লেবাননের রাজধানী বেরুটে ইজ়রায়েলের সাম্প্রতিক হামলার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই হামলাটি ‘হওয়া উচিত ছিল না’ যে-হেতু তাঁর মতে ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রয়াস জোরকদমে এগোচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, প্রস্তাবিত চুক্তিটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহণ পথ ‘হরমুজ় প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ প্রশস্ত এবং পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা সৃষ্টিকারী উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করতে পারে। ইরান বরাবরই বলে আসছে যে ইজ়রায়েল ও হিজ়বুল্লার মধ্যেকার সংঘাত অবসান ছাড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়। এমতাবস্থায়, ট্রাম্পের এই কঠোর সমালোচনাটি ইজ়রায়েলের আপাত অনড় অবস্থানের বিরুদ্ধে তাঁর ক্রমবর্ধমান হতাশারই প্রতিফলন, যখন ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে একটি বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছনোর চেষ্টা করছে। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার অন্যতম মিত্রদেশ ট্রাম্পের সেই উদ্যোগকেই ভেস্তে দিতে চায় বলে মনে হচ্ছে, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর আশিতম জন্মদিনে নিজেকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সমঝোতাকারী হিসেবে দেখাতে উদ্গ্রীব।
গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প যখন ইরানের উপকূলে তাঁর বিশাল নৌবহর পাঠান, তখন তিনি সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে নতিস্বীকারে বাধ্য করতে চেয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ইজ়রায়েলের সঙ্গে মিলে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি গুটিয়ে ফেলা, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমিয়ে আনা এমনকি শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনারও পরিকল্পনা করেছিলেন। অথচ যুদ্ধের তিন মাসেরও বেশি সময় পর চিত্রটি গিয়েছে পাল্টে— আমেরিকার পরিকল্পনার কোনও লক্ষ্যই এখনও পূরণ হয়নি। যুদ্ধে ইরানকে উল্লেখযোগ্য সামরিক ও অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে ঠিকই, কিন্তু হরমুজ় প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং আমেরিকাকে একটি ব্যয়বহুল ও অচলাবস্থা-পূর্ণ পরিস্থিতিতে কার্যকর ভাবে আটকে ফেলার মাধ্যমে দেশটি কৌশলগত ভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তারা প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে আমেরিকা ইজ়রায়েলের মধ্যেকার সমীকরণকেও। অনেকের মতে, বেরুটের দক্ষিণে দাহিয়ে অঞ্চলে ইজ়রায়েলের হামলাটি হিজ়বুল্লার কোনও এক ‘অর্থহীন’ হামলার সামরিক বা কৌশলগত জবাব ছিল না, বরং এটি ছিল সুপরিকল্পিত ভাবে নির্ধারিত এক কূটনৈতিক অবজ্ঞা প্রদর্শন। কারণ, সাম্প্রতিক কালে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালানোর তুলনায় যুদ্ধাবসানের বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও কার্যকলাপ তেল আভিভকে ভাবতে বাধ্য করেছে যে আগামী দিনে তেহরানকে তাদের বিবেচনার তুলনায় বেশি ছাড় দেবেন ট্রাম্প, যে-হেতু আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধাবসানের প্রচেষ্টার কোনওটিতেই ইজ়রায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে ইঙ্গিত স্পষ্ট— যুদ্ধটি এই অঞ্চলের বাস্তবতাকে আমূল বদলে দিয়েছে।
আপাতত সাময়িক শান্তির পথে হাঁটলেও যুদ্ধের অন্তর্নিহিত মতপার্থক্যগুলো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। ইরানের পারমাণবিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনও বিদ্যমান। ইজ়রায়েল ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে সমঝোতায় তাদের অন্তর্ভুক্ত না করায়, এই চুক্তি মানবে না তারা। ফলে, নতুন সংঘাতের আশঙ্কা দূর হয়ে যায়নি এখনও।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে