ছবি: সংগৃহীত।
পরীক্ষার আর ২৪ ঘণ্টাও বাকি নেই। সম্প্রতি নিট পুনঃপরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড হাতে পেয়েছিলেন নাগপুরের ১৮ বছর বয়সি পরীক্ষার্থী আবদুল্লা মহম্মদ তালিব। তার পরেই ঘুম উড়েছিল তাঁর। বাড়ি মহারাষ্ট্রের নাগপুরে। কিন্তু পরীক্ষা দেওয়ার জন্য নাকি যেতে হবে আবু ধাবি! এমনটাই লেখা ছিল অ্যাডমিট কার্ডে। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-কে (এনটিএ) এই বিষয়ে অভিযোগ জানানো হলেও শনিবার সকাল পর্যন্ত নতুন অ্যাডমিট কার্ড হাতে পাননি বলে অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যম জুড়ে এনটিএ-এর গাফিলতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। শেষপর্যন্ত মুখ খুলেছে এনটিএ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আবদুল্লাকেই দুষেছে পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা এনটিএ।
ডিজিটাল রেকর্ড পেশ করে এনটিএ-এর দাবি, এই ভুলটি পরীক্ষার্থীর নিজের তরফ থেকেই হয়েছিল। যদিও শেষমুহূর্তে মানবিকতার খাতিরে সেই কেন্দ্র আবার নাগপুরে বদলে দিয়েছে সংস্থা। শনিবার এনটিএ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, পরীক্ষা পিছিয়ে ২১ জুন করার পর পড়ুয়াদের সুবিধার্থে পরীক্ষাকেন্দ্র বদলানোর জন্য ‘কারেকশন উইন্ডো’ খোলা হয়েছিল। দেশ জুড়ে প্রায় ৩.২ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই সুযোগ ব্যবহার করেন এবং ৯৯.৫% পরীক্ষার্থীকে তাঁদের পছন্দের শহরই দেওয়া হয়েছে বলে দাবি সংস্থার। নাগপুরের ওই পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এনটিএ-র ওয়েব-অ্যাক্টিভিটি রেকর্ড বলছে, পরীক্ষার্থীর নিজস্ব রেজিস্টার্ড লগইন এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই কেন্দ্র পরিবর্তন করে ‘আবু ধাবি’ করা হয়েছিল। এমনকি একই ইউজ়ার আইডি থেকে তিন বার অ্যাকাউন্টটি খোলা হয় বলে দাবি — এক বার কেন্দ্র বদলানোর জন্য এবং দু’বার তা চেক করার জন্য।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আবেদনের সময়ে পছন্দের পরীক্ষাকেন্দ্র হিসাবে আবদুল্লা নাগপুর ছাড়াও ওয়ার্ধা এবং ভান্দারা শহরের নাম জমা দিয়েছিলেন। তার পরেও কী ভাবে তাঁকে আবু ধাবির পরীক্ষাকেন্দ্র দেওয়া হল, বুঝতে পারছেন না তাঁর অভিভাবকও। ওই পরীক্ষার্থীর বাবা মহম্মদ তালিব জানিয়েছেন, ছেলের পাসপোর্ট নেই। এত দূরের কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার মতো যথেষ্ট সময়ও হাতে নেই। তাঁর ছেলের আদৌ পরীক্ষা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তাঁরা এনটিএ-র হেল্পলাইন নম্বরে অ্যাডমিট কার্ডের গরমিল নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার তরফে অবশ্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দ্রুত ত্রুটি সংশোধন করে নতুন অ্যাডমিট কার্ড পাঠানো হবে। এনটিএ-র তরফে জানানো হয়, পরীক্ষার্থীর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা হয় এবং পরীক্ষাকেন্দ্রটি আবু ধাবি থেকে বদলে পুনরায় নাগপুর করে দেওয়া হয়েছে। কোনও পরীক্ষার্থী যেন সামান্য প্রশাসনিক ভুলের বা সন্দেহের কারণে পরীক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটাই তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করে এনটিএ।