সম্পাদক সমীপেষু: ‘শর্মিলি’ নয়


উত্তমকুমারের হিন্দি ছবি প্রসঙ্গে ‘হেমন্তের প্রস্তাব’ শীর্ষক পত্রটিতে (২-৮) একটা ছোট্ট ভুল আছে। পত্রে উল্লেখিত ‘শর্মিলি’ আসলে হবে ‘শর্মিলা’। (বাঁ দিকে) প্রস্তাবিত চলচ্চিত্রটির অগ্রিম বিজ্ঞাপন দ্রষ্টব্য। এটি ছাপা হয়েছিল সর্বভারতীয় ইংরেজি চলচ্চিত্র মাসিক Picturepost-এ, ১৯৬২-র নভেম্বরে, তৃতীয় প্রচ্ছদে। পরে, ১৯৭১-এ শশী কপূর ও রাখী অভিনীত ‘শর্মিলি’ ছবি হয়। 

গোপাল বিশ্বাস,

কলকাতা-৩১

কেন কমিশন
বেসরকারি বাসে কমিশন প্রথা তুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার যে দাবি তুলেছে বাস সিন্ডিকেটগুলি, তাকে কোনও ভাবেই সমর্থন করা যায় না। পরিবহণ জনজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। অথচ তা মুষ্টিমেয় মালিকের খেয়াল–খুশি, লাভ–অলাভের বিষয় হিসেবে দীর্ঘ দিন ছাড়া রয়েছে। এই কমিশন প্রথা বজায় থাকায় বাসের কন্ডাক্টররা বেশি যাত্রী তোলার নাম করে যে ধীর গতিতে বাস চালান, তা আধুনিক জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করে দেয়। আবার বেশি যাত্রী তোলার জন্য অন্য বাসের সঙ্গে বিপজ্জনক প্রতিযোগিতা বহু সময়েই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 
প্রতি দিন লক্ষ লক্ষ যাত্রীর অসুবিধাকে মেনে নিয়ে মুষ্টিমেয় মালিকদের অন্যায় আবদারের কাছে নতি স্বীকার করা চলে না। মনে রাখতে হবে, কোনও একটি শহরে বা রুটে মোট যাত্রীর সংখ্যা নির্দিষ্ট। ফলে কমিশন প্রথা উঠে গেলে বাসের যাত্রী কমে যাবে, এই যুক্তি ঠিক নয়। বাসের কন্ডাকটর বা ড্রাইভারদের জন্য কী ভাবে বেতন কাঠামো ঠিক করা যায়, তা সরকার এবং বাস মালিকদের বসে স্থির করতে হবে। দীর্ঘ সিপিএম শাসনে এই অন্যায় ব্যবস্থা মানুষকে মুখ বুজে সয়ে আসতে হয়েছে। আশা করা যায় বর্তমান সরকার এই অন্যায্য ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাবে।
সমর মিত্র
কলকাতা–১৩

তাঁদের কথাও
‘সরকারি বাসও’ (১৩-৭) চিঠিটি পড়ে এক জন সরকারি বাসের কন্ডাক্টর হিসাবে দু’একটি কথা বলব। পত্রলেখক যে ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়। তা বলে সব সরকারি বাসই এমনটি করে, তা কিন্তু ঠিক নয়। কলকাতার রাস্তায় লক্ষ লক্ষ লোক চলাফেরা করছেন, রাস্তা পারাপার করছেন। হাজার হাজার গাড়ি চলছে। তার মধ্যে অসতর্কতাবশত দু’এক জন ড্রাইভার এমন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন। তা সত্ত্বেও আমরা সফলতার দিকটা না দেখে দু’একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা দিয়ে সমস্ত বাস ড্রাইভারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাই। 
কলকাতার রাস্তায় ক’জন পথচারী ঠিক নিয়মকানুন মেনে রাস্তা পারাপার করেন, বলতে পারেন? এমন অনেক পথচারী আছেন, যাঁরা গাড়িঘোড়াকে ভয়ই পান না। ড্রাইভারকেই তাঁদের ভয় করে গাড়ি চালাতে হয়। অথচ দুর্ঘটনা ঘটলেই ড্রাইভারদের দোষ দেওয়া হয়। 
পত্রলেখক লিখেছেন, বাস-চালকদের একটা বৃহৎ অংশ বেপরোয়া, কটুভাষী ও আইনভঙ্গকারী। এ বিষয়ে আমি আমার চাকরি-জীবনের কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলতে চাই। তা হলে কি ধরে নিতে হবে বাসের সমস্ত যাত্রীই ভদ্র? শুধু ড্রাইভার আর কন্ডাক্টরই খারাপ? যে ড্রাইভারটি স্টিয়ারিং-এ বসে গাড়ি চালাচ্ছেন তিনিও কিন্তু রক্তমাংসের মানুষ। এটা অধিকাংশ যাত্রী বেমালুম ভুলে যান। তাঁরা দেরিতে বাড়ি থেকে বার হবেন। গাড়িতে উঠেই তাঁদের কাজ হল ড্রাইভার ও কন্ডাক্টরকে উত্ত্যক্ত করা। ভাবটা এমন: সরকারি বাসে বেশি ভাড়া দিচ্ছি, অতএব তাড়াতাড়ি পৌঁছে দিতে হবে। এই ধারণার বশবর্তী হয়ে চলে ড্রাইভার-কন্ডাক্টরের উপর কটু ভাষার প্রয়োগ। এমনকি কখনও কখনও গায়ে হাত তুলতেও কিছু যাত্রী দ্বিধা বোধ করেন না। তাঁরা ভুলে যান, বাসের অতগুলি মানুষের প্রাণ হাতে নিয়ে কলকাতার যানজটগ্রস্ত রাস্তায় ড্রাইভারকে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। তাঁরও মনঃসংযোগের প্রয়োজন। একটু অমনোযোগী হলেই যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটবে। 
বাসে কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন যাত্রীও থাকেন। তাঁরা কিন্তু এ সব ঘটনার প্রতিবাদ তো দূরের কথা, এমন ভাব করেন, যেন কিছু দেখেও দেখেন না।
তরুণকান্তি মণ্ডল
নবপল্লি, বারাসত

সংশোধনী 
‘বঙ্কিমচন্দ্র’ (৪-৮) শিরোনামে শান্তনু রায়ের চিঠিতে লেখা হয়েছে, ১৯৪৭ সালে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব এ দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করেন। কিন্তু ঘটনা হল, ১৯৭৬ সালে জরুরি অবস্থা চলাকালীন ইন্দিরা গাঁধীর নেতৃত্বাধীন সরকার ৪২তম সংবিধান সংশোধনী পাশ করান, যাতে সংবিধানের প্রস্তাবনা বা Preamble-এ ‘ধর্মনিরপেক্ষ এবং সমাজতান্ত্রিক’ শব্দগুলি সংযোজিত হয়, যেগুলো মূল সংবিধানে আদৌ ছিল না। ওই সংবিধান সংশোধনীতে আরও ১৯টি পরিবর্তন করা হয়েছিল, যেগুলো নিয়ে সেই সময় প্রচুর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সংবিধানের প্রস্তাবনা বা Preamble আজ পর্যন্ত ওই এক বারই সংশোধন হয়েছে।
শান্তিপ্রিয় দাস
কলকাতা-১০

আরও সুরকার
বন্দে মাতরম্-এর সুর প্রসঙ্গে জানাই, শুধু রবীন্দ্রনাথই নন, পরবর্তী কালে আরও বহু সঙ্গীতজ্ঞ, সুরকার এই গানটিতে সুর দিয়েছেন।  মনে আছে, গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে স্থানীয় দুর্গামন্দিরে প্রতি বছর যে সারা রাত্রিব্যাপী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর বসত, তারই একটিতে পণ্ডিত জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ তাঁর সুরে কিছু বোলতান-সহ ভৈরবী রাগে বন্দে মাতরম্ গানটি পরিবেশন করেছিলেন। আরও যাঁরা এই গানটিতে সুর দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে আছেন সর্বশ্রী/পণ্ডিত/উস্তাদ দেবকণ্ঠ বাগচী, উপেন্দ্রনাথ বাগচী, গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিষ্ণুদিগম্বর ভাতখণ্ডে, ফিরোজ ভ্রামজি, মাস্টার কৃষ্ণারাও, কর্নাটক রেডিয়ো, রতন জনকর, দিলীপকুমার রায়, তিমিরবরণ, সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী, পঙ্কজ মল্লিক ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। হিন্দি ‘ঝাঁসি কী রানি’ ছবিতে সুরকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের সুরে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে গানটি গেয়েছিলেন। এই গানের সুরের চলনটি ছিল যুদ্ধযাত্রার উন্মাদনাপূর্ণ। হেমন্তবাবু বন্দে মাতরম্ শব্দটির ‘মা’ বর্ণটির সঙ্গে এমন একটি তান সংযুক্ত করেছিলেন, যা অতি মাধুর্যময় এক পরিবেশ তৈরি করেছিল।
নন্দদুলাল রায়চৌধুরী
বিধানপল্লি, খরিদা, খড়্গপুর

গাঁধীর যাত্রা
‘গাঁধী ভবন’ লেখায় (১১-৮) সুচন্দ্রা ঘটক লিখেছেন, সেই বছর (১৯৪৭) ৭ সেপ্টেম্বর গাঁধী কলকাতা ছাড়লেন। চলে গেলেন বিখ্যাত নোয়াখালি সফরে। এ তথ্য ভুল। আসলে, ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ গাঁধী কলকাতা ছাড়লেন রাতের পঞ্জাব মেলে দিল্লি যাওয়ার জন্য। এই যাত্রার শুরুটি বিশেষ কারণে বিখ্যাত। শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তার কারণে তাঁকে ‘হায়দার মনজিল’ থেকে হাওড়া স্টেশনে না নিয়ে গিয়ে অন্য ‍রাস্তা দিয়ে বালি ব্রিজ হয়ে বেলুড় স্টেশনে নিয়ে আসা হল এবং সেখানেই গাঁধীজি পঞ্জাব মেলে উঠলেন। 
রঞ্জিতকুমার দাস
বালি, হাওড়া

ভ্রম সংশোধন
‘নায়িকা সম্পর্কিত’ (আনন্দ প্লাস, ১৩-৮) শীর্ষক লেখায় বলা হয়েছে, অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর সঙ্গে কিষণ ব্রজের এনগেজমেন্ট হয়েছিল।
আসলে শ্রাবন্তী ও কিষণ বিয়ে করেছিলেন। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 

কলকাতা-৭০০০০১। 

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ই-মেলে পাঠানো হলেও।