সম্পাদক সমীপেষু: সাত পাক ও পদ্য


‘বিয়ের পদ্য কত রকম’ পড়ে ভাল লাগল। আমার সংগ্রহে আছে এক নামকরা শিল্পীর বিয়ে উপলক্ষে কয়েক জন বিখ্যাত লেখক-লেখিকার গদ্য ও পদ্য, যা পাঠকদের ভাল লাগতে পারে। ওই শিল্পী হলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছাত্র কার্টুনিস্ট রেবতীভূষণ ঘোষ— ‘দেশ’, ‘আনন্দবাজার’, ‘সচিত্র ভারত’ এবং সেই সময়ের নানা পত্রপত্রিকায় যাঁর ব্যঙ্গচিত্র জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। তাঁর বিয়ের সময় ‘সাতপাকের পাঁচালী’ নামে একটি পুস্তিকা তিনি প্রকাশ করেছিলেন। ওই পাঁচালির ‘পদকর্তা’রা হলেন রাজশেখর বসু, পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়, সাগরময় ঘোষ, নরেন্দ্র দেব, আশাপূর্ণা দেবী, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মনোজ বসু, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, শিবরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

রাজশেখর বসু এবং সাগরময় ঘোষ অবশ্য পদ্য না লিখে গদ্যেই তাঁদের মনের ভাব প্রকাশ করেছিলেন। সাগরময় ঘোষ শিল্পীকে দু’টি সরস পরামর্শ দিয়েছিলেন— ‘‘কার্টুন এঁকে সবাইকে তো ব্যঙ্গ করেছেন। ভুলেও যেন গৃহিণীর কার্টুন আঁকতে যাবেন না। গৃহ বিবাদ অনিবার্য। সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘মার্জার নিধন কাব্য’র কার্টুন আপনিই এঁকেছিলেন দেশ পত্রিকায়। সে কবিতায় হিতোপদেশটি মনে আছে তো? ‘সাদির পয়লা রাতে মারিবে বিড়াল?’’’ পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়ও শিল্পীকে দিয়েছেন সরস উপদেশ— ‘‘ছড়ার হুল আর ট্যারা চোখের দৃষ্টিটা ঘরের ভিতর টেনে নিয়ে যেয়ো না।’’

প্রেমেন্দ্র লিখেছেন— ‘‘এতদিন তো বাটিতে রং গুললে নানা রকম/ চালিয়ে গেলে তুলি।/ এখন থেকে মনের-ই রং এমন হবে জবর/ আঁকতে না যাও ভুলি।/ যাই কেন না আঁকো তবু/ এইটুকু ঠিক জানি/ আলতো তুলির টানেও পাবো/ গভীর বুকের বাণী।’’ আশাপূর্ণা দেবীর চমৎকার কবিতা— ‘‘একটি চাকায় চলছিলো রথ/ ক্লান্ত তালে মন্থরে।/ জুড়লো এসে আর এক চাকা/ বেদের বাঁধন মন্তরে।/ সবেগে রথ চলবে এবার/ উৎসাহে আর উল্লাসে।/ জয়ধ্বনি দিচ্ছি মোরা,/ আছি যারা আশপাশে।/ তার সাথে থাক আশীর্বাণী/ পথ যেন হয় অবন্ধুর।/ যুক্ত জীবন-যন্ত্রে বাজুক/ সুষমাময় স্নিগ্ধ সুর।’’ শিবরাম চক্রবর্তী আশীর্বাদ করেছেন নববধূকে— ‘‘সিঁথির সিঁদুর অক্ষয় হোক/ সুখের হোক ও ঘর।/ দীর্ঘজীবন মধুময় হোক/ ছেলে-পুলে সুন্দর।’’ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের পদ্যটিও সুখপাঠ্য— ‘‘তুলি কালি রঙ দিয়ে/ হাসি আর খুশিতে/ ছোট বড়ো সকলেরে/ পারো তুমি তুষিতে।/সুধাঝরা এই রাত/ মধুভারে টলমল/ জীবনেরে করো ছবি/ রঙে রসে ঝলমল।’’

সুমঙ্গল চট্টোপাধ্যায়  রিষড়া, হুগলি

 

দুর্ভোগ

বিএসএনএল-এর এসডিও (ফোন) বর্ধমান সদর অফিসে আমার ল্যান্ডলাইন রিসিভার এক প্রকার বাধ্য হয়েই জমা দিয়ে এসেছি ৩০-১১-২০১৭ তারিখে। ‘বাধ্য হয়ে’ বলছি, কারণ ওঁদের অফিস থেকে বলা হয়েছিল বর্ধমানে জিটি রোড সম্প্রসারণের কারণে মাটির তলায় প্রচুর লাইন কাটা পড়েছে, সেগুলির পুনঃসংযোগ কবে হবে, তার নিশ্চয়তা নেই, বহু দিন লেগে যেতেও পারে। রিসিভার নিয়ে সারেন্ডার করতে গিয়ে দেখলাম, অনেকেই রিসিভার জমা দিচ্ছেন। এর পর ডিপোজ়িট মানি ফেরত সম্পন্ন হতে হতে শুনেছিলাম ফেব্রুয়ারি ২০১৮ হবে। যথাসময়ে এক দিন খোঁজ নিতে গেলাম। আমার বয়স সত্তরের উপরে। গিয়ে দেখি, লিফ্‌ট চলছে না। পাঁচতলায় অতি কষ্টে উঠে খোঁজখবর নিলাম এবং যথারীতি আবার ব্যাঙ্ক পাশবইয়ের ফার্স্ট পেজের জ়েরক্স জমা দিয়ে, শুনে এলাম, অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হতে হতে এপ্রিল তো হবেই। এপ্রিল-মে শেষ হওয়ার পর, খোঁজ নিতে গেলাম আবার ওই অফিসের পাঁচতলায়। গিয়ে হতবাক হলাম, ল্যাপটপ সার্চ করে আমাকে জানানো হল, আমার কোনও কাগজই তো জমা পড়েনি!

স্বপন দত্ত  রানিরবাগান, বর্ধমান

 

ভোটের কষ্ট

আমি এক জন রাজ্য সরকারি কর্মচারী। গত ২৮-৫ তারিখে ১৫৫ মহেশতলা বিধানসভা উপনির্বাচনে ফার্স্ট পোলিং অফিসার হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সারা দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে সন্ধে ৬টায় ভোট শেষ করি এবং সকল ভোটকর্মীর সহযোগিতায় ভোটের কাগজপত্র সঠিক ভাবে গুছিয়ে সন্ধ্যা ৭:৩০ নাগাদ রিসিভিং সেন্টারে (আরসি) পৌঁছে চরম বিশৃঙ্খলা চোখে পড়ে। যাঁদের দায়িত্ব ভোটের জিনিসপত্র মিলিয়ে নেওয়া, তাঁরা আমাদের প্রশিক্ষণের সময়ে বলে দেওয়া বা হাতবইয়ের নিয়ম না মেনে— এটা ঠিক হয়নি, ওটা ঠিক হয়নি, ওটার সিল খুলুন, এটার সিল ঠিক হয়নি বা এটা সিল করুন, বলতে থাকেন। প্রত্যেক বুথের ভোটকর্মীদেরও ওই একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়। যার দরুন এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়। যে কোনও মুহূর্তে মারামারি বা গন্ডগোল হওয়ার উপক্রম।

পরে এসডিও এসে পরিস্থিতির কিছুটা সামাল দেন এবং উক্ত কাগজগুলিই জমা নিয়ে প্রত্যেক প্রিসাইডিং অফিসারকে রিলিজ় দেওয়া হয়। রিসিভিং সেন্টারে পর্যাপ্ত গাড়ি থাকলেও ভোটকর্মীদের নুঙ্গি স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ন্যূনতম ব্যবস্থাও তাঁরা করেননি। ওই রিসিভিং সেন্টার থেকে নুঙ্গি স্টেশন প্রায় তিন কিমি হেঁটে ভোটকর্মীদের পৌঁছতে হয়।

নির্বাচন কমিশনের কাছে বিশেষ অনুরোধ, ডিসি/আরসি-তে যাঁরা নিযুক্ত থাকেন, তাঁরা ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পোলিং স্টেশনে পৌঁছে সিল করার পূর্বে সমস্ত কাগজ দেখে সই করে ও সিল করে মিলিয়ে নিলে, জমা দেওয়ার সময় আর ওই কষ্টগুলি হয় না এবং কাজটিও যথাযথ সুসম্পন্ন হয়। আরসি-তে এক নিমেষে জমা দিয়ে রিলিজ় দেওয়া যায়।

সুজিতকুমার মজুমদার  কলকাতা-৬৪

 

ফিরলে বিপদ

‘পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাশ ফেল ফিরছে আগামী বছরেই’ প্রসঙ্গে প্রদীপ কুমার দত্ত-র চিঠি (২৬-৬) পড়ে মনে হল, তিনি কোনও দিন কোনও বেসরকারি স্কুলের প্রথম শ্রেণির কোনও বাচ্চাকে পড়াননি অথবা বইগুলি দেখেননি। আমার বাচ্চা দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ে। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর সেই দিনের হোমওয়ার্ক, প্রতি সপ্তাহে পরীক্ষার পড়া করাতে গভীর রাত হয়ে যায়। সারা বছরের সিলেবাস শেষ করতে আমি ও আমার স্ত্রী হিমশিম খেয়ে যাই। বছরের শেষ পরীক্ষার সময় তো অর্ধেক দিন এক বেলা রান্নাই চাপে না। আমার স্ত্রী সারা দিন হোয়াটসঅ্যাপে লেগে থাকেন শুধু পড়া নেওয়ার জন্য। পাশ-ফেল নেই, তাতেই এই অবস্থা, পাশ-ফেল ফিরলে কী হবে ভেবে শিউরে উঠছি। তার ওপর বই, টিফিন সমেত ওই ভারী ব্যাগ নিয়ে কোনও শিশুকে স্কুলে যেতে দেখলে যে কোনও মানুষের চোখে জল আসবে। প্রতি দিন বাড়ি ফিরে বলে, পিঠে ব্যথা করছে। ওর শ্রেণির অনেক বাচ্চা তো পিঠের ব্যথার জন্য ডাক্তার দেখাচ্ছে। পাশ-ফেল নেই বলে বাচ্চাকে কিছু শেখাতে হবে না, তা কোনও দিন মনে করিনি। কারণ এর সঙ্গে আমার বাচ্চার ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে।

সুমন দে দুর্গাপুর

 

ভ্রম সংশোধন

•পাখা মেলুক ‘কল্পনা’, চাইছেন সব পক্ষ (কলকাতা, ৩০-৬) খবরের ছবিটি ‘কল্পনা’-র দৃশ্য বলে প্রকাশিত হয়েছে। সেটি আসলে ‘কল্পনা’-র বুকলেট থেকে নেওয়া।

•‘বাড়িতে ঢুকে হামলা, আহত বৃদ্ধ দম্পতি’ (কলকাতা, ৩-৭) খবরের ছবির ক্যাপশনে তরুণীকে দম্পতির মেয়ে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তাঁদের আত্মীয়।

অনিচ্ছাকৃত এই ভুলগুলির জন্য আমরা দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ই-মেলে পাঠানো হলেও।