সম্পাদক সমীপেষু: এত দ্বিধা কেন


‘জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে লড়বেন যৌনকর্মীদের মেয়েরা’ (৩১-৭) খবরটি পড়ে, যৌনকর্মীদের ছেলেমেয়েদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার তাগিদে ‘দুর্বার’-এর প্রয়াসকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু সমাজের বিভিন্ন কাজে সব সময় যদি তাদের গায়ে ‘যৌনকর্মীদের ছেলে’ বা ‘যৌনকর্মীদের মেয়ে’ এই লেবেল সেঁটে দেওয়া হয়, তা হলে যে উদ্দেশ্যে এই কর্মযজ্ঞ, সেটিই বাধা পায়। সে কারণেই প্রতিবেদনের শিরোনামে সতর্কতার বিশেষ প্রয়োজন ছিল। এমন ভাবেই খবরটি পরিবেশিত হওয়া উচিত ছিল যাতে খেলা দেখতে গিয়ে ‘পদাতিক’ দলটি যে শুধু ‘যৌনকর্মীদের মেয়ে’দের একটি দল, সেটা দর্শকদের মাথায় না থাকে। ছবিটি যে ভাবে এই প্রতিবেদনে ব্যবহার করা হয়েছে, তাতেই কাগজের দ্বিধার বিষয়টি আরও প্রকট হয়েছে। ছবিতে যদি এত দ্বিধা, তবে শিরোনামে এত দ্বিধাহীন কেন? তা ছাড়া খবরটি খেলার হলেও কেন খেলার পাতায় স্থান পেল না বোঝা গেল না। এটা সাধারণ খেলার খবর নয়, ‘যৌনকর্মীদের মেয়ে’দের একটি বিশেষ খেলা বলেই কি? যে দিন এ খবরটি শুধু ‘পদাতিক’ শিরোনামে সাধারণ খেলার পৃষ্ঠায় পূর্ণ ছবি-সহ স্থান পাবে, সে দিন বুঝব এ বিষয়ে ‘দুর্বার’-এর উদ্দেশ্যের প্রথম সোপানে উত্তরণ সম্ভব হয়েছে।

সুধেন্দু সরকার

কলকাতা-৩১

রাস্তায় গাড়ি

গাড়ি আছে অথচ গ্যারাজ নেই, তাই রাস্তাতেই গাড়ি রাখা থাকে—এমন দৃশ্য শহরের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়। এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে, রাস্তায় হাঁটাচলার বা অন্য গাড়ি চলার অসুবিধা হয়।

কুশল রায়

কলকাতা-১০৮

চড়া আলো

বাইক, অটো এবং প্রাইভেট গাড়িতে উজ্জ্বল চোখ ধাঁধানো এলইডি হেডলাইট লাগানোর বিপজ্জনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে পথচারীদেরই শুধু অসুবিধে হয় না, উল্টো দিক থেকে আসা গাড়ির চালকের চোখে ওই সাদা উজ্জ্বল আলো দৃষ্টিবিভ্রম ঘটায়।

ধীরেন্দ্র মোহন সাহা

কলকাতা-১০৭

হকার, বিশ্বকাপ

এখন কলকাতার রাস্তায় ফুটপাত ব্যবহারযোগ্য নয়। দক্ষিণ হোক বা উত্তর, সারা কলকাতার ফুটপাত জুড়ে নানাবিধ দোকানের পসরা, বিরিয়ানি থেকে অন্তর্বাস, যা চান তাই পেয়ে যাবেন। হকারের দৌরাত্ম্যে ফুটপাতের উপর দিয়ে দু’টি মানুষ পাশাপাশি ভাল করে হাঁটতেও পারেন না। দোকানের উচ্ছিষ্ট খাবারের দৌলতে ইঁদুরের দলের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে, মূষিকবাহিনী মাটির ভিতরে গর্ত করার ফলে ফুটপাতের কঙ্কাল বেরিয়ে পড়ছে। রোদবৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে ফুটপাতের দোকানিরা প্লাস্টিকের চাদর দিয়ে মাথার উপর পুরোটা ঢেকে দেন, যা শুধু দৃষ্টিকটুই না, অন্য পাশের দোকান, প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডগুলিও ঢাকা পড়ে যায়। হকারের বাড়বাড়ন্তের জন্যে গড়িয়াহাট, ধর্মতলার নিউ মার্কেট, গ্র্যান্ড হোটেল তার কৌলীন্য হারিয়েছে। হাওড়া এবং শিয়ালদহের মতো বিরাট স্টেশনের ভিতরে ও বাইরে এত হকার ভূভারতে আছে কি না সন্দেহ; বিদেশিরাও এই স্টেশনগুলি ব্যবহার করেন এবং তাঁরা কী ধারণা নিয়ে ফিরে যান তা সহজেই অনুমেয়। ফুটপাতের হকারদের পুনর্বাসন বা উচ্ছেদের ব্যাপারে সরকারের কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ল না। অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য সল্টলেকে হকার উচ্ছেদে সরকারকে তেমন কোনও বেগ পেতে হয়নি। তা হলে কি গোটা শহরের হকার বিলোপের জন্য আমাদের একটি অলিম্পিক বা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজনের অপেক্ষা করতে হবে?

দেবজিৎ ঘোষ

কলকাতা-৩৮

শৌচালয় নেই

বাঁকুড়া জেলার ওন্দা ব্লকের ওন্দায় পাশাপাশি দু’টি অফিস। বিএলএলআরও (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিস (অতিরিক্ত জেলা অবর নিবন্ধকের কার্যালয়)। প্রতি দিন শতাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু জনগণের ব্যবহার্য কোনও শৌচাগার নেই। অথচ লিঙ্ক-ফেল নামক আপদের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনও সারা দিনও থাকতে হয়।

স্বপন দেব

ওন্দা, বাঁকুড়া

এপ্রিল ফুল

গত ২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় ঘোষণা করেন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ২৫০০ টাকা পেনশন দেওয়া হবে। ১ এপ্রিল থেকে ওই পেনশন চালু হবে ওই ঘোষণায় বলা হয়। এই ব্যাপারে গত ফেব্রুয়ারি বা মার্চে কেউ আবেদন করলে বলা হয়: এখন অর্ডার বার হয়নি, তাই এখন আবেদন গৃহীত হবে না। পরে দরখাস্ত করলে বলা হচ্ছে— অন লাইনে ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে, এখন আর কিছু করা হবে না। ১ এপ্রিল থেকে সাংবাদিক পেনশন চালুর ঘোষণাটি শেষ পর্যন্ত এপ্রিল ফুলের করুণ রসিকতায় পরিণত হয়ে গেল!

সমরেন্দ্র চক্রবর্তী

বারাসত, উত্তর ২৪ পরগনা

ভারতমালা

পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত ধরে ‘ভারতমালা’ রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করেছেন বর্তমান ভারত সরকার। এই পরিকল্পনার অন্তর্গত রাস্তা আমাদের ‘বাগদহ’ ব্লকের (উ. ২৪ পরগনা) মধ্যে দিয়ে যাবে। এত দিন ধরে পরিকল্পনা ছিল যে, ওই রাস্তা তিন নম্বর রাজ্য সড়কের উপর দিয়ে যাবে। কিন্তু
কিছু জবরদখলকারীর স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য, বাগদহ ব্লকের ‘হেলেঞ্চা’তে বাইপাস তৈরির পরিকল্পনা হচ্ছে।

এই বাইপাস তৈরি হলে, প্রচুর পরিমাণে কৃষিজমি, বাস্তুভিটে, ফল ও ফুলের বাগান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে এবং কৃষকেরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন। যা রুখতে আমরা কৃষকেরা দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে চলেছি।

বিকাশ বরণ বিশ্বাস

যুগ্ম সম্পাদক, কৃষিজমি রক্ষা কমিটি

হেলেঞ্চা, উ. ২৪ পরগনা

ভাঙা গাড়ি

বারাসতের কে এন সি রোড একটি ব্যস্ত রাস্তা এবং ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা। এই রাস্তার এক পাশ (সরকারি বিদ্যালয় থেকে কলেজ পর্যন্ত) দীর্ঘ কাল দখল করে আছে অনেকগুলি ভাঙা গাড়ির কঙ্কাল, যার সংখ্যা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। স্থানীয় মানুষ এই দৃশ্যে এমনই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন, এটা দৃশ্যদূষণ বা পরিবেশ দূষণ বলে কারও মনেই হয় না। এই দৃশ্য প্রসারিত হয়ে কিশলয় হোমের বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণও দখল করেছে। এর মধ্যে কিছু গাড়ি ১৫/২০ বছর ধরে পড়ে আছে। বর্ষাকালে এগুলির মধ্যে জল জমে যেখান থেকে মশা ও রোগ ছড়াতে পারে।

হরিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

কলকাতা-১২৪

আমতা স্টেশন

আমতা স্টেশনের প্রবেশপথে লোহার বড় ফটক, সেখানে বাংলা-ইংরেজি-হিন্দিতে লেখা ছিল ‘আমতা’, বছরখানেক ধরে সব উধাও। শুধু আছে একটা লোহার কঙ্কাল। প্ল্যাটফর্মে আছে কংক্রিটের বসার আসন। কিন্তু ভেঙে গিয়ে অনেকগুলিই বিশ্রী ভাবে হেলে আছে, গড়াগড়ি খাচ্ছে। ভাঙা আসনে অনেক যাত্রী বসতে গিয়ে পড়ে যান। আবার আমতা নাকি ‘মডেল’ স্টেশন। তার এই হাল!

দীপংকর মান্না

আমতা, হাওড়া

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,  কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ই-মেলে পাঠানো হলেও।