ছবি: সংগৃহীত।
সিভিল সার্ভিসেস-এর জন্য হাজার হাজার আবেদনপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে যোগ্যতার মানদণ্ড পূর্ণ হয়নি এমন আবেদনের সংখ্যা প্রায় ৬০০। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগে সেই সব আবেদন খারিজ করেছে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি)। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এর মধ্যে অনেকেই একাধিক বার আবেদন করেছেন। আবার অনেকে বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পরে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।
জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমকে একটি সাক্ষাৎকারে কমিশনের চেয়ারম্যান অজয় কুমার জানিয়েছেন, কমিশনে নিজস্ব তথ্যের সঙ্গে আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখতে বিশেষ ভাবে যাচাইকরণ করা হয়েছে। প্রার্থীরা যাতে সকলেই সমান ভাবে সুযোগ পান, সেই লক্ষ্যপূরণের কথা মাথায় রেখে প্রযুক্তিকে সচেতন ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২৬-এর আগে তথ্য যাচাইকরণের কাজটি ইন্টারভিউয়ের সময় সম্পূর্ণ করা হত। তাতে সমস্যা হওয়ায় চলতি বছর থেকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগেই নথি যাচাই করে নেওয়া হচ্ছে। কৃত্রিম মেধার সাহায্যে তৈরি একটি বিশেষ সফট্অয়্যারের মাধ্যমে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যাতে একই ব্যক্তি চাকরি পাওয়ার পরও কিংবা বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর নতুন করে পরীক্ষা না দিতে পারেন।
ইউপিএসসি সূত্রে খবর, আবেদন খতিয়ে দেখে জানা গিয়েছে, এমন ৪৩ হাজার ৪৯৭টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অসংরক্ষিত শ্রেণিভুক্ত প্রার্থীরা দ্বিতীয় বার সংরক্ষিত আসনের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। সেই সব প্রার্থীদের কাছে বৈধ শংসাপত্র চেয়ে ই-মেল পাঠিয়েছে কমিশন। বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পেরিয়ে গেছে, এমন ১৩৩টি আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪-এ প্রশিক্ষণরত আইএএস অফিসার পূজা খেড়করের চাকরি খারিজ করেছিল কমিশন। অভিযোগ, ওই আধিকারিক ভুয়ো জাতি শংসাপত্র বানিয়ে একাধিকবার সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ২০২৪-এর পরীক্ষায় বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাইকরণের সময় অভিযুক্তের কারসাজি ধরা পড়ে।
চলতি বছরের প্রিলিমিনারি দিয়েছিলেন ৫ লক্ষ ৪৯ হাজারেরও বেশি প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে মোট ১৩ হাজার ৩৪৩ জন ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। উত্তীর্ণদের ১৯ জুন থেকে ২৮ জুনের মধ্যে নিজের তথ্য যাচাই করে সংশোধন করে নিতে হবে। সংশোধনের আবেদন জানাতে হলে আলাদা করে ২০০ টাকা ফি হিসাবে জমা দিতে হবে প্রার্থীদের।