Heavy School Bags

সম্পাদক সমীপেষু: ব্যাগের ওজন

বেশ কয়েক বছর যাবৎ লক্ষ করছি যে, ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ের শ্রেণিভিত্তিক রুটিনের বাইরেও নিজেরা ব্যাগে অতিরিক্ত বই খাতা ও অন্যান্য নানা সরঞ্জাম পুরে নেয়।

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ০৫:৫৫
Share:

“‘স্কুলের ব্যাগটা বড্ড ভারী’, এ বার হালকা করার নির্দেশিকা” (২৩-৫) শীর্ষক প্রতিবেদনটি পাঠ করে মনে এল এক ভিন্নতর পরিপ্রেক্ষিতে রচিত রবীন্দ্রগানের স্থায়ী অংশটুকু— “এ বোঝা আমার নামাও বন্ধু, নামাও—/ ভারের বেগেতে চলেছি কোথায়, এ যাত্রা তুমি থামাও।।” নিঃসন্দেহে সরকারি ও বেসরকারি— উভয় ক্ষেত্রেই পড়ুয়াদের ব্যাগের ওজন অত্যন্ত ভারী। বিষয়ভিত্তিক নানা বই (কোনও কোনও ক্ষেত্রে একই বিষয়ের দু’জন ভিন্ন লেখকের বইও যুক্ত হয়) এবং সেই অনুসারে খাতাপত্রের মিলিত আয়োজনে ছোটদের পিঠে, কাঁধে ব্যথা ও নানা ধরনের শারীরিক অসুবিধার অভিযোগ শোনা যায়। প্রতি দিনের এই ব্যাগের সঙ্গে আরও জুড়ে থাকে বিভিন্ন বিষয়ের কর্মমুখী প্রকল্পের কাজ ও সেই সম্পর্কিত আর্ট পেপারের রোল, টিফিন বক্স, জলের বোতল, ছাতা প্রভৃতি হরেক বস্তু।

তবে, কর্মসূত্রে আরও একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা এখানে তুলে ধরি। বেশ কয়েক বছর যাবৎ লক্ষ করছি যে, ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ের শ্রেণিভিত্তিক রুটিনের বাইরেও নিজেরা ব্যাগে অতিরিক্ত বই খাতা ও অন্যান্য নানা সরঞ্জাম পুরে নেয়। উদ্দেশ্য— স্কুল ছুটি শেষেই সমান্তরাল শিক্ষাব্যবস্থার আধারে উদ্ভাসিত ‘টিউশনি’ নামক পাঠশালায় দ্রুত গমন অথবা গান আঁকা নাচ থেকে ক্রিকেট কোচিং বা সুইমিং-এর ক্লাসগুলিতে সচেতন অংশগ্রহণ। ফলস্বরূপ, শৈশবকাল থেকেই দেহের ভার বহন ক্ষমতার চেয়ে অনেক গুণ বেশি ওজন বহন করতে বাধ্য হয় ছাত্রছাত্রীরা।

প্রকৃতপক্ষে, শিশুকালে স্কুল-ব্যাগের বোঝার ভার নামানোর মহৎ উদ্দেশ্যের আদেশনামা এলেও তার বাস্তব চিত্র বোধ হয় একই থাকবে, যার নেপথ্যে রয়ে যাবে অতিরিক্ত ওজন বহনের কুপ্রভাব সম্পর্কে অজ্ঞ অভিভাবককুল ও তাঁদের অসহায় সন্তানসন্ততি।

সুপ্রতিম প্রামাণিক, আমোদপুর, বীরভূম

বৈষম্য

আকাশ বিশ্বাসের লেখা ‘টাই কেন’ (সম্পাদক সমীপেষু, ১-৬) চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কথা। বিত্তবান শ্রেণির ছেলেমেয়েরা এখন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ে। মধ্যবিত্তরাও ধারদেনা করে সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলেই পাঠায়। অন্য দিকে, নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা রাজ্যের মাতৃভাষার মাধ্যমে চলা সরকারি স্কুলেই পড়তে যায়। সে স্কুলগুলির পরিকাঠামো এখানে বিশদে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন নেই, কারণ রাজ্যবাসী তা জানেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই না থাকে উৎসাহী শিক্ষক, না সেখানে তৈরি হয় উৎসাহী পড়ুয়া। অতএব ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীরা উৎকৃষ্ট এবং বাংলা মাধ্যমে পড়া ছাত্রছাত্রীরা নিকৃষ্ট— এমন একটি ধারণা অনেকের মনেই বদ্ধমূল হয়েছে। এমনকি বাংলা মাধ্যমে পড়া ছাত্রছাত্রীদের মনেও এমন ধারণা থাকাই স্বাভাবিক।

কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে এই শিশুরা যদি টাই পরে নিজেদের হীনম্মন্যতা খানিকটা কাটিয়ে উঠতে পারে, তা হলে তো ভালই। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম (অবশ্যই বাংলা মাধ্যমে), তখন কোনও নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম ছিল না। যে যার সামর্থ্যমতো পোশাক পরে আসত। পড়ুয়াদের মধ্যে যাতে বৈষম্য না গড়ে ওঠে, এই যুক্তিতে এক সময় সব স্কুলে ইউনিফর্ম চালু হয়। একই যুক্তিতে ইউনিফর্ম-এ নাহয় টাইও থাকুক। যদিও এই পদক্ষেপ মোটেও যথেষ্ট না। কেননা বৈষম্যের শিকড় চলে গেছে অনেক গভীরে।

মানস বিশ্বাস, কাটনি, মধ্যপ্রদেশ

পাশে থাকা

সোমা মুখোপাধ্যায়ের প্রবন্ধ ‘ছেড়ে যাইনি, পাশেই আছি’ (রবিবাসরীয়, ৭-৬) বর্তমান সমাজের একটি বাস্তব দলিল। এখন অসুবিধায় পড়লে পাশে কাউকে পাওয়া যায় না, কেউ কারও বিপদে মাথা ঘামায় না। যাঁদের পরিবারের অসুবিধা, একমাত্র তাঁরাই ভোগ করেন, অন্য কেউ সাহায্যের হাত বিশেষ বাড়ায় না। অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে যে, কোনও পরিবারের হয়তো স্বামী বা স্ত্রী কিডনি বিকল-এর রোগী, নিয়মিত ডায়ালিসিস করতে হয়। প্রতি বার রোগীর সঙ্গে যিনি যান, তিনি যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে আর ডায়ালিসিস করানোর জন্য রোগীর সঙ্গে যাওয়ার লোক পাওয়া যায় না। যে মানুষটি সারা ক্ষণ রোগীর পরিচর্যা করে চলেছেন, তাঁকে কেউ বলেন না যে, তিনি একটু বিশ্রাম নিন, তাঁর হয়ে অন্য জন সেই সময়টুকু রোগীর পরিচর্যা করে দেবেন।

প্রকৃতপক্ষে অপরের জন্য সহানুভূতি বোধটাই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। কিছু দিন আগেও চিত্র কিন্তু অন্য রকম ছিল। মানুষ সুখ-দুঃখে পরস্পরের খোঁজখবর নিতেন। সে সব এখন অতীত। আস্তে আস্তে মানুষ সমাজ, প্রতিবেশী সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেকে একটা নির্জন দ্বীপে বন্দি করে ফেলেছে। তার খেসারত তো এখন দিতেই হবে। খুব কি কঠিন মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো? মনে রাখতে হবে, নিজেরও এক দিন এই সাহায্যটুকু দরকার হতে পারে। একটা জীবন আর একটা জীবনের উপর নির্ভর করে, তাই অন্যের প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে মনুষ্যত্বকে রক্ষা করতে হবে।

সর্বানী গুপ্ত, বড়জোড়া, বাঁকুড়া

রাস্তায় হাট

‘ফুটপাতে মঙ্গলাহাট আর নয়, বিপাকে বিক্রেতারা’ (২৬-৫) শীর্ষক প্রতিবেদন বিষয়ে বলি, দীর্ঘ দিনের এক অসুস্থ দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হতে চলেছে হাওড়া ময়দান। বর্তমানে হাওড়া ময়দানে যাওয়া বিভীষিকার চেয়ে কম কিছু নয়। হাওড়া শহরের ব্যস্ততম স্থান এটি। বেশির ভাগ সরকারি অফিস ওখানেই অবস্থিত। এ ছাড়া স্কুল, কলেজ সব আছে। ২০২৪ সাল থেকে চালু হয়েছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো চলাচল। অথচ, পূর্বতন সরকার এ সবের তোয়াক্কা না করে শুধু রাজনৈতিক সুবিধা আর স্থানীয় নেতা-মন্ত্রীর পকেট ভরাতে তোলাবাজিকে একটা সিস্টেম বানিয়ে যথেচ্ছাচার করছিল। ফলে ব্যস্ততম রাস্তায় বসে ব্যবসা চলছিল। এমনিতেই রাস্তা অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ। তার মধ্যে পুরো রাস্তায় হাট বসেছে। কোনও সভ্য দেশে এমনটা সম্ভব কি?

স্নেহাশিস সামন্ত, দাশনগর, হাওড়া

বর্জ্য স্তূপ

কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণেশ্বর আসার সহজ পথ বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে। কিন্তু দক্ষিণ দমদম পুরসভার অন্তর্গত ৩ নম্বর ওয়র্ড প্রমোদনগর আসতেই ঘটে ছন্দপতন। দূর থেজে উঁচু পাহাড় বলে মনে হলেও সামনে এলে নাকে রুমাল দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। এটি আসলে বর্জ্য পদার্থের স্তূপ। দিনের পর দিন দমদম-সহ বেশ কিছু পুরসভার বর্জ্য ফেলা হয় এই ভাগাড়ে। বছরের বারো মাস দুর্গন্ধে পূর্ণ থাকে এলাকা। বর্ষার জল পড়লে তা বেড়ে হয় কয়েক গুণ। আবর্জনা পোড়ানোর সময় ধোঁয়ায় ঢাকে গোটা চত্বর। বিষাক্ত মিথেন গ্যাসের প্রভাবে ভবিষ্যতে কোন রোগ শরীরে বাসা বাঁধবে, তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগে প্রমোদনগরবাসী। একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ২০১৭ সালে মামলা করে। ২০২০ সালে ট্রাইবুনাল রায় ঘোষণায় সরকারকে মোটা টাকা জরিমানা করে। পাশাপাশি দুই বছরের মধ্যে ভাগাড়টিকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়। তা হয়নি। কবে মিলবে সুরাহা! অপেক্ষায় এলাকাবাসী।

পল্লব হাজরা, কলকাতা-১০৮

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন