প্রবন্ধ ১

মুসলমানরা যখন রাজনীতির ‘ভোটব্যাঙ্ক’

মুসলমানের ‘ভাল করার’ চেষ্টা় সব রাজনৈতিক দলেরই বিরাট মাথাব্যথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক একশো ভাগ নিশ্চিত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। তবু বাংলার মুসলিম সমাজের কোনও উন্নতি হল না। ভো ট এলেই মুসলমানের ‘ভাল করার’ তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। বহু দিন ধরেই রাজ্য-রাজনীতিতে এই রেওয়াজ। ইদানীং আর ভোটের সময়টুকুতে তা আটকে নেই, বছরভর নানা ভঙ্গিতে চলছে এর মহড়া। কখনও নেত্রী চাদরে মাথা ঢেকে মুসলমানি ধরনে পর্দা করে, কখনও নামাজ বা দোয়ার ভঙ্গি করে, বক্তৃতার শেষে (ভুল জায়গায়) ‘ইনশা আল্লা’ বলে, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করে মুসলমানের ‘ভাল করে’ চলেছেন।

Advertisement

মিলন দত্ত

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৬ ০০:১২
Share:

ভো ট এলেই মুসলমানের ‘ভাল করার’ তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। বহু দিন ধরেই রাজ্য-রাজনীতিতে এই রেওয়াজ। ইদানীং আর ভোটের সময়টুকুতে তা আটকে নেই, বছরভর নানা ভঙ্গিতে চলছে এর মহড়া। কখনও নেত্রী চাদরে মাথা ঢেকে মুসলমানি ধরনে পর্দা করে, কখনও নামাজ বা দোয়ার ভঙ্গি করে, বক্তৃতার শেষে (ভুল জায়গায়) ‘ইনশা আল্লা’ বলে, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করে মুসলমানের ‘ভাল করে’ চলেছেন। এতে রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর কাছে সংখ্যালঘু মুসলমান তোষণ নেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

Advertisement

ভোটব্যাঙ্ক অভিধাটি সংবাদমাধ্যমে প্রায়শ ব্যবহার হয়ে থাকে। এমনকী মুসলমানদের অনেকেই নিজেদের কোনও না কোনও দলের ভোটব্যাঙ্ক ভেবে শ্লাঘা বোধ করেন। অনেক মুসলমান ভদ্রলোককে বলতে শুনেছি, মুসলমানদের ভোটেই এত দিন সিপিএম ক্ষমতায় ছিল। বামফ্রন্টকে সরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতায় বসানোর মূলেও নাকি মুসলমানদেরই একচেটিয়া সমর্থন। এ রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন অনেক রাজনৈতিক পণ্ডিতও। কোনও সম্প্রদায়ের গায়ে ভোটব্যাঙ্ক ছাপ লেগে যাওয়াটা যে কত বড় অপমানের সেটা বোধ হয় তাঁরা ভেবে দেখেননি।

তথ্য ভিন্ন কথা বলে। রাজ্যে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা তিনটি: মালদা, মুর্শিদাবাদ, এবং উত্তর দিনাজপুর। এ ছাড়া দক্ষিণ দিনাজপুর, বীরভূম, হাওড়া, নদিয়া এবং দুই ২৪ পরগনার অনেকগুলো গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্রে মুসলিম জনসংখ্যা এতটাই বেশি যে তারা চাইলে ভোটে নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারে। এটা সত্য যে, এ রাজ্যে অন্তত ৭০টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে মুসলিম ভোটাররা। আরও ৩০ থেকে ৩৫টি আসনে চাইলে মুসলমান ভোটাররা নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে। ইদানীং মুসলিম অধ্যুষিত কেন্দ্রে রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। ওই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মুসলিম প্রতিনিধি প্রায় ২০ শতাংশ। ২৯৪ জনের বিধানসভায় ২০০৬ সালে মুসলিম বিধায়ক ছিলেন ৪৬ জন। ২০১১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯। জনপ্রতিনিধিদের এই বর্ধিত সংখ্যা যে সরকারের মুসলিম উন্নয়নের নীতিকে প্রভাবিত করতে পেরেছে তেমনটা বলা যাচ্ছে না।

Advertisement

তবে একটা লক্ষণীয় বিষয় হল, রাজ্যে মুসলমান ভোটারের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি সত্ত্বেও মুসলিম কোনও রাজনৈতিক দল কিন্তু কিছু করে উঠতে পারেনি। ১৯৭০ সালে অজয় মুখার্জির মন্ত্রিসভায় মুসলিম লিগ ছিল। ওই সময় পশ্চিমবঙ্গে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের ছিল সাত জন বিধায়ক। গত চল্লিশ বছরে সে দলের অস্তিত্ব এ রাজ্য থেকে মুছে গেছে। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুল্লাহ্ চৌধুরী পিপলস ডেমোক্র্যাটিক কনফারেন্স অব ইন্ডিয়া নামে একটা দল তৈরি করে ভোটে লড়েছিলেন। কিছুই করে উঠতে পারেননি। হাজার হাজার মাদ্রাসা ছাত্র আর তাবড় তাবড় উলামা-মৌলবিদের নামিয়ে প্রচুর খরচা করেও এ রাজ্যের মুসলমান ভোটারদের ভোট তিনি পাননি। বিধায়ক হওয়ার জন্য তাঁকে এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি বাঁধতে হল। ওয়েলফেয়ার পার্টি অব ইন্ডিয়া এবং সোশাল ডেমোক্রাটিক পার্টি অব ইন্ডিয়া নামে আরও দুটো ‘মুসলিম’ পার্টি এ রাজ্যে ভোটে লড়ে। কিন্তু তাদের অস্তিত্ব সম্বন্ধে মুসলমানরাও সম্ভবত অবগত নয়। বছর খানেক ধরে আসাদুদ্দিন ওয়াইসির অন্ধ্রপ্রদেশ ভিত্তিক পার্টি মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার চেষ্টা করে চলেছে। এ বার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ারও কথা ছিল। সম্ভবত বিহারে বিধানসভা ভোটে সাংঘাতিক বিপর্যয়ের ফলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত। এই দলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থী জামানতের টাকাও ফেরত পান না। মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক যদি থেকেই থাকে তা হলে এটা হবে কেন? তার মানে, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান ভোটাররা নির্বাচনে মুসলিম পরিচিতির বদলে রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেন।

তবু স্বাধীনতার পর থেকে মুসলমানকে ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে দেখার অভ্যেসটা যাচ্ছে না। জামিয়তে উলামায়ে হিন্দ রাজ্যে ছোট বড় মিলিয়ে ৭৪১টি খারিজি মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ করে। সেখানকার প্রায় ৩০ হাজার ছাত্র এবং তাদের পরিবারের ভোট সিদিকুল্লাহ্ চৌধুরীর মুঠোয় আছে বলে ধরে নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই উলামা নেতাকে তৃণমূলের প্রার্থী করেছেন। সম্ভবত একই হিসেব থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদা আগুনখেকো বামপন্থী হজ সেরে ফেরার পর থেকে মুসলিমদের নেতা হয়ে ওঠার চেষ্টায় রত আলহজ্ব রেজ্জাক মোল্লাকে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড় করান। সিপিএমও মুসলমানকে ভোটব্যাঙ্কের বেশি কিছু ভাবেনি, আজ তৃণমূল সেই ভোটব্যাঙ্ক একশো ভাগ নিশ্চিত করতে যত দূর যাওয়া যায় যাচ্ছে।

অবশ্য বেশি দূর যেতে হবে না। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, রাজ্যের মুসলমানদের জন্য যা কিছু করার, সবটুকুই তিনি পাঁচ বছরে করে ফেলেছেন। কী করেছেন? কুড়ি হাজারেরও বেশি ইমামকে মাসে আড়াই হাজার টাকা ও প্রায় সমসংখ্যক মুয়াজ্জিনকে মাসে দেড় হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। যে সব এলাকায় দশ শতাংশের বেশি উর্দুভাষী মানুষের বাস সেখানে উর্দুকে দ্বিতীয় সরকারি ভাষা করা হয়েছে। এ ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে দশ হাজার খারিজি মাদ্রাসাকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শ’তিনেক মাদ্রাসা নিয়ম মেনে আবেদন করার পরে সরকারি স্বীকৃতি মিলেছে, কিন্তু শিক্ষকরা বেতন না পাওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে সেটা বুমেরাং হয়ে গিয়েছে। সংখ্যালঘু মুসলমানের ‘ভাল করার’ খতিয়ানে সাকুল্যে এই হল তৃণমূল সরকারের অবদান।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সমীক্ষা রিপোর্ট একই কথা বলছে। পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান সমাজের অবস্থাবিষয়ক স্ন্যাপ-এর রিপোর্ট বলছে, ৩৮ শতাংশ মুসলমান পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকার কম রোজগার করে। গ্রামের মুসলমানদের ৮০ শতাংশের রোজগার পাঁচ হাজার টাকার কম। ১.৫৫ শতাংশ মুসলমান পরিবারে প্রধান উপার্জনকারী স্কুল শিক্ষক। মাত্র ১.৫৪ শতাংশ সরকারি চাকরিতে আছেন। বেসরকারি সংস্থায় ১ শতাংশ। দারিদ্র এতটাই যে মুসলমান বাবা-মা ৪২.৫ শতাংশ ছেলে এবং ৪০.৪ শতাংশ মেয়েকে স্কুলেই পাঠাতে পারেন না। মিড ডে মিল, সাইকেল-জুতো বিলির বিপুল ঢক্কানিনাদের পরেও স্কুলছুটের সংখ্যাও কম নয়। ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের ১৪.৫ শতাংশ মাঝপথে স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। প্রাইমারি স্কুল শেষ করার পরে ৪৭.১ শতাংশ ছেলেমেয়ে স্কুল ছেড়ে দেয়। গত দু’বছর ধরে সমীক্ষার ফল এই রিপোর্ট। ২০০৬ সালে প্রকাশিত সাচার কমিটির রিপোর্ট থেকে রাজ্যের মুসলমানের যে অবস্থার কথা আমরা জেনেছিলাম তার থেকে প্রায় কিছুই পাল্টায়নি স্ন্যাপ-এর ২০১৬ সালের রিপোর্টে। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর তথাকথিত ভোটব্যাঙ্কের জন্য প্রায় কিছুই করেননি।

মুসলমানকে ভোটব্যাঙ্ক ভাবার মধ্যে ওই সমাজ সম্পর্কে একটা ভ্রান্ত ধারণাও কাজ করে। তাঁরা মনে করেন, মুসলমান হল মোল্লা-মৌলবি শাসিত ধর্ম নিয়ন্ত্রিত একটি সমাজ। এমনই একটি ধারণা থেকে সে মনে করে, মুসলমান মসজিদের ইমামের কথায় চলে। ভোটও দেয় ইমামের নির্দেশে। সেই ভাবনা থেকেই মমতা ইমামদের মাসোহারার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু মুসলিম সমাজকে যাঁরা একটু কাছ থেকে দেখেন তাঁরা জানবেন মসজিদের বাইরে সমাজে ইমামদের তেমন কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। কারণ তিনি প্রায়শই পরান্নভোজী এবং মুসলিমদের চাঁদায় তাঁর সংসার চলে। অথচ পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্য সরকার কয়েক জন মোল্লা-মৌলানা এবং পিরজাদাকে হাজির করে। সরকারি বা শাসক দলের মঞ্চে বাংলার মুসলমানের ‘মুখ’ হিসেবে এঁদেরই দেখা মেলে। উচ্চশিক্ষিত উদার মুসলমানের কোনও ঠাঁই হয় না সেখানে। বাম আমলেও এর প্রায় কোনও ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।

মুসলমানকে ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে দেগে দেওয়ার একটা বড় কারণ সম্ভবত তাদের ইমামের পিছনে কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া কিংবা ফি শুক্রবার জুম্মার নামাজে কিংবা ইদের নামাজের বিপুল সুশৃঙ্খল জমায়েত। তা ছাড়া কলকাতা এবং বিভিন্ন শহরে ও গ্রামে মুসলমানদের গেটো-বদ্ধ জীবনযাপনও হিন্দুদের মধ্যে এই ধারণার জন্ম দিয়ে থাকতে পারে। এই ভ্রান্ত ধারণার জন্ম আসলে অজ্ঞতা থেকে। এই ভ্রান্তি দূর করার জন্য মুসলমান সমাজকে ভিতর থেকে জানার জন্য যেটুকু চেষ্টা দরকার তাও করতে রাজি নয় তারা। প্রতিবেশী হিন্দুরা ধরেই নিয়েছে, মুসলমান একটা ‘মোনোলিথিক’ সমাজ। সেখানে ভিন্ন স্বরের অস্তিত্ব নেই। থাকলেও তা উচ্চারণ করা নিষেধ।

অথচ মুসলমান সমাজের মধ্যেই রয়েছে বিস্তর ভাগাভাগি, বহু খণ্ড সম্প্রদায়, নানা মত। হানাফি, মালেকি, শাফেয়ি আর হান্বলি— মুসলমানদের (সুন্নি) যে চারটে মজহাব (গোষ্ঠী) আছে তাদের মধ্যে স্পষ্ট মতবিরোধ আছে। এ ছাড়া আছে দেওবন্দি, বেরেলভি। আছে আহলে হাদিস, ফরাজিয়া, ওহাবিয়া ইত্যাদি। নদিয়া, মুর্শিদাবাদের গ্রামে আবার খুব বিরোধ শরিয়তে আর মারিফতে। কোরান-হাদিস মেনে নামাজ-রোজা করে যাঁরা ধর্মাচরণ করেন তাঁরা শরিয়তপন্থী। আর পির উপাসনায় বিশ্বাসী নামাজ-রোজা অস্বীকার করে ফকিরি পন্থার যাঁরা অনুশীলন করেন, তাঁদের পথ মারফতি। আছে আশরাফ আতরাফের শ্রেণি বিভাজন। ইসলামের সাম্যবাণী কিন্তু বাংলার গ্রামে মুসলমানের উচ্চবর্ণ-নিম্নবর্ণের ভেদ আজও ঘোচাতে পারেনি। আমার পরিচিত হুগলির গ্রামের এক ভদ্রলোক ওবিসি সংরক্ষণ নেননি এই আশঙ্কায় যে, তাঁর শিক্ষিত সুন্দরী মেয়ের ভাল পাত্র মিলবে না। উনিশ শতকের ফরাজি আন্দোলন থেকে আজকের তবলিক জামাত বাংলার মুসলমানকে একটি অভিন্ন কঠোর ইসলামি সমাজের রূপ দিতে চেয়েছে, তবু তার পরেও মুসলমানের একটা বিশাল অংশ ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইসলামি জলসার থেকে আধুনিক গানের জলসায় তাঁরা বেশি আগ্রহী।

বাঙালি মুসলমান সমাজের পক্ষে অভিন্ন ভোটব্যাঙ্ক হওয়া সহজ নয়। তেমন ঘটতে দেখাও যাচ্ছে না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement