বা শিল্পের খরা কাটিয়ে বাংলা ঘুরে দাঁড়াবে স্বমহিমায়! বঙ্গে পালাবদলের ফলে নতুন করে আশান্বিত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। ঘরের ছেলেমেয়েদের কবে ঘরে ফিরিয়ে দেবে সরকার, সেই দিকেই তাকিয়ে আছে তারা।

পল্লব হাজরা,কলকাতা-১০৮

বিপজ্জনক

ভদ্রেশ্বর স্টেশন রোডটি দিল্লি রোড আর জিটি রোড-কে যোগ করেছে। কিন্তু রাস্তাটি অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ। একটি রিকশা ঢুকলে আর উল্টো দিকে গাড়ি ঢোকার জায়গা নেই। ওখানে বাজার আছে, আছে দু’টি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলও। স্কুল শুরু হওয়া আর ছুটির সময় সমস্ত গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। ফলে দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। একটু এগোলে সমান্তরাল মালগাড়ির লাইন। সাবওয়েটি আরও ছোট। মানুষ রেলের লোহার বেড়া ভেঙে, বিপজ্জনক ভাবে রেললাইন পারাপার করেন। কোনও সভ্য দেশে এমন ঘটনা দিনের পর দিন ঘটছে, ভাবা যায় না।

সৌমিত্র সেনগুপ্ত, ভদ্রেশ্বর, হুগলি

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন