সম্পাদক সমীপেষু: এক দিন হঠাৎ


পঞ্চাশ দশকের শেষাশেষি। প্রখ্যাত শ্যামাসঙ্গীত শিল্পী পান্নালাল ভট্টাচার্য তখন আমার বাড়ির একদম কাছাকাছ, নেপাল ভট্টাচার্য ফার্স্ট লেনে, ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। দুর্গাপুজোর আগে এক দিন সকালে তাঁর বাড়িতে হাজির উত্তমকুমার। তখনও মহানায়ক হয়ে না উঠলেও সুচিত্রা সেনের সঙ্গে জুটিতে সিনেমায় বেশ নামডাক হয়েছে তাঁর। পান্নাবাবুর ঘরের সামনে উত্তরোত্তর ভিড় বাড়ছে। খবর পেয়ে আমিও ছুটলাম উত্তম দর্শনে। ইতিমধ্যে পাড়ার পল্টুদা এলাকার একটি ক্লাবের দুর্গাপুজোর চাঁদার বিল নিয়ে উত্তমকুমারের কাছে ১০১ টাকা চাঁদা দেওয়ার জন্য ক্রমাগত আবদার করে চলেছেন। অস্বস্তি ভার মুখে চুপচাপ বসে রয়েছেন পান্নালাল। খানিক ক্ষণ বাদে উত্তম পল্টুদাকে বললেন, ‘‘তুমি যদি চাঁদার বিলে আমার ছেলের নাম গৌতম চট্টোপাধ্যায় শুদ্ধ ইংরেজিতে লিখতে পারো, আমি সঙ্গে সঙ্গে ১০১ টাকা চাঁদা দিয়ে দেব।’’ পল্টুদা লিখে উত্তমের হাতে ধরিয়ে দিলেন। বিলটা পড়েই উত্তম বলে উঠলেন, ‘এ কী, চট্টোপাধ্যায় বানান তো ভুল লিখেছ!’’ সকলের হাস্যরোলের মধ্যে আমতা আমতা করে হাত কচলাতে শুরু করে দিয়েছেন পল্টুদা। আমি আর থাকতে না পেরে সরাসরি উত্তমকুমারকে বললাম, ‘‘স্যর, পল্টুদা এ বারে স্কুল ফাইনালে ইংরেজিতে কম্পার্টমেন্টাল পেয়েছে। ইংরেজি বানান ভুল লিখলে ওকে ক্ষমা করে দেবেন।’’ আর কথা না বাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে, পল্টুদার হাতে একটা ১০০ টাকা ও এক টাকার নোট ধরিয়ে দিলেন উত্তমকুমার।

মানসকুমার রায়চৌধুরী

কলকাতা-২৬

কার ব্যর্থতা?
রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায়, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এই অনুযায়ী, প্রথম বর্ষের সব পেপারে পাশ না করে দ্বিতীয় বর্ষে যাওয়া যাবে না, বা দ্বিতীয় বর্ষের সব পেপারে পাশ না করে তৃতীয় বর্ষে যাওয়া যাবে না। ওই নির্দেশিকা ২০১৭-২০১৮ সালে রেজিস্ট্রেশন করা ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে বলবৎ রয়েছে। ইউজিসি-র নিয়মে, পাঁচ বছরের মধ্যে গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। ওই নিয়ম বলবৎ থাকলে অনেক ছাত্রছাত্রী গ্র্যাজুয়েশন করতে পারবে না। কলেজ-ছুটের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা বছরে দু’বার করে নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পাশ করানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পরিকাঠামো নেই, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যর্থতা। নিজেদের ব্যর্থতা ছাত্রছাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তন্ময় মণ্ডল
নারায়ণপুর, উত্তর ২৪ পরগনা

ক’টি আসন
‘আশায় বুক বাঁধার মরসুম’ (১৫-৮) নিবন্ধে জয়ন্ত ঘোষাল লিখেছেন ‘‘১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার পরেও কংগ্রেস ১৫০টা আসন পায়।’’ প্রকৃতপক্ষে ষষ্ঠ লোকসভা নির্বাচনে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস (ইন্দিরা) ১৫৪টি আসন পেয়েছিল, ১৫০টি নয়। তিনি আরও লিখেছেন, ‘‘২০১৪-য় বিজেপি ২৮২টা আসন পেয়েছিল ৩১ শতাংশ ভোট নিয়ে। আসনসংখ্যার এ রকম স্পষ্ট গরিষ্ঠতা ১৯৮৪ সালে ইন্দিরার মৃত্যুর পর এবং ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার পর হয়েছিল।’’ জানাই, জরুরি অবস্থার পূর্ববর্তী ৫টি সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস একাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। এমনকি ১৯৮০-র ষষ্ঠ লোকসভা নির্বাচনেও ইন্দিরা কংগ্রেস ৩৫৩টি আসনে জিতে স্পষ্ট গরিষ্ঠতা পেয়েছিল।
সজলকান্তি ঘোষ
শ্রীনিকেতন, বারুইপুর

সুভাষিত
 ‘প্রধানমন্ত্রীর সুভাষিত’ (১৮-৮) প্রবন্ধে জহর সরকার মোদী-বিরোধিতার কট্টর লাইন ও লেংথ বজায় রাখতে গিয়ে গুজরাত-দাঙ্গা প্রসঙ্গে যে মোদী-উবাচ উল্লেখ করেছেন: একটা কুকুরছানা গাড়ির চাকার তলায় চলে এলে... তাতে সঙ্গত ভাবেই মোদীকে অসংবেদনশীল প্রমাণে কোনও অসুবিধা হবে না। শ্রীসরকারের এই প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য: দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিরা দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করবেন। জহরবাবুর মতো পণ্ডিত মানুষও ভুলে গেলেন ১৯৮৪-র শিখ-দাঙ্গা প্রসঙ্গে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গাঁধীর মন্তব্য: ‘‘হোয়েন অ্যা বিগ ট্রি ফলস, দ্য আর্থ শেকস’’? তৎকালীন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার টি এন শেষন সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর করা সুভাষিতগুলি নিয়ে একটু নাড়াঘাঁটা করলে, ‘ম্যাড ডগ’ জাতীয় শব্দবন্ধ খুঁজে পাওয়া যাবে। কিংবা সনিয়া গাঁধীকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যগুলি? সেগুলি কি শালীন, শোভন ছিল? অথবা, ১৯৬২-তে চিনের ভারত আক্রমণের সময় জ্যোতি বসুর মন্তব্য “আমি তো পাহাড়ের উপর উঠে দেখতে যাইনি, কে আগে আক্রমণ করেছে, ভারত না চিন”— দেশদ্রোহীদের উৎসাহ দেয় না কি? কলকাতায় এক বাস দুর্ঘটনার পর তিনি পদত্যাগ করবেন কি না, জানতে চাওয়ায় তৎকালীন পরিবহণমন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী বলেছিলেন, ‘‘স্পুটনিক তো আর ভেঙে পড়েনি!” আসলে ক্ষমতার ভাষাই অসহিষ্ণু ও অসংবেদনশীল। যদি আমরা ক্ষমতার প্রসাদভোগী হই, তা হলে ভুল ধরতে পারি না। যদি আমরা এর বিপ্রতীপ অবস্থান নিই, তা হলে কোমর বেঁধে সমালোচনায় অংশ নিই। 
পার্থ প্রতিম চৌধুরী
কোন্নগর, হুগলি

প্রথম ইনিই
প্রথম কোন প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য স্পিকার বাদ দেন? মনে হয়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীরই। বিনয়ভূষণ দাশ চিঠিতে যে ঘটনার উল্লেখ করেছেন (‘মোদী নন, নেহরু’, ২৪-৮), সেখানে নেহরু ভুল স্বীকার করে নেন, অতঃপর বাদ দেওয়াটা procedural, যে হেতু বক্তা নিজেই তা খারিজ অর্থাৎ প্রত্যাহার করেছেন। সভার কাছে ভুল স্বীকারও করেছেন, সভা বাড়তি কোনও প্রতিকারও দাবি করেনি। বর্তমান জন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি। স্পিকার বক্তব্য অসংসদীয় বিবেচনা করে, তাঁর অধিকারবলে তা খারিজ করেছেন। এটা "expunge" করা, আক্ষরিক অর্থে। সূক্ষ্ম হলেও তফাত আছে। এটা খাঁটি খারিজ। 
দেবকুমার রায়
জামশেদপুর, ঝাড়খণ্ড

এই বন্যা
৬ অগস্ট ২০১৮ বাঁকুড়া জেলায় যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল, তাতে উত্তর অরবিন্দ নগর সরণি নম্বর ৩ ইন্দ্রপ্রস্থ প্রচণ্ড ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশির ভাগ বাড়ির একতলা জলের তলায় চলে যায়। বন্যার দীর্ঘ ১৮ দিন পরেও (এই চিঠি যখন লিখছি) পঞ্চায়েত থেকে জঞ্জাল পরিষ্কার করার বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখানো হয়নি। নোংরা যথাস্থানেই রয়েছে এবং দুর্গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। মশা এবং সাপের উপদ্রব বাড়ছে। বেশ কিছু বাড়িতে জ্বর ও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। যেখানে কেরলে বন্যায় সবাই ত্রাণ পাঠাতে ব্যস্ত, তখন নিজের জেলায় হয়ে যাওয়া বন্যার প্রতি পঞ্চায়েত ও প্রশাসন নির্বিকার কেন?
চৈতালি সেন
উত্তর অরবিন্দ নগর, বাঁকুড়া

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, ৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

ভ্রম সংশোধন
•‘রবীন্দ্রগীতি ও ভক্তিমূলক গানের মেলবন্ধন’ (পত্রিকা, পৃ ৩, ২৫-৮) শীর্ষক প্রতিবেদনে ‘জুড়াইতে চাই কোথায় জুড়াই, কোথা হতে আসি, কোথা ভেসে যাই’ গানের রচয়িতার নাম লেখা হয়েছে স্বামী বিবেকানন্দ। কিন্তু গানটি লিখেছেন গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
• ‘জীবনযুদ্ধে হারতে নারাজ তিন কন্যাকে কুর্নিশ’ (রাজ্য, পৃ ৫, ২৬-৮) প্রতিবেদনে কলকাতা পুলিশের সাউথ ট্রাফিক গার্ডের কনস্টেবল অরূপ মুখোপাধ্যায়ের পদবি ‘চক্রবর্তী’ লেখা হয়েছে। 
অনিচ্ছাকৃত এই ভুলগুলির জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।